1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
ব্রাজিল, সাবধান! ২৫ ছাত্রের মেধায় তৈরি জাপানের গোপন অস্ত্র - দৈনিক আমার সময়

ব্রাজিল, সাবধান! ২৫ ছাত্রের মেধায় তৈরি জাপানের গোপন অস্ত্র

মোঃ নজরুল ইসলাম
    প্রকাশিত : রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬

ফুটবল একসময় শুধু পায়ের খেলা ছিল। এখন এটি মস্তিষ্ক, তথ্য, প্রযুক্তি ও গবেষণারও খেলা। এই পরিবর্তনের সবচেয়ে উজ্জ্বল উদাহরণ জাপান। প্রতিপক্ষের দুর্বলতা খুঁজে বের করতে দেশটির জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ জন শিক্ষার্থী ও গবেষক। ভিডিও বিশ্লেষণ, পরিসংখ্যান, খেলোয়াড়দের গতিবিধি, প্রেসিং, পাসিং নেটওয়ার্ক, সেট পিস এবং কৌশলগত তথ্য বিশ্লেষণ করে তারা কোচিং স্টাফকে এমন সব তথ্য দেন, যা ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে।

জাপানের এই বিজ্ঞানভিত্তিক ফুটবল দর্শনের ফল গত কয়েক বছর ধরেই স্পষ্ট। এশিয়ার গণ্ডি পেরিয়ে তারা ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার পরাশক্তিদের বিপক্ষেও ধারাবাহিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। বিশ্বকাপে জার্মানি ও স্পেনের মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে তারা ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছে, জাপানকে আর আন্ডারডগ ভাবার সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচেও তারা জার্মানিকে বড় ব্যবধানে হারিয়েছে, তুরস্ককে পরাজিত করেছে এবং ইউরোপের শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছে।

চলমান বিশ্বকাপেও জাপান গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত ছন্দ দেখিয়েছে। নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ২, ২ গোলে ড্র, তিউনিসিয়াকে ৪, ০ গোলে উড়িয়ে দেওয়া এবং সুইডেনের বিপক্ষে লড়াকু ড্র তাদের সামর্থ্যের প্রমাণ। এখন শেষ ষোলোর লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। কাগজে কলমে ব্রাজিল এগিয়ে থাকলেও, তথ্য ও কৌশলগত প্রস্তুতির দিক থেকে জাপানকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।

জাপানের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো দ্বিতীয়ার্ধে আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠা। প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষের কৌশল যাচাই করে, বিরতির সময় বিশ্লেষকদের তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পনা বদলে তারা অনেক ম্যাচেই দ্বিতীয়ার্ধে দারুণ ফুটবল উপহার দিয়েছে। তাদের দ্রুত পাস, সংগঠিত প্রেসিং এবং ক্লান্ত প্রতিপক্ষের দুর্বল জায়গায় আঘাত করার ক্ষমতা বারবার ফল এনে দিয়েছে। আধুনিক ফুটবলে এটি কেবল শারীরিক সক্ষমতার নয়, তাৎক্ষণিক তথ্য বিশ্লেষণ ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণেরও সাফল্য।

বাংলাদেশের জন্য এখানেই রয়েছে বড় শিক্ষা। একটি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষক, তথ্য বিশ্লেষক এবং ক্রীড়া ফেডারেশন যদি একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে, তবে সীমিত সম্পদ নিয়েও বিশ্বমানের প্রতিযোগিতা সম্ভব। জাপান দেখিয়ে দিয়েছে, মাঠে এগারো জন খেলোয়াড় থাকলেও, তাদের পেছনে শত মানুষের গবেষণা, পরিকল্পনা ও মেধাই অনেক সময় প্রকৃত পার্থক্য গড়ে দেয়।

আগামী ম্যাচে ব্রাজিলের সামনে তাই শুধু এগারো জন জাপানি ফুটবলার নয়, থাকবে তথ্য, প্রযুক্তি ও গবেষণার শক্তিতে তৈরি একটি সুসংগঠিত ফুটবল দর্শন। আর আধুনিক ফুটবলে, অনেক সময় সেই অদৃশ্য শক্তিই সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com