মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে হাজরী গুড় জিআই জয় (ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় গুড় উৎপাদনকারী গাছিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) বিকেল ৪ টার সময় উপজেলার হাজরী পল্লীতে উপজেলা প্রশাসন, হরিরামপুরের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুন আরা সুলতানা। সভাপতিত্ব করেন হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আক্তার।
মতবিনিময় সভায় স্থানীয় গাছি, গুড় উৎপাদনকারী, কৃষক এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় হাজরী গুড়ের ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উৎপাদনের মান উন্নয়ন, বাজার সম্প্রসারণ এবং জিআই স্বীকৃতির সুফল নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বক্তারা বলেন, হাজরী গুড় হরিরামপুরের ঐতিহ্যবাহী একটি পণ্য। জিআই স্বীকৃতি পাওয়ায় এ পণ্যের স্বকীয়তা ও সুনাম আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে উৎপাদকরা ন্যায্য মূল্য পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং দেশ-বিদেশে হাজরী গুড়ের বাজার সম্প্রসারিত হবে।
গাছি মিজানুর রহমান বলেন, গাছ বিলুপ্ত হওয়ার পথে গাছ বাড়ানোর জন্য রাস্তার পাসের গাছ রোপণ করে এই সমস্যা সমধান করা যায়।
গাছি সাব্বির হোসেন বলেন, গাছের রস বিভিন্ন এলাকায় থেকে আনতে হয়,এই রস আনতে আমাদের অনেক কষ্ট করতে হয়,রাতে রস পোলাপান নামিয়ে নেয় এবং বিভিন্ন নেতা কর্মীরা ও প্রভাব খাটিয়ে রেখে দেয়।ভেজাল গুড় বাজারে না যায় এজন্য প্রশাসনের নজরদারি করার জন্য আহবান করেন।
জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, হাজরী গুড়ের ঐতিহ্য ও গুণগত মান ধরে রাখতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। জিআই স্বীকৃতির মাধ্যমে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও আরও বৃদ্ধি পাবে।
সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা হাজরী গুড়ের উৎপাদন ও বিপণনে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।
Leave a Reply