বর্তমানে বিয়ে নিয়ে অনেকেই সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগেন। পরিবার থেকে চাপ থাকলেও ব্যক্তিগতভাবে জীবনের নতুন ইনিংস শুরু করার জন্য প্রস্তুত কিনা, তা অনেকেই বুঝতে পারেন না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়বদ্ধতার ভার নেওয়ার আগে নিজের প্রস্তুতির কয়েকটি মৌলিক বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখা উচিত।
আসুন, জেনে নেওয়া যাক বিয়ের প্রস্তুতির বিষয়ে যে বিষয়গুলো যাচাই করা জরুরি:
১. সম্ভাব্য সঙ্গীর সঙ্গে মতের মিল
আপনি যাকে বিয়ে করতে চলেছেন, তার সঙ্গে আপনার বিশ্বাস, আদর্শ ও জীবনের উদ্দেশ্যের মিল থাকা খুবই জরুরি। সম্ভাব্য সঙ্গীর সঙ্গে আপনার আকাঙ্ক্ষা, চাহিদা ও লক্ষ্যের বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করুন। তার পেশা, খাদ্যাভ্যাস ও শখের মতো বিষয়গুলো সম্পর্কেও জানুন। সবকিছুতে মিল পাওয়া অসম্ভব হলেও, বিয়ের পর দুজনের কারও বিশ্বাস বা আদর্শে যাতে আঘাত না আসে, সেদিকটা আগেই নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
২. আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা
বিয়ে করতে হলে আপনাকে আবেগীয় দিক থেকে স্থির ও সহনশীল হতে হবে। সঙ্গীর সঙ্গে সুন্দরভাবে কথা বলা, মতবিরোধ হলে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা এবং সঙ্গীর ব্যথায় সমব্যথী হওয়ার মতো গুণ আপনার মধ্যে আছে কি না, বুঝতে চেষ্টা করুন। কারণ, অল্পতেই রেগে যাওয়া বা আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা বিয়ের পর দাম্পত্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
৩. পরিণত আচরণের সংকল্প
যেকোনো পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং প্রয়োজনে নতুন পরিস্থিতি থেকে কিছু শেখার মানসিকতা থাকতে হবে। একজন দায়িত্বশীল প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি এই মানসিকতা ধারণ করেন। যদি আপনার মধ্যে ‘আমি কখনও ঘরের কাজ করিনি, এসব আমার কাজ নয়’—এমন ভাবনা মনের ভেতর থাকে, তবে বুঝতে হবে আপনি বিয়ের জন্য প্রস্তুত নন। এই মানসিকতা না থাকলে জীবনের নানান পরিবর্তনের মুখোমুখি হয়ে মুশকিলে পড়তে হতে পারে।
৪. আর্থিক প্রস্তুতি
বিয়ের পর নতুন সংসারের আর্থিক দিকগুলো কীভাবে সামলাবেন, তা ভেবে রাখা উচিত। যার সঙ্গে আপনার বিয়ে হচ্ছে, তার জীবনধারার খরচ সম্পর্কেও ধারণা রাখুন। “যখনকার ব্যাপার, তখন দেখা যাবে”—এমনটা ভাবা উচিত নয়। সংসার শুরু করার পর সব মিলিয়ে কেমন টাকাপয়সা প্রতি মাসে খরচ হতে পারে, সেদিকটা বুঝে নিন এবং একই সঙ্গে আপনি সেই পরিমাণ অর্থ উপার্জন করেন কি না, সেটাও ভেবে দেখুন।
৫. নিজের সম্পর্কে সচেতনতা
নিজের দোষ-গুণের দিকে মনোযোগী হোন, নিজেকে জানুন। আপনার দোষগুলো বিয়ের পর দাম্পত্যে কেমন প্রভাব ফেলতে পারে, তা ভেবে দেখুন। নিজের ভেতর ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করুন। নিজের দুর্বলতা, শক্তি ও অভিজ্ঞতার আলোকে যাচাই করুন, বিয়ের মতো দায়বদ্ধতার ভার নিতে আপনি প্রস্তুত কি না।
৬. সহযোগিতামূলক আচরণ
পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি তো বটেই, সামাজিক সম্পর্কগুলোর ক্ষেত্রেও আপনি অন্যের প্রতি সহযোগী আচরণ করেন কি না, তা ভেবে দেখুন। মনে রাখবেন, বিয়ের পর জীবনসঙ্গী ও তার পরিবারের প্রতি আপনার কিছু কর্তব্য থাকবে, তাদের সহযোগিতাও করতে হবে নানাভাবে। এসব বিষয়ে আপনি মানসিকভাবে প্রস্তুত আছেন কি না, তা যাচাই করে নিন।
Leave a Reply