গত ২০ শে জুন ২০২৫ ইং রোজ শুক্রবার রাত ৯ঃ৩০ মিনিটে ধানমন্ডির ল্যাবএইড হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ফ্যাশন আলোকচিত্রী চঞ্চল মাহমুদ। উল্লেখ্য তিনি এ পর্যন্ত পাঁচ বার হৃদরোগে আক্রান্ত হন এছাড়া ডায়বেটিস এবং কিডনি সমস্যায় ও ভুগছিলেন এবং এবার আর ফেরত আসলেন না গত প্রায় পনেরো মাস পূর্বেও তিনি একবার লাইফ সাপোর্টে ছিলেন তখন আত্মীয়-স্বজনরা অবস্থা বেগতিক দেখে কবর ও ঠিক করে ফেলেছিলেন , কিন্তু সে যাত্রায় তিনি বেঁচে গিয়েছিলেন। কিন্তু গতকাল আর লাইফ সাপোর্ট থেকে ফিরতে পারলেন না , চলে গেলেন এমন জায়গায় যেখান থেকে তাঁর আর কখনো ফেরা হবেনা।
” চঞ্চল মাহমুদ ফটোগ্রাফি ” নামে তাঁর একটি ফটোগ্রাফি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ছিলো সেখান থেকে এই নতুন প্রজন্মের প্রায় ২০ হাজারের মতো শিক্ষার্থী ফটোগ্রাফি শিখেছেন এবং তারা দেশ-বিদেশে বিভিন্ন স্থানে আজ ও সু প্রতিষ্ঠিত । তিনি ফ্যাশন ও মডেল আলোকচিত্র কে নিয়ে গিয়েছিলেন অন্য উচ্চতায় । বাংলাদেশের টিভি ও চলচ্চিত্রের বহু অভিনেতা অভিনেত্রী এবং মডেল তার তোলা ছবিতে হয়েছে তারকা , পেয়েছে অন্যান্য খ্যাতি। অন্যান্যের মধ্যে রয়েছে মৌসুমী, শাবনুর , সালমান শাহ , শমী কায়সার , আফসানা মিমি প্রমূখ।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স এবং মাস্টার্স কমপ্লিট করেছিলেন তার আলোকচিত্রের গুরু ছিলেন আলোকচিত্রার্য মঞ্জুরুল আলম বেগ ( এম এ বেগ স্যার ) তিনি বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটি ( বিপিএস ) এর সদস্য ছিলেন।
তিনি ফটোগ্রাফিতে ডিপ্লোমা কোর্স করেন অস্ট্রেলিয়া এবং ফেলোশিপ করেন জাপানে।
৩৮ বছর ফটোগ্রাফির জীবনে তিনি বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেন এর মধ্যে ২০১১ সালে বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটি তাকে অনারারি ফেলোশিপ প্রদান করেন।
তার সহধর্মিনী রায়না মাহমুদ মিতু ও বেশ কয়েক বছর যাবত ক্যান্সার রোগে ভুগছিলেন এই শেষ বেলায় দুজনের চিকিৎসার ব্যায় মিটাতে তারা হিমশিম খেয়ে যেতেন এবং এ কারণে বেশ কিছুদিন পূর্বে তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে বন্ধু বান্ধব এবং পরিচিতজনদের কাছ থেকে তিনি আর্থিক সাহায্যের আবেদন ও করেছিলেন।
আজ বেলা বারোটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে তার দেহাবশেষ রাখা হবে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য এবং বাদ জোহর সেখানেই তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে এবং পরবর্তীতে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে।
Leave a Reply