রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার ধারাবাহিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে উপজেলার শহর ও গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও আধুনিক করতে নিরলসভাবে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় সড়ক, সেতু, কালভার্ট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বাজার অবকাঠামো এবং গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে কাউনিয়া উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়। চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফলে ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক সংস্কার, নতুন রাস্তা নির্মাণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, হাট-বাজার আধুনিকায়ন এবং দুর্যোগ সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বিশেষ করে কৃষিপণ্য দ্রুত পরিবহন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে সহজ যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং জনদুর্ভোগ কমাতে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
কাউনিয়া উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং কৃষি খাতকে আরও গতিশীল করতে কাজ করছে এলজিইডি। গ্রামীণ সড়কের উন্নয়ন ও সংস্কারের ফলে কৃষকরা সহজেই উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতে পারছেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষ নিরাপদ ও দ্রুত চলাচলের সুযোগ পাচ্ছেন।
এছাড়াও বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে প্রয়োজনীয় কালভার্ট ও ড্রেন নির্মাণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও অবকাঠামো দ্রুত সংস্কারের মাধ্যমে জনগণের ভোগান্তি কমানোর উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এলজিইডি মূলত গ্রামীণ ও নগর ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক নির্মাণ, সেতু-কালভার্ট নির্মাণ, ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন উন্নয়ন, ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন, খাল খনন, সেচ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে কারিগরি সহায়তা প্রদান।
এছাড়াও এলসিএস (Labor Contracting Society) কার্যক্রমের মাধ্যমে দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতেও এ কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এলজিইডির আওতায় বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ এবং টেকসই গ্রামীণ উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলজিইডির বাস্তবায়িত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফলে উপজেলার অনেক এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিখাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। অনেক প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ এখন সহজেই উপজেলা সদর ও জেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন।
উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় আরও জানায়, সরকারের ঘোষিত উন্নত বিনির্মানে
গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নকে আরও গতিশীল করতে ভবিষ্যতেও উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। আধুনিক, টেকসই ও জনবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে কাউনিয়াকে একটি উন্নত ও যোগাযোগসমৃদ্ধ উপজেলায় রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে এলজিইডি।
Leave a Reply