গাজীপুরের শ্রীপুরে দিনেদুপুরে স্কুলের সামনে থেকে পিস্তল ঠেকিয়ে ফেরদৌস আহমেদ নামে এক শিক্ষার্থীকে তুলে নেওয়ার ঘটনায় জড়িত কাউসার আহমেদ নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে থানা পুলিশ। এসময় ২টি ওয়াটিকি,চার্জার ও ব্যাংক কার্ড জব্দ করা হয়। এদিকে, এঘটনার একটি ২২ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
এ ঘটনায় আতংকিত হয়ে পড়েছে স্কুলের শিক্ষক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে চারটায় উপজেলার ধনুয়া গ্রামের হাজী প্রি ক্যাডেট স্কুলের সামনে থেকে তুলে নেওয়ার এই ঘটনা ঘটে। পরে বিকাল সাড়ে পাঁচটায় ওই ছাত্রকে উদ্ধার করেছেন স্বজনেরা। তাকে হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে।
ভুক্তভোগী মো. ফেরদৌস (১৪) গাজীপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের মো. সাইফুল ইসলামের ছেলে। সে হাজী প্রি ক্যাডেট স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার মোঃ কাউসার আহমেদ (৩৮) একই ইউনিয়নের ধনুয়া গ্রামের মো. ইমান আলী ছেলে। কাউসারের সঙ্গে আরো ৫ থেকে ৬ জন ছিলেন বলে শিক্ষার্থীর স্বজনেরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রেম ঘটিত কারনে ২ শিক্ষার্থীর দ্বন্দ্ব পরবর্তীতে অভিভাবকদের মধ্যে ছড়িয়েছে। এক মেয়ের সঙ্গে ২জনের সম্পর্কের জের ধরে এই ঘটনা ঘটে। তবে, এ ঘটনার বিস্তারিত বলতে অপারগতা প্রকাশ করে স্থানীয় সুত্র।
স্কুল ছাত্রকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ২২ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের ভিডিও ফুটেজ কাছে সংরক্ষিত। ওই ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ ও ভুক্তভোগীর কাউসার আহমেদের সাথে কথা বলে জানা যায়, স্কুল ড্রেস পরা ওই ছাত্রকে জোর করে মারতে মারতে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন কয়েকজন। তাঁদের মধ্যে একজনের হাতে পিস্তল সদৃশ একটি বস্তু। সেটি হাতে নিয়ে ওই ছাত্রের পেছনে হেঁটে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি । তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা এগিয়ে গেলে তাদের দিকেও পিস্তল সদৃশ বস্তু তাক করে ভয় দেখান ওই ব্যক্তি। ভিডিওতে পিস্তল সদৃশ বস্তু হাতে ওই ব্যক্তিকে মো. কাউসার আহমেদ হিসেবে শনাক্ত করেছেন স্থানীয় লোকজন।
হাজী প্রি ক্যাডেট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, শিক্ষার্থীদের ডাক চিৎকারে আমাদের স্কুলের বাইরে গিয়ে ওই দৃশ্য দেখতে পায় শিক্ষকরা। পরে শিক্ষার্থীকে রক্ষার জন্য চেষ্টা করে। কিন্তু অস্ত্রধারীরা বেশ কয়েকবার ফায়ার করার চেষ্টা করে। এই বলে যে সামনে আসবে তাকেই শেষ করে দিবো। এরপর আমাদের লোকজন পিছু হাটে। গুলির ভয়ে কেউ সামনে আসেনি। ‘
শিক্ষার্থীর মা মোসা. কুসুম আক্তার বলেন, এই ঘটনার পর থেকে তিনি তার পরিবার নিয়ে শঙ্কায় আছেন। স্কুল থেকে পিস্তল ঠেকিয়ে তুলে নেয়ার মত ঘটনা ঘটিয়ে অপরাধীরা যেন পার না পেয়ে যায় এটি তার দাবি।
ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক নূরুনাহার বলেন,’ স্কুল ছুটি হওয়ার পরপরই গেইট থেকে তাকে তুলে নেয়। অস্ত্র তাক করার পরপরই সবাই ভয়ে আতংকিত হয়ে পড়ে। তাকে মারধর করেছে।স্বজনদের সহযোগিতায় দু’ঘন্টা পর অস্ত্রধারীরা ছেড়ে দেয়।’
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, এই ঘটনার পর একটি খেলনা পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। একটি মামলা হয়েছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আটক কাউসারকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আমরা তদন্ত করে এ ঘটনায় আর কে কে জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।’
Leave a Reply