উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। হাইপারটেনশন অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, রংপুরের উদ্যোগে আয়োজিত এ ক্যাম্পে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন।
ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. আবু জাফর এবং অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) (যুগ্মসচিব) আব্দুল মোতালেব সরকার। তারা ক্যাম্পের কার্যক্রম পরিদর্শনের পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।
ক্যাম্পে আগতদের পর্যায়ক্রমে টোকেন প্রদান, বিএমআই নির্ণয়, রক্তচাপ পরীক্ষা, ডায়াবেটিস নির্ণয়, অনলাইনে স্বাস্থ্যতথ্য সংরক্ষণ ও স্ক্রিনিং করা হয়। পরে রোগী রেজিস্ট্রেশন, চিকিৎসকের পরামর্শ, প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়।
হাইপারটেনশন অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘হাইপারটেনশন অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, রংপুর একটি স্বাস্থ্যসেবামূলক প্রতিষ্ঠান। এখানে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীরা ফ্রী পরামর্শ নিতে পারেন। এছাড়া অসহায় ও দুস্থ রোগীদের আজীবন বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া হয়।’
তিনি আরও বলেন, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতেই বিভিন্ন স্থানে বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হচ্ছে। প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. জাকির হোসেনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং রংপুরের বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের সহযোগিতায় ২০০৮ সালের ১৪ নভেম্বর হাইপারটেনশন অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, রংপুর প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ৪৯ হাজার রোগী নিবন্ধিত হয়ে নিয়মিত চিকিৎসা পরামর্শ গ্রহণ করছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের মতো অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করা পরীক্ষা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে আয়োজিত এ ধরনের বিনামূল্যের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি রোগের প্রাথমিক শনাক্তকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Leave a Reply