বাংলাদেশের জাতীয় ও স্হায়ী নির্বাচনে আসলেই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের (হিন্দু সম্প্রদায়ের) ভোট ব্যাংক নিয়ে শুরু হয় প্রার্থী জয় পরাজয়ের হিসাব নিকাশ। এবার সেই হিসাব নিকাশের দিন পুরিয়ে এসেছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কেবল রাজনৈতিক ‘ভোট ব্যাংক’ হিসেবে ব্যবহার করার দিন শেষ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেছেন, যাঁরা সনাতন ধর্মাবল্মীদের কেবল ভোট ব্যাংক হিসেবে মনে করেছিল, আপনারা আপনাদের ভোটাধিকার ও বিচক্ষণতার মাধ্যমে তাঁদের সেই ভ্রান্ত ধারণা ও ভুল ভেঙে দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের রহমতগঞ্জ ঐতিহাসিক জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
সভায়তিনি আরও বলেন,অতীতে বিভিন্ন সরকারের আশ্বাস ও বৈদেশি নির্ভরতার সমালোচনা সহ ঐতিহ্যবাহী এই জেএম সেন হলে অতীতেও অনেকে এসেছেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিশ্চিন্তে থাকার নানা আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁরা প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আলাপ করে তাঁদের ভরসায় ক্ষমতায় থাকার রাজনীতিতে বিশ্বাস করতেন। কিন্তু আমরা অন্য কোনো দেশের অনুকম্পা বা ভরসায় ক্ষমতায় থাকার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না।
বাংলাদের ৭১ রের মুক্তি যোদ্ধা ও স্বাধীনতার মূল চেতনা ও অসাম্প্রদায়িকতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চেয়েছিলাম যেখানে কোনো ধরনের বৈষম্য থাকবে না। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের শহীদরা এমন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যেখানে ধর্মীয় সম্প্রীতি অটুট থাকবে। পৃথিবীর সব দেশেই কম-বেশি নানা ধর্মের মানুষ থাকে এবং স্বাভাবিকভাবেই কোথাও সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকে। কিন্তু আমরা এখানে কাউকে ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে তুলনা করতে চাই না। আমাদের মূল পরিচয়—আমরা সবাই বাংলাদেশি নাগরিক।
মুক্তিযুদ্ধ ও সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক ত্যাগের কথা স্মরণ করে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এ দেশের সনাতন, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও মুসলিমসহ সব ধর্মের মানুষ এক হয়ে রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছে। আবার আওয়ামী ফ্যাসিবাদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানেও সব ধর্মের ভাইয়েরা রাজপথে রক্ত ঝরিয়েছেন। তাই ধর্মনিয়ে রাজনীতি এ দেশে চলবে না।
বক্তব্যর শেষ প্রান্তে এসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ নেতা কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
Leave a Reply