দীর্ঘদিনের অবহেলা আর জলাবদ্ধতার দুঃসহ স্মৃতি যেন ধীরে ধীরে অতীত হয়ে উঠছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের সিমেন্স হোস্টেল উত্তর এলাকায়। একতা সমাজ উন্নয়ন পরিষদের উদ্যোগ এবং সিটি কর্পোরেশনের সমন্বিত কার্যক্রমে নতুন করে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে এলাকার খাল-নালাগুলো, বদলে যাচ্ছে আশপাশের পরিবেশও।
এক সময় মাটি, বালি, পলিথিন ও বিভিন্ন আবর্জনায় খালগুলো এতটাই ভরাট হয়ে গিয়েছিল যে, পানির স্বাভাবিক প্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে। সামান্য বৃষ্টিতেই তৈরি হতো তীব্র জলাবদ্ধতা—যার ভোগান্তি নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছিল এলাকাবাসীর জন্য।
এই দীর্ঘস্থায়ী সংকট থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে সামনে আসেন একতা সমাজ উন্নয়ন পরিষদের দপ্তর সম্পাদক ও সাংবাদিক ফয়সাল হাসান জনি। তার উদ্যোগ ও প্রচেষ্টার পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কার্যকর পদক্ষেপ নেয় এবং শুরু হয় খাল পরিষ্কার ও খনন কার্যক্রম।
চলমান এ কার্যক্রমের অগ্রগতি দেখতে আজ, ৯ এপ্রিল ২০২৬, সকাল ১০টায় সরেজমিনে পরিদর্শনে যান ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের জনতার কাউন্সিলর এবং আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আলহাজ্ব মুহাম্মদ হানিফ সওদাগর। পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরেই তিনি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। পরিদর্শনকালে তিনি এলাকার উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম দিকের খালগুলো ঘুরে দেখেন এবং কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এসময় তিনি বলেন,
খালগুলো খনন করা এখন সময়ের দাবি। এলাকাবাসীর ভোগান্তি কমাতে আমি সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখব এবং এই কাজ বাস্তবায়নে পাশে থাকব।
অন্যদিকে, দপ্তর সম্পাদক ও সাংবাদিক ফয়সাল হাসান জনি উল্লেখ করেন,
“দীর্ঘদিনের অবহেলায় খালগুলো প্রায় অস্তিত্ব হারাতে বসেছিল। সিটি কর্পোরেশনের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও এটি নিয়মিতভাবে চালু রাখা জরুরি।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন কামরুল ইসলাম, আবু জাফর, আনোয়ার হোসেন ও মোহাম্মদ আলীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। তারা বলেন, এটি কেবল পরিষ্কার কার্যক্রম নয়—এটি আমাদের এলাকার ভবিষ্যৎ রক্ষার সংগ্রাম। খাল-নালায় ময়লা ফেলা বন্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
বক্তারা আরও সতর্ক করে বলেন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না থাকলে খালগুলো আবার আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারে। তাই এ কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। বর্তমানে চলমান পরিষ্কার কার্যক্রমের ফলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে পানির প্রবাহ, কমছে জলাবদ্ধতা এবং ফিরছে স্বস্তি।পরিদর্শন শেষে আলহাজ্ব মুহাম্মদ হানিফ সওদাগর ওয়ার্ডের অন্যান্য সড়কের উন্নয়নমূলক কাজও ঘুরে দেখেন এবং উদ্বোধনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন।
Leave a Reply