রাজধানীর ডেমরায় হাজী মোয়াজ্জেম স্কুলের পেছনে একটি ছয় তলা ভবন হেলে পাশের ভবনে পড়েছে। ওই হেলে পড়া ভবনটি ধসে পড়ার আশঙ্কায় ভবনের আশেপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যদের পাশাপাশি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) টিম উপস্থিত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর আগে গত রোববার ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টারে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসে, স্থানীয় প্রশাসন ও সিটি করপোরেশন ও রাউজকের সমন্বয়ে ভবনের বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ বিষয়ে গতকাল সোমবার দুপুরে ডেমরা থানার ওসি মাহমুদুর রহমান বলেন, ইতোমধ্যে হেলে পড়া ভবনটির সব বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভবনের সব ধরনের লাইন কেটে ফেলা হয়েছে, এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস সহায়তা করছে। ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সেখানে রাজউকের একটি টিমও বর্তমানে অবস্থান করছে। জানা যায়, হেলে পড়া ভবনটির সাতটি ফ্ল্যাটে প্রায় ৩০ জন মানুষের বাস। যে কোনো সময় ভবনটি ধসে পড়তে পারে, এই আশঙ্কায় গত রোববার দুপুরে এটি খালি করে সিলগালা করার নির্দেশ দেয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) কর্তৃপক্ষ। এছাড়া গত রোববার দুপুরে পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে ডেমরার হাজীনগর এলাকার বাইতুল কাওছার জামে মসজিদসংলগ্ন হেলে পড়া ভবনটি পরিদর্শনে যান ডিএসসিসির জোন-৮ এর নির্বাহী প্রকৌশলী খলিলুর রহমান। পরিদর্শন শেষে ভবনটি খালি করার নির্দেশ দেন তিনি। এসময় খলিলুর রহমান বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় ম্যানশন ভবন নামের বাড়িটির সব বাসিন্দাকে এটি খালি করার নোটিশ দেওয়া হয়। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আগেই আমরা ভবনটি সিলগালা করে দিয়েছি। ভবনের মালিক যদি স্বীকৃত ইঞ্জিনিয়ারিং কনসালট্যান্টের মাধ্যমে ফিটনেস সার্টিফিকেট জমা দেন, তবে ভবনের ভবিষ্যৎ ব্যবহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। না হলে সেটিকে ব্যবহারের অযোগ্য হিসেবে ঘোষণা করা হবে। স্থানীয়রা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে হেলে পড়া ভবনটির অবস্থান মধ্য হাজীনগরের প্রবেশমুখে হওয়ায় সড়কে চলাফেরা করা সাধারণ মানুষও ঝুঁকিতে আছে। যে ভবনের ওপর এটি হেলে পড়েছে, সেটির বাসিন্দারাও আতঙ্কে আছেন। বাড়ির মালিক শহিদ মিয়া বলেন, আমি বিদেশে থেকে সারা জীবন কষ্ট করে এই ভবন তৈরি করেছি। এটাই আমার শেষ সম্বল। কোনোধরনের নির্মাণ ত্রæটি ছিল না ভবন নির্মাণে। এখন আমি কী করবো বুঝতে পারছি না। ভবনটি ২০০০ সালের দিকে তৎকালীন সারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের অনুমতি নিয়েই নির্মিত হয়।
Leave a Reply