শহর কিংবা নগরের ভবন বিলাসিতা বলেন আর নান্দনিকতাই বলেন, তা বাস্তবায়নে নিরলস পরিশ্রম করে নগরবাসীদেরকে সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন প্রত্যেকটা শহড় কিংবা নগর উন্নয়ন পরিকল্পনাবিদরা সেখানে ঝাড়ুদার থেকে উপরস্থ কর্মকর্তারা বা কর্ণধারেরা প্রত্যেকেই এখানে নিরলস পরিশ্রম করেন আপন সত্বা দিয়ে, চেষ্টা করেন নগরবাসীকে তার চাহিদানুরুপ সেবা প্রদান করতে, কিন্তু এমন কাজেও কখনো কখনো বা বাধ সাজেন কিছু “ভুঁইফোড় সাংবাদদাতা” এমন অভিযোগ রাজউকের বড় একটা অংশের কর্মকর্তাবৃন্দের।
“ভুঁইফোড় সাংবাদিকতা” বলতে সাধারণত অসৎ বা অসাধু সাংবাদিকতাকে বোঝায়, যেখানে সাংবাদিকরা তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সততা ও বস্তুনিষ্ঠতার পরিবর্তে অনৈতিক বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কার্যকলাপ অবলম্বন করে।
আরও বিশদভাবে, বলতে গেলে নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলি ধারণ করে :
(১) মিথ্যা বা অতিরঞ্জিত তথ্য পরিবেশন:
সাংবাদিকরা সত্যতা যাচাই না করে বা ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করে সংবাদ পরিবেশন করে, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
(২) পক্ষপাতদুষ্টতা:
সাংবাদিকরা কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর প্রতি পক্ষপাতিত্ব করে সংবাদ পরিবেশন করে, যা নিরপেক্ষতা ও বস্তুনিষ্ঠতাকে ক্ষুণ্ন করে।
(৩) উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবেদন তৈরি:
কিছু সাংবাদিক তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ বা কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থ হাসিলের জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রতিবেদন তৈরি করে, যা সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী।
(৪) মূল তথ্য গোপন করা:
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে বা চেপে রেখে সংবাদ পরিবেশন করা, যা জনগণের জানার অধিকারকে ক্ষুণ্ন করে।
(৫) ভুল তথ্য প্রচার:
ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য প্রচার করা বা গুজব ছড়ানো, যা সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
(৬) অর্থের বিনিময়ে সংবাদ পরিবেশন:
অর্থের বিনিময়ে কারো পক্ষে বা বিপক্ষে সংবাদ পরিবেশন করা, যা সাংবাদিকতার নৈতিকতাকে নষ্ট করে।
(৭) মানহানি ও কুৎসা রটানো:
কারো ব্যক্তিগত জীবন বা খ্যাতি ক্ষুন্ন করার উদ্দেশ্যে মানহানিকর বা ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশন করা।
(৮) ভয়ভীতি প্রদর্শন:
কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে ভয় দেখিয়ে বা চাপে রেখে সংবাদ পরিবেশন করা।
(৯) বে-আইনি ভাবে তথ্য প্রমান দিতে কাউকে চাপ প্রয়োগ করা বাহুবল বা রক্তচক্ষুর ভয় দেখিয়ে কোনো দালিলিক প্রমাণাদি বা মৌখিক স্বীকৃত তথ্য আদায় করা যা তথ্য আইনে সম্পূর্ণ নিষেধ এবং মূলধারার সাংবাদিতার পরিপন্থী
(১০) সাংবাদিকতার নীতি ও আদর্শের চরম লঙ্ঘন, যা সমাজের জন্য ক্ষতিকর। এমন ভুঁইফোড় বৈশিষ্ট্য সম্বলিত সাংবাদিকতায় বিব্রত, রাজউকের প্রায় সকল দপ্তরের কর্মকর্তারা, রাজউকের একাধিক কর্মকর্তার অভিযোগ যে, তারা এমন নামধারী সম্পাদক ও সাংবাদিকদের অপ তৎপরতায় চরম ভাবে অতিষ্ঠ ও বিব্রত।
অপকৌশল ও হয়রানির বর্ননা দিতে গিয়ে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজউকের একাধীক কর্মকর্তা বলেন যে, কিছু কিছু নিবন্ধনহীন অনলাইন পোর্টাল এর নামধারী সম্পাদক ও সাংবাদিকরা তাদের মনগড়া তথ্য ও ভুলে ভরা মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করে। আমাদের উর্ধতন কর্মকর্তাদের হোয়াটস এ্যাপ মোবাইল নম্বরে তা পাঠিয়ে দিয়ে ফোন করে সজাগ করে দিয়ে থাকেন, আবার সেই সংবাদ অপসারণ করার জন্য এককালীন মোটা অংকের চাঁদা দাবি করেন, সেই সাথে মাসিক চাঁদার অংকটাও বসিয়ে দেন, চাঁদা না দিলে একাধারে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করার হুমকিও দিয়ে থাকেন। এসব সংবাদ প্রচারের আগে কেউ কেউ আবার আমাদের মুখোমুখি না হয়ে তথ্য চেয়ে হোয়াটস এ্যাপে দেন ক্ষুদেবার্তা যা অনেক সময় আমাদের দৃষ্টিতেও আসে না। এমন অনেক পত্রিকার সম্পাদকরা নিজেরাই আবার চলে আসেন আমাদের কাছে বিভিন্ন উদ্ভট তথ্য সংগ্রহ করতে যা আমাদের পক্ষে দেওয়া একেবারেই অসম্ভব এবং তথ্যঅধিকার আইনের পরিপন্থী, সেখানে আমরা তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করলেই আমাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা ও পরিপূরক তথ্য দিয়ে তারা সংবাদ প্রচার করে যা সম্পূর্ণটাই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্যে ভরপুর এবং পরের দিন সংবাদ সম্বলিত পত্রিকাটি হাতে নিয়ে নিজেরাই হাজির হন আমাদের মত ভুক্তভোগীদের দপ্তরে, আবার তাদের পত্রিকার পরিচয়পত্র বহনকারী সাংবাদিকরা দাম্ভিকতার সহিত পত্রিকাগুলি বিলি করে দিয়ে যান আমাদের প্রত্যেকের টেবিলে টেবিলে, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত মানহানিকর ও বিব্রতকর পরিস্থিতির স্বীকার হতে হয় ।
Leave a Reply