২০০৪ ও ২০১৬ সালের প্রজ্ঞাপন বাস্তবায়নের দাবি, গ্রামীণ ব্যাংক ঘেরাও কর্মসূচির ঘোষণা
গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সরকার ঘোষিত ২০০৪ ও ২০১৬ সালের প্রজ্ঞাপন বাস্তবায়নসহ ন্যায্য পাওনা আদায়ের দাবিতে রংপুরে বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশ থেকে দ্রুত এসব প্রজ্ঞাপন বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে দাবি আদায়ে গ্রামীণ ব্যাংক ঘেরাও কর্মসূচি এবং পাওনা আদায়ের আবেদন ফরম সংগ্রহের বিষয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট ২০২৬) দুপুর ২টায় রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি হলরুমে গ্রামীণ ব্যাংক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে এ বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি মো. মাহবুবুল আলম। প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রাজু আহমেদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. মমিনুল ইসলাম সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক উজ্জল কুমার মজুমদার এবং দপ্তর সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম প্রধান। এছাড়া বিভিন্ন বিভাগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সমাবেশে অংশ নেন।
রংপুর বিভাগীয় সভাপতি মো. মোজাহারুল ইসলাম সরকারের সভাপতিত্বে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম সিরাজুল ইসলাম। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মো. আবু কালাম আজাদ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে প্রতিষ্ঠানটিকে গড়ে তুলেছেন। পায়ে হেঁটে, সাইকেল চালিয়ে কিংবা নৌকায় করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে অসহায় ও দরিদ্র মানুষকে সংগঠিত করে সমিতি গঠন করেছেন তারা। তাদের শ্রম ও ত্যাগের মাধ্যমে গ্রামীণ ব্যাংক দেশ-বিদেশে পরিচিতি লাভ করেছে।
বক্তারা আরও বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংক যৌথভাবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার অর্জন করলেও প্রতিষ্ঠানটির অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি বড় অংশ বর্তমানে আর্থিক সংকট ও নানা সমস্যায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বয়স, আর্থিক অসংগতি ও সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় তৎকালীন সরকার ২০০৪ সালে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। ওই প্রজ্ঞাপনে শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ও চিকিৎসা ভাতা দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এ সুবিধা বাস্তবায়ন হলেও গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখনও সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত বলে দাবি করেন তারা।
তারা বলেন, ২০১৬ সালে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা আরেকটি প্রজ্ঞাপনে শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবসরের পর ১৫ বছর অতিবাহিত হলে, তিনি জীবিত থাকলে, পুনরায় পেনশন পুনঃস্থাপনের বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তু অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ সুবিধা পেলেও গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, গ্রামীণ ব্যাংকে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরির নির্ধারিত মেয়াদ শেষ করার আগেই বিভিন্ন কৌশলে চাকরি থেকে বাদ পড়েছেন। অনেককে অল্প কিছু অর্থের বিনিময়ে বাধ্যতামূলকভাবে শতভাগ পেনশন সমর্পণের মাধ্যমে অবসরে যেতে হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, “আজ আমরা বৃদ্ধ বয়সে জীবনের তাগিদে আন্দোলনে এসেছি। আমরা বেঁচে থাকার প্রত্যাশা নিয়ে সরকার কর্তৃক ঘোষিত ২০০৪ ও ২০১৬ সালের প্রজ্ঞাপন বাস্তবায়নের জোর দাবি জানাচ্ছি।”
তারা আরও বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে বলে তারা মনে করেন। এসব অধিকার ফিরে পেতে দেশবাসী ও সংশ্লিষ্ট সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন তারা।
সমাবেশ থেকে বক্তারা ঐক্য, কর্ম ও শৃঙ্খলার মাধ্যমে দাবি আদায়ের আন্দোলনকে আরও জোরদার করার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত ২০০৪ ও ২০১৬ সালের প্রজ্ঞাপন বাস্তবায়ন, পাওনা পরিশোধ এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুশিয়ারী করেন কর্মকর্তা ও কর্মচারী গন।
Leave a Reply