সাভারে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পারিবারিক কলহের জেরে খুনের পর সিলিং ফ্যানে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ নিহতের স্বজনদের। নিহতের নাম নুরজাহান বেগম (৩৫)। সে সাভার উপজেলার বিরুলিয়া ইউনিয়নের ভবানিপুরের মোঃ নুর ইসলামের মেয়ে।
২৫ জুলাই (মঙ্গলবার) সকালে নিহতের ছেলে ফয়সাল (১৪) তালাবদ্ধ ঘর থেকে তার মায়ের গলায় থাকা ওড়না কেটে ফেলে। বিরুলিয়া ইউনিয়নের কমলাপুর-রাজারবাগ গ্রামের হযরত আলীর বাসায় ভাড়ায় থাকতেন নুরজাহান-হানিফ দম্পতি। এ দম্পতির ঘরে ফয়সাল (১৪), ফাহমিদা (১১) ও অনিক (৭) নামে দুই ছেলে এ এক মেয়েকে নিয়ে বসবাস করতেন। এ ভাড়া বাসাতেই ঘটনাটি ঘটে। খুনের অভিযোগের তীর স্বামী হানিফের (৪৫) দিকে। ঘটনার পর থেকে হানিফ পলাতক রয়েছে। হানিফের বাসা আদাবর এলাকায় বলে জানান এলাকাবাসী। হানিফ আদাবরের আব্দুস সাত্তারের ছেলে বলে জানা গেছে। অভিযুক্ত হানিফ আদাবরের হাসু-কাসুর চাচা বলে জানান নিহতের স্বজনরা।
সকাল সাড়ে দশটার দিকে ঘটনাস্থলে সাভার মডেল থানার ভবানিপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই মোকলেছুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স সহ পৌঁছে লাশ হেফাজতে নেন। সুষ্ঠ তদন্ত ও ন্যায় বিচারের দাবি জানান নিহত নুরজাহানের স্বজনরা।
প্রতিবেশীরা জানান, হানিফ পেশায় একজন পরিবহনের চালক। মাঝেমধ্যে রাজমিস্ত্রী ও রংমিস্ত্রির কাজও করতেন। তবে, প্রায় সময়ই স্ত্রী নুরজাহানকে শারীরিক ভাবে নির্যাতন করে মেরে ফেলার হুমকি দিতেন হানিফ।
নিহত নুরজাহানের ফুফাতো ভাই আল-আমীন দৈনিক আমার সময়-কে বলেন, আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। কোন অপরাধী যেন অপরাধ করে পার পেয়ে আবার নতুন করে কোন অপরাধ করার সুযোগ না পায়। তিনি সুষ্ঠ বিচারের দাবি জানান।
পুলিশ নুরজাহানের লাশ উদ্ধার করে পোস্টমর্টেমের জন্য প্রেরণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ভবানিপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মোকলেছুর রহমান জানান, আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
Leave a Reply