1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
কঠিন সিদ্ধান্তে দেশসেরা ওপেনার - দৈনিক আমার সময়

কঠিন সিদ্ধান্তে দেশসেরা ওপেনার

স্পোর্টস ডেস্ক
    প্রকাশিত : শুক্রবার, ৪ আগস্ট, ২০২৩

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের গুলশানের বাসভবনে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেছিলেন তামিম ইকবাল। বৈঠক শেষে কঠিন সিদ্ধান্তই নিয়েছেন দেশসেরা ওপেনার। অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। মূলত দলের স্বার্থের কথা চিন্তা করেই তামিম এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতের এই বৈঠক নিয়ে বৃহস্পতিবার থেকেই আলোচনা ছিল। বৈঠকে তামিম নিজের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। তার পর সংবাদ সম্মেলনে সেসবের বিস্তারিত তুলে ধরেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান। সেখানে জানান, তামিমের ওয়ানডে অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়ার কথা। অধিনায়কত্ব ছাড়লেও খেলোয়াড় হিসেবে খেলা চালিয়ে যাবেন তামিম। বিশ্বকাপে পুরো ফিট তামিমকে পাওয়ার আশাবাদের কথাও জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি। বৈঠকে ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান জালাল ইউনুসও উপস্থিত ছিলেন। বিসিবির এই পরিচালক আবার জানিয়েছেন, তামিম খেলবেন না এশিয়া কাপেও। বোর্ড সভাপতি যখন ঘোষণা দিচ্ছিলেন, তখন তার পাশে তামিমও ছিলেন। বৃহস্পতিবার সারা দিন তামিমণ্ডপাপনের বৈঠক নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। কিন্তু বৈঠক নিয়ে বিসিবি ও তামিম দুই পক্ষই কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করেছে। শেষ পর্যন্ত রাত সাড়ে আটটার দিকে বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের বাসায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অংশ নিতে তামিম রাত ৭টা ৪৫ মিনিটে বোর্ড সভাপতির বাসভবনে আসেন। ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস আসেন আরও কিছুক্ষণ পর। অন্য দিকে বোর্ড প্রধান নাজমুল হাসান বাইরে থেকে নিজের বাসায় ঢোকেন সাড়ে ৮টায়। এরপরই শুরু হয় বৈঠক। রুদ্ধদ্বার এই আলোচনা শেষে রাত সাড়ে নয়টার কিছু পরে তামিমের অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণা আসে। তামিম ৬ জুলাই নাটকীয়ভাবে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন। আফগানিস্তানের সঙ্গে সিরিজ চলাকালে চট্টগ্রামের একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে আচমকা সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন তিনি। তাতে হতভম্ব হয়ে পড়ে দেশের ক্রিকেট মহল। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি) তার সিদ্ধান্তে ছিল বিস্মিত। পরে গণভবনে তামিমকে ডাকেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৭ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপের পর অবসর ভেঙে মাঠে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। ফলে নতুন করে অধিনায়কত্ব ছাড়ার এই সিদ্ধান্তের কথা তামিম প্রধানমন্ত্রীকে ফোনেও জানিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে বামহাতি ওপেনার জানিয়েছেন, দলের কথা চিন্তা করেই মূলত অধিনায়কত্ব ছাড়া, ‘ইনজুরি একটা ইস্যু। আমি ইনজেকশন দিয়ে এসেছি। কিন্তু ইনজেকশনটাও হিট অ্যান্ড মিসের মতো। আমার কাছে মনে হয়, দলের জন্য… সবসময়ই একটা কথা বলে এসেছি, সবকিছুর ওপরে সবসময় দলের কথাই ভাবি। আমার মনে হয়, দলের কথা চিন্তা করে আমার সরে যাওয়াটাই হবে সবচেয়ে ভালো। প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে অবসর ভেঙে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তামিম। সেই প্রধানমন্ত্রীকে ফোনে বোঝাতে হয়েছে কেন তিনি নেতৃত্ব ছাড়ছেন, ‘আমরা একসঙ্গে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও আজ কথা বলেছি। আমার ম্যাসেজটা উনাকে দিয়েছি। উনিও বুঝেছেন এবং যা বলার আমাকে সুন্দর করে বুঝিয়ে বলেছেন।’ সব মিলিয়ে ৩৭টি ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তামিম। এর মধ্যে ২১টিতে তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে। দুই ম্যাচে ফলাফল হয়নি, বাকি ১৪টি ম্যাচে হেরেছে। সাফল্যের শতকরা হার ৬০ শতাংশ। তামিমের বদলে নতুন নেতৃত্ব কাকে দেওয়া হবে এমন প্রশ্নে বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান বলেছেন, ‘সবার সঙ্গে আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ তামিম শুধু এশিয়া কাপে না খেললে সহ-অধিনায়ক লিটন দাসই অধিনায়ক হতেন। কিন্তু তামিম নেতৃত্বই যেহেতু ছেড়ে দিয়েছেন, সেক্ষেত্রে বিসিবিকে নতুন করে ভাবতে হবে। হয়তো এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপ দুটো ইভেন্টেই নতুন নেতৃত্বে খেলবে বাংলাদেশ দল।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com