1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
শাড়ি নাকি বিকিনি পোশাকের স্বাধীনতা - দৈনিক আমার সময়

শাড়ি নাকি বিকিনি পোশাকের স্বাধীনতা

আমার সময় ডেস্ক
    প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ৮ আগস্ট, ২০২৩

 

ফেসবুক, ইন্সট্রাগ্রাম, টিকটক, লাইকি বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। কিন্তু একদল সংঘবদ্ধ যুবক যুবতী ফেসবুক, ইন্সট্রাগ্রাম, টিকটক,লাইকির এই জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের লেংটা ছবি, উলঙ্গ ভিডিও এমনকি লাইভে উলঙ্গ হয়ে দেশের আইনকে বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে নিজেদের শরীর প্রদর্শন করে যাচ্ছে। যেখানে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র, ওয়েবফিল্ম নির্মাণ করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন আইন রয়েছে, এবং সঠিক প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে। এমনকি দেহ ব্যবসা করার জন্য পতিতাদেরও একটি আইন রয়েছে। দেশের সেইসব আইনকে বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে তারা অনলাইনে নির্ভয়ে দাপটে পশ্চিমা স্টাইলে নিজেদের উপস্থাপন করেই চলেছে, যা বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে প্রকাশে অপমান করা ছাড়া আর কিছুই নয়। তাছাড়া এসব কর্মকাণ্ড নতুন প্রজন্মের জন্য খুবই ভয়াবহ একটি অধ্যায়। অনলাইনে এভাবে ক্লাইন্ট ম্যানেজ করে, অনেককে ধোকা দিয়ে তারা কোটি কোটি টাকা কামিয়ে নিচ্ছে। ইন্সট্রাগ্রামে সরাসরি উলঙ্গ লাইভে এসে যুব সমাজকে আকৃষ্ট করে তাদের মেধা মনন এবং সময় নষ্ট করছে, যুব সমাজকে ধ্বংস করছে এই মেয়েরা। কল্পনা করতেই পারবেননা যে, বিদেশি নিল সিনেমার থেকেও ভয়ংকর সব কাজ করছে ফেসবুক, ইন্সট্রাগ্রাম, টিকটক, টেলিগ্রাম সহ বিভিন্ন সোসাল মিডিয়ায়। সোসাল মিডিয়ার কল্যাণে খুব অল্প সময়ে তারা সমাজের পরিচিত ব্যাক্তি হয়ে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে তারা কিছু মিউজিক ভিডিও করছে এমনকি সুযোগ মত তথাকথিত শটফিল্ম এ কাজ করে তারা নিজেদের সেলিব্রিটি বলে উপাস্থাপন করছেন। অথচ একজন থিয়েটার কর্মী বছরের পর বছর সাধনা করেও ভাল একটি অবস্থান তৈরী করতে পারছেন না। ভালো একটি চরিত্র পাচ্ছেন না। আমাদের রুচির দুর্ভিক্ষ যেমন প্রমানিত ঠিক আমাদের আইনের সঠিক প্রয়োগ করার ক্ষেত্রেও নানাভাবে প্রশ্ন উঠে। আমরা পোশাকের স্বাধীনতার কথা বলে নিজেকে উলঙ্গ করাটা আমাদের আইনের দৃষ্টিতে কতটা আইনসঙ্গত কিংবা অপরাধ! সেটা দেশ ও দেশের আইন প্রনেতারাই ভালো জানেন। শুধুযে মেয়েরা এসব করছে তা কিন্তু নয়। কিছু অর্ধশিক্ষিত ছেলে কিন্তু ইংলিশে কথা বলাতে বেশ পটু এসব কাজেও অন্তর্ভুক্ত তা চোখে পরে, এই ছেলেরাই দেশে বিদেশে ক্লাইন্ট ম্যানেজ করে থাকেন। এছাড়া আজকাল কিছু সমকামী ছেলের উপস্থিতি আমাদের দেশে দেখা যাচ্ছে। আমার এই লেখাটা হয়তো ১০/১৫ বছর পর হাস্যকর মনে হবে তখনকার প্রজন্মের কাছে যদি এখন থেকেই এর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়। এই চক্রের কাছে প্রতিনিয়তই প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। আর প্রতারণার অস্ত্র হিসেবে বেছে নেয়া হচ্ছে যৌন আবেদনকে। এছাড়াও বিভিন্ন বয়সী মেয়েদের ছবি পোষ্ট করা সহ সরাসরি কিছু মেয়েরা আহ্বান করছে ফোনসেক্স, রুমডেটসহ অন্যান্য বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ প্রস্তবনা। এসব প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে অনেকেই প্রতারিত হচ্ছেন। সরাসরি ফেসবুক পেজ, ইনস্টাগ্রামে যৌনতার বিজ্ঞাপন দেয়া হচ্ছে। এসব দেশের প্রশাসনের নজরে নেওয়া জরুরী বলে মনে করি। আমাদের নিজেস্ব শিক্ষা সংস্কৃতি বাঁচাতে এদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা উচিত! আবার কেউ কেউ দুএকটা ওয়েব কন্টেইন, সিনেমা, নাটকে ছোট চরিত্রে অভিনয় করে, কিংবা কাজ করে তারা মিডিয়ার ব্যাক্তি হিসাবে বিভিন্ন ধরনের পার্টি আয়োজন করে থাকেন। তারমধ্যে কেউ মডেল, হিরো, পরিচালক কিংবা পডিউসারের তকমা লাগিয়ে ইন্সটোগ্রাম , পেজগুলোতে বলা হয়। এরা যৌন ব্যাবসা করার জন্য সব থেকে সহজ মাধ্যম হিসেবে বেছে নেয় মিডিয়াকে। এদের ফেসবুক, ইন্সট্রাগ্রাম, টিকটক, লাইকি প্রোফাইল গুলোতে লেখা থাকে মডেল, ভিডিও ক্রিয়েটর, কিংবা আটিষ্ট এসব মিডিয়ার ট্যাগকি লাগিয়ে ধন্নাট্য কিংবা লুচ্ছা যুবকদের দৃষ্টি আকৃষ্ট করেই চলেছে।

