সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নীলফামারী জেলার ছয়টি উপজেলায় প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত কলেজভিত্তিক ভিডিপি/টিডিপি মৌলিক প্রশিক্ষণের প্রথম ধাপে ৪০০ প্রশিক্ষণার্থীর মাঝে ৪০০টি বিভিন্ন জাতের ফলজ, বনজ ও ভেষজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জেলা কমান্ড্যান্টের উদ্যোগে জেলার ছয়টি উপজেলায় একযোগে বিশেষ সেশনে এসব চারা বিতরণ করা হয়। কর্মসূচির মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের বৃক্ষরোপণ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়ন কার্যক্রমে সরাসরি সম্পৃক্ত করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় ডিমলা উপজেলায় কলেজভিত্তিক ভিডিপি মৌলিক প্রশিক্ষণের প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে চারা তুলে দেন রংপুর রেঞ্জের রেঞ্জ কমান্ডার ও উপমহাপরিচালক মোহাম্মদ আবদুল আউয়াল, বিভিএম, পিভিএমএস।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী জেলা কমান্ড্যান্ট মোঃ মিজানুর রহমান, পিভিএম, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মোঃ ফারুক হোসেন, উপজেলা প্রশিক্ষক মোঃ মনিরুজ্জামান, প্রশিক্ষিকা নুরতাজ খাতুন, ইউনিয়ন দলনেতা মোঃ আবুল কালাম আজাদ সরকার, দলনেত্রী অনামিকা আক্তার বেবি ও আনসার কমান্ডাররা।
অনুষ্ঠানে রংপুর রেঞ্জের রেঞ্জ কমান্ডার ও উপমহাপরিচালক মোহাম্মদ আবদুল আউয়াল বলেন, “একটি চারা শুধু একটি গাছের সূচনা নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নির্মল পরিবেশ ও নিরাপদ পৃথিবী গড়ার প্রতিশ্রুতি। প্রশিক্ষণার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় এসব চারা রোপণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।”
তিনি আরও বলেন, “আনসার ও ভিডিপির সদস্যরা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানুষের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই তাদের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সচেতনতার বার্তা প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। একটি গাছ লাগানোর পাশাপাশি সেটি বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্বও আমাদের নিতে হবে।”
জেলা কমান্ড্যান্ট মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, “প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রশিক্ষণার্থীদের সামাজিক ও পরিবেশগত দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করাই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। প্রত্যেকে একটি করে চারা রোপণ করে নিয়মিত পরিচর্যা করলে অল্প সময়ের মধ্যেই এর ইতিবাচক প্রভাব দৃশ্যমান হবে।”
চারা হাতে পেয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। তারা জানান, প্রশিক্ষণ শেষে নিজ নিজ বাড়ি ও এলাকায় এসব চারা রোপণ করবেন এবং নিয়মিত পরিচর্যার পাশাপাশি পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী ও স্থানীয় মানুষকে বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করবেন।
প্রশিক্ষণার্থীদের কয়েকজন বলেন, “আমাদের হাতে একটি করে চারা তুলে দেওয়া হলেও এর সঙ্গে একটি বড় দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে। আজকের এই ছোট চারাটি একদিন বড় গাছে পরিণত হয়ে মানুষকে ছায়া, ফল ও নির্মল বাতাস দেবে। তাই আমরা শুধু চারা রোপণ নয়, গাছগুলোকে বাঁচিয়ে রাখারও চেষ্টা করব।”
আয়োজকরা জানান, বৃক্ষরোপণকে শুধু আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য। আনসার-ভিডিপির প্রশিক্ষণার্থী ও সদস্যদের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় পরিবেশ সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া এবং বৃক্ষরোপণে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
পরিবেশ সংরক্ষণ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও জনকল্যাণের সমন্বয়ে নেওয়া এ উদ্যোগ সবুজ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর চলমান কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।
Leave a Reply