জোরদার অব্যাহত রয়েছে রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক অগ্রগতি
উত্তরাঞ্চলের রাজস্ব খাতকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করতে নিবারক কার্যক্রম করেছে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, রংপুর। এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহেই কমিশনারেটের আওতাধীন বিভিন্ন বিড়ি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও নিবন্ধিত ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করে বকেয়া আদায় এবং অনিয়ম প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। প্রতিটি উপজেলা ধরে ধরে এই কার্যক্রম পরিচালনা করেন সফলভাবে একদিনে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR)-এর অধীনস্থ এই প্রতিষ্ঠানটি রংপুর বিভাগের রাজস্ব আহরণ, ভ্যাট ব্যবস্থাপনা এবং আইন প্রয়োগ কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ, করদাতাবান্ধব উদ্যোগ এবং কঠোর নজরদারির ফলে রাজস্ব খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
কমিশনারেট সূত্রে জানা গেছে, অনলাইন ভিত্তিক ভ্যাট নিবন্ধন, মূসক রিটার্ন দাখিল এবং ই-সেবার মাধ্যমে করদাতাদের জন্য সেবা গ্রহণ অনেক সহজ হয়েছে। ফলে করদাতারা ঘরে বসেই দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে সেবা পাচ্ছেন, যা রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
এদিকে, স্থল শুল্ক স্টেশনগুলোর কার্যক্রম তদারকি, বন্ডেড ওয়্যারহাউস ও বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বিড়ি কারখানাগুলোতে নিবারক কার্যক্রম পরিচালনার ফলে অবৈধ উৎপাদন ও রাজস্ব ফাঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে জানা গেছে।
ইটভাটা খাতেও বকেয়া কিস্তি আদায়ে জোরালো অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এতে রাজস্ব আদায়ের গতি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মের আওতায় আসতে বাধ্য হচ্ছে।
কমিশনার মোহাম্মদ সফিউর রহমান বলেন,
“করদাতাদের জন্য সহজ, দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা নিশ্চিত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভ্যাট ব্যবস্থাপনা আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন,
“নিয়মিত নিবারক অভিযান, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং আইন প্রয়োগের মাধ্যমে আমরা একটি জবাবদিহিমূলক রাজস্ব প্রশাসন গড়ে তুলেছি। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।”
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষ নেতৃত্ব এবং কঠোর তদারকির ফলে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, রংপুর উত্তরাঞ্চলের রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। পাশাপাশি জরিপ কার্যক্রমের মাধ্যমে নতুন নতুন প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় আনার উদ্যোগও রাজস্ব ভিত্তি সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
নিউজ টা ভালো করি লিখে দাও তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে
Leave a Reply