এরকম চক্রের নিয়ন্ত্রিত অনলাইনে এক্টিভ দেখা যায় দিবামনি, রিয়ামনি, এন্জেল, আহনা, রিয়া, পলি, শিলা, রিতা, সেলিনা, লিজা, ডায়না, নিপা খান, পপি, রেশমা, আখি, নয়ন, ঝরনা, আমিনা এবং মিথিসহ বেশ কিছু মেয়েদের। এই কথিত কর্লগালদের সাথে রয়েছে মিলিত হওয়ার সুযোগ। একই সাথে রয়েছে প্রত্যেকের সাথে সময় কাটানোর জন্য ‘টাকার’ পরিমান।
পরিশেষে এদেশ, এদেশের শিক্ষা সংস্কৃতি পৃথিবীর সবার থেকেই আলাদা ও গর্বের। বাংলাদেশের বাঙ্গালী জাতির অহংকারের সংস্কৃতি শিক্ষা আজ ধ্বংসের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে আছে, যা আপনি আমি আমরা সবাই দেখছি। আমাদের বাংলার শাড়ীকে তুড়ি মেরে পশ্চিমা স্টাইলে বিকিনির পথে যাচ্ছে আমাদের মা বোনেরা। একটু চারপাশে খবর নিলেই দেখবেন আজকাল আমাদের পরিবারের মা বোনরাই শাড়ি পড়া একদম বাদ দিয়েই দিয়েছেন। তারা আজকাল পড়ছেন সেলোয়ার কামিজ, থ্রিপিচ অথচ আমাদের সোনার বাংলার সংস্কৃতি শিক্ষা বহিঃবিশ্বে গবেষনা চলছে। দিনকে দিন আমাদের সংস্কৃতি শিক্ষা জানার আগ্রহ বেড়ে যাচ্ছে সমগ্র বিশ্বে আর সেখানে আমরা আমাদের মেয়েকে উলঙ্গ করছি, আমাদের বোনকে উলঙ্গ করছি এমনকি সোস্যাইল মিডিয়ার দোহাই দিয়ে নিজের স্ত্রী কেও উলঙ্গ করতে উৎসাহিত করছি। আমাদের নাটক, ওয়েব কন্টেইন কিংবা সিনেমা নির্মাণে যেমন আইন রয়েছে এবং সঠিক প্রয়োগ করা হচ্ছে। ঠিক আমাদের সোস্যাইল মিডিয়া ব্যাবহারের ক্ষেত্রে, দেশের শিক্ষা সংস্কৃতির উপর ভিত্তি করে সঠিক আইন প্রনয়ন করা উচিৎ। এখনই সময় বিকিনি, স্কাট ছুড়ে ফেলে আমাদের ঐতিহ্যের শাড়ি লুঙ্গি শিল্পকে বাঁচানোর।

রানা বর্তমান
সাহিত্যিক ও নাট্য নির্মাতা, বাংলাদেশ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com