বর্তমান সময়ে রাজধানীতে বহুল আলোচিত বিপদগামী কিশোর গ্যাং বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজী, ছিনতাই, নারীদের ইভটিজিংসহ মাদক সেবন ও ব্যবসায় ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে পড়ছে। এ ধরনের বিপথগামী কিশোর অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য র্যাব সদা সচেষ্ট থাকে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ মার্চ রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মিরপুর থানাধীন এলাকা হতে “রিংকু” গ্যাং এর রিংকু ওরফে আরএম রিংকু(৩০), তানভীর মাহমুদ সাজ্জাদ(২৮), মোঃ ছাব্বির হোসেন(২৯), মোঃ রাজিব হোসেন(২৮), মোঃ ইমাম(১৮), মোঃ আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ(২৭), মোঃ সাগর(২১) ও মোঃ হৃদয় হোসেন(১৮) নামীয় ০৮ জন সদস্য’কে চাকু, ক্ষুর, হেরোইন ও ইয়াবাসহ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
এছাড়াও গত ১৮ মার্চ সোমবার রাতে রাজধানীর পল্লবী থানাধীন বাউনিয়াবাধ এলাকা হতে আলোচিত কিশোর গ্যাং ‘‘অনিক গ্রুপ’’ এর মোঃ হাসিবুল হাসান অনিক(২৬), মোঃ শহিদুল ইসলাম(২৯), মোঃ জামাল শিকদার ওরফে রবিন(৩২), মোঃ বেলাল হোসেন(২৭), আবু কালাম(৩২) ও মোঃ সুমন(২০) নামীয় ০৬ জন সদস্য’কে ধারালো চাপাতি ও ছুরি সহ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, রাজধানীর মিরপুর এলাকায় বেশ কিছু কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে তন্মধ্যে কিশোর গ্যাং “রিংকু ওরফে আরএম রিংকু’’ গ্রুপে লিডারসহ ২০/৩০ জনের সক্রিয় সদস্য রয়েছে। এই গ্যাং এর সদস্যরা মিরপুর-২ এর আশেপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মারামারি, মাদক সেবন ও ইভটিজিংসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। “রিংকু” গ্রুপের লিডার রিংকু ওরফে আরএম রিংকু এর বিরুদ্ধে মিরপুর, ফরিদপুর নগরকান্দা থানায় মাদক, দস্যুতা, চুরি, মারামারি এবং খুনের চেষ্টা সংক্রান্ত ০৪ টি মামলাসহ রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়াও গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, রাজধানীর পল্লবী এলাকায় বেশ কিছু কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। তন্মধ্যে কিশোর গ্যাং ‘‘অনিক গ্রুপ’’ এর লিডারসহ ২০/৩০ জনের সক্রিয় সদস্য রয়েছে। এই গ্যাং এর সদস্যরা পল্লবী থানাধীন বাউনিয়াবাধ সহ আশেপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মারামারি, মাদক সেবন ও ইভটিজিংসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। ‘‘অনিক গ্রুপ’’ এর লিডার মোঃ হাসিবুল হাসান অনিক এর বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় ০৪ টি মামলাসহ রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
চিহ্নিত এসব বেপরোয়া ও মাদকসেবী কিশোর গ্যাং এর সদস্যদের অত্যাচারে স্থানীয় লোকজন অতিষ্ঠ ও অসহায় হয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কিশোর গ্যাং ‘‘অনিক গ্রুপ’’ ও “রিংকু গ্রুপ” এর লিডার মোঃ হাসিবুল হাসান অনিক ও রিংকু ওরফে আরএম রিংকু তাদের সহযোগীদের নিয়ে এলাকায় চুরি, ছিনতাই এবং চাঁদাবাজি করে আসছিলো। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সাধারণ লোকজনকে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র দিয়ে গুরুতর আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। তাছাড়াও ফুটপাতের দোকানদাররা চাঁদা দিতে অস্বীকার জানালে তাদেরকেও মারধর করে।
গ্রেফতারকৃত কিশোর অপরাধীরদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে র্যাব কর্তৃপক্ষ।
Leave a Reply