রাজউকের ইমারত পরিদর্শক হয়েই তিনি অল্প সময়ে বনে যান অগাধ সম্পত্তির মালিক, গড়েছেন ডুপ্লেক্স বাড়িও । কে এই নির্মল মালো? কি তার পরিচয় ? কি কি অভিযোগই বা আছে তার বিরুদ্ধে?
মাদারীপুরের রাজৈর থেকে এসে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় বসবাস শুরু করেন নির্মল মালোর পিতা নিত্তগোপাল মালো, শুরু করেন পোনা মাছের ব্যাবসা, কোটালীপাড়া আওয়ামী অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায়, নিত্তগোপাল মালো সনাতন ধর্মের লোক হওয়ায় কোটালীপাড়া বাসীর সহানুভূতি পায় খুব অল্পতেই আর সেই সুযোগে নিত্তগোপাল বাগিয়ে নেন কোটালীপাড়া উপজেলা মৎসজীবী লীগের সভাপতি পদ। নিত্তগোপাল মালোর বড় ছেলে এই নির্মল মালো, ঢাকার এক প্রাইভেট ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশোনা করেন তিনি, বাবার রাজনৈতিক শক্তি আর টাকার জোড়ে ২০১৮ সালে রাজউকের ইমারত পরিদর্শক পদের চাকরী কিনে নেয়। যোগদান করেন ঢাকার রাজউকের প্রধান কার্যালয়ে। সরকারি চাকুরিতে যোগদান করেই হাতে পেয়ে যান আলাদিনের চেরাগ।
মাত্র ৬ বছর চাকুরি করে গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের আমবাড়ীতে মাছের ঘের , বরিশালের উজিরপুরের শাতলা বাগধায় জমি, কোটালীপাড়া পৌরসভার বাগান উত্তরপাড়ায় পোল্ট্রি ফার্ম, কোটালিপাড়া পৌরসভার বাগান উত্তরপাড়ার কমলকুড়ী স্কুল সড়কে নির্মল মালোর নিজের নামে ১০ কাঠা যায়গার উপর ডুপ্লেক্স বাড়ী সহ ঢাকার মগবাজার, আফতাব নগর পুরান ঢাকার ওয়ারী, কুড়ীল বিশ্ব রোডে একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাটের কথা উঠে এসেছে আমাদের অনুসন্ধানে।
আমাদের অনুসন্ধান টিমের কাছে নির্মল মালোর বিরুদ্ধে আসে একাধিক অভিযোগ। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে দুর্নীতির নানা তথ্য। নির্মল মালো রাজউকের অন্তর্ভুক্ত দক্ষিনখান অঞ্চলে কর্মরত আছেন। তদন্তে বেরিয়ে আসে অবৈধ আয়ের আসল রহস্য। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই এলাকার নির্মাণাধীন ভুক্তভোগী ভবন মালিক বলেন এলাকায় রাজউকের নিয়ম না মেনে বহুতল ভবন নির্মান হওয়ায় মওকা পেয়ে যান ইমারত পরিদর্শক নির্মল মালো।
বেশীর ভাগ মালিকানা ও ডেভেলপার কোম্পানির যোগসাজশে ঘুষ লেনদেন ও অনিয়ম দুর্নিতীর আশ্রয় নিয়ে অবৈধ অর্থ কামিয়েছেন নির্মল। ডেভিয়েশন, সরু রাস্তা, ভবনের আউটডোর, ইনডোর, রাজউকের নকশা বহির্ভূত বিধিমালায় ভবন নির্মাণ সহ বিভিন্ন অযুহাতে নোটিশের মাধ্যমে ভবন মালিক বা ডেভেলপার কোম্পানির লোকদেরকে অফিসে ডেকে আনতেন নির্মল মালো। এরপর বর্ধিতাংশ অপসারণ, ভবন নির্মান কাজ বন্ধ সহ বিভিন্ন রকম ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতি বাড়ী থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিতেন তিনি।
নির্মল মালোর বাড়ীতে দীর্ঘ দিন যাবৎ দেখাশোনার কাজে নিয়োজিত থাকা নিহার রঞ্জন, নির্মলের সম্পদের বিবরন দিতে গিয়ে তার সব অবৈধ সম্পদের বর্ননা দেন এই প্রতিবেককে, নির্মলের নিজ এলাকা কোটালীপাড়ার একাধিক ব্যাক্তিও জানিয়েছেন তার এমন অবৈধ সম্পদের কথা। নির্মল মালোর অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয় মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি কর্কশ ভাষা ব্যাবহার করেন এক পর্যায়ে পুরো কোটালীপাড়া নিয়ে চ্যালেঞ্জ করেন এই দুর্দান্ত দাপুটে নির্মল মালো, তদন্তে যানা গেছে তিনি এলাকার উঠতিগোছের নেতাদেরকে হাত করে রাখেন টাকার বিনিময়ে ।
এমন সব দুর্নীতি অনিয়ম আর জ্ঞ্যাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের কথা জানতে তার অফিসে গিয়ে না পেয়ে মুঠোফোনে ফোন করলে, তিনি ফোন রিসিভ না করে পরক্ষনে ফোনকল ব্যাক করে কর্কশ ভাষা ব্যাবহার করেন এবং যা পারেন তাই করেন বলে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে মারেন এই প্রতিবেককে।
(প্রথম পর্ব)
Leave a Reply