গাজীপুরের শ্রীপুরে কৃষক অপহরণ মামলার আসামীকে ছেড়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে।
সোমবার (১৪ জুলাই) সকালের দিকে বিষয়টি প্রকাশ পায়। এরআগে, রবিবার (১৩ জুলাই) আসামীদের পক্ষে তাদের স্বজন শ্রীপুর বাজারের ফুটপাথ ব্যবসায়ী আকতার হোসেন গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে টাকা নেওয়ার বিষয়টি অবগত করেন। এ সম্পর্কিত একটি ভিডিও সংরক্ষিত রয়েছে।
থানা ও ভুক্তভোগী সুত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার জামিরদিয়া এলাকার কৃষক ফরহাদ আহাম্মেদকে (২৫) অপহরণ ও মারধরের করে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টার অভিযোগ উঠে কয়েক যুবকের বিরুদ্ধে। ওই কৃষক গত ৫ জুন রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঈদের বাজার করার উদ্দেশ্যে শ্রীপুর উপজেলার জৈনা বাজারে আসেন। কৃষকের পূর্বপরিচিত নাহিদ তাকে তার বাসায় যাওয়ার অনুরোধ করে। পরে তার সঙ্গে গেলে পূর্ব থেকে উঁৎ পেতে থাকা ৯ জনসহ তাদের ৫ জন সহযোগী তাকে জৈনা বাজারের বাউল মার্কেটের নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে শারীরিক নির্যাতনের পর মুঠোফোনে তার পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এসময় তারা কৃষকের সঙ্গে থাকা ছাগল বিক্রির নগদ ৩০ হাজার টাকা এবং একটি মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় কৃষক শ্রীপুর থানায় ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৫ জনকে আসামী করে শ্রীপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় পুলিশ আসামী নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার ইচুলিয়া গ্রামের মামুন মিয়া (১৮), কাজলা গ্রামের আনিছ মিয়া (২১), দুর্গাপুর উপজেলার পশ্চিম বিলাশপুর গ্রামের সাগর মিয়া (১৯) এবং ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার সারোয়ার মিয়াকে (১৮) গ্রেফতার করে। তারা শ্রীপুরের জৈনা বাজার এলাকায় ভাড়া থেকে বসবাস করে।
ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন বলেন,’ ভুক্তভোগী কালাম গাজী আমার পরিচিত বিধায় আমাকে বললে আমিই তাকে নিয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সাথে আমি যোগাযোগ করি। সেসময় দারোগা খরচপাতি চায়। মামলার ধারা সহজ করবে এবং দুএকদিনের মধ্যেই ছাড়া পাবে এই বলে। এরপর দারোগা মাহবুবকে একমুঠে আমার হাত দিয়ে ১৫ হাজার টাকা দেই। এরআগে ভেঙে ভেঙে আরও ৭ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে ২ হাজার টাকা খরচ বাদ দিলেও ২০ হাজার টাকা তো দিলাম। প্রথমে বলেছিল ছাড়বে এরপরও আসামীদেরকে অদালতে পাঠায়। পরে বললো ১ মাসের মধ্যেই জামিন পাবে।কিন্তু পাচ্ছে না।’
টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহবুবুর রহমান মুঠোফোনে বলেন,’ এক মাস আগের ঘটনা এতোদিন পর কেনো সামনে আসলো। আর সেসময় অপহরণকারীদের সাথে ভুক্তভোগীর টাকা লেনদেনের কথা শুনেছি। কিন্তু আমরা নেইনি। আর মামলা হলে আসামী ছাড়ব কেন? যারা আসামী তার অনেক কিছুই বলে। আপনাদের সাংবাদিক মহলের সাথে তো আমি চলাফেরা করি। আমার নামে মিথ্যা বলা হয়েছে।’
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহম্মদ আব্দুল বারিক বলেন,’ গতকাল ঘটনা শুনার সঙ্গে সঙ্গে আমি এসআই মাহবুবকে ডেকেছিলাম। তিনি টাকা লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করেছে। আসলে, আসামী পক্ষের লোকজন অনেক সময় অনেক কথা বলে। তারপরও ভুক্তভোগীদের পক্ষে কেউ অভিযোগ দিলে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আমি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত সাপেক্ষে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সুপারিশ করবো। কারন, অপরাধ করে আমার কাছে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার প্রয়োজনে গাজীপুরের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী যাবের সাদেকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মিটিংয়ে রয়েছেন বলে জানান।
আলফাজ সরকার আকাশ
শ্রীপুর-গাজীপুর
Leave a Reply