1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
মরুর বুকে আরেক প্রশান্তির ধাম ‘দুবাই আল কুদরা লেক - দৈনিক আমার সময়

মরুর বুকে আরেক প্রশান্তির ধাম ‘দুবাই আল কুদরা লেক

সাগর দেব,সংযুক্ত আরব আমিরাত
    প্রকাশিত : সোমবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৪
সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক রাজধানী দুবাই। বিলাসবহুল আর আকাশচুম্বী অট্টালিকার শহর ও ব্যবসায়িক দিক দিয়ে শীর্ষে থাকার পাশাপাশি ভ্রমণ প্রেমিক মানুষের পছন্দের তালিকায় প্রথম স্থানে নাম রয়েছে এই শহরের। এই দুবাইয়ের মরুর বুকে আকাশচুম্বী অট্টালিকার গা-ঘেঁষেই আল-কুদরা লেক। 
দুবাইতে একটি রৌদ্রোজ্জ্বল দিন উপভোগ ও শান্ত দৃশ্য দেখার জন্য এই আল কুদরা লেক অতুলনীয়।
দুবাই শহরের অদূরে দুবাই-আল আইন বা হাত্তা-ওমান সড়ক হয়ে আল মারমুম মরুভূমির সাইহ আল সালাম সড়কের মরুভূমির ঘূর্ণায়মান টিলাগুলির মধ্যে এর অবস্থান। এই বিস্তৃত মানবসৃষ্ট হ্রদগুলি তাদের আশেপাশে সুন্দরভাবে মিশেছে। হ্রদগুলি কৃত্রিম হতে পারে কিন্ত প্রকৃতির ছোয়ায় এখানে মন দুলে সারাক্ষণ।
যখন পাখি ডাকবে এবং জলের উপর দিয়ে মৃদু বাতাস বয়ে যাবে তখন পক্ষীবিদরা এখানে জড়ো হওয়া অনেক প্রজাতির পাখি দেখে মুগ্ধতায় মজবেন। বিদেশি রাজহাঁস, ল্যাপউইং এবং হাঁস, সেইসাথে (আমদানি করা) ফ্লেমিঙ্গোর বড় ঝাঁক মুগ্ধ করে বেড়াতে যাওয়াদের। এ সময় প্রকৃতি প্রেমিরা ক্যামেরায় মশগুল হতে বাধ্য হন।
মরুভূমির শিয়াল বা অধরা আরবীয় অরিক্স চারপাশে চরে বেড়াতে দেখতে পাওয়া যায়। যেখানে রয়েছে হরিণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন বন্যপ্রাণী ও নানা প্রজাতির পাখি। এর মধ্যে অনবরত ঘুঘুর ডাক আপনাকে নস্টালজিয়ায় নিয়ে যাবে। সেখানে শত শত কালো এবং সাদা রাজহাঁস আছে। যারা হ্রদের শান্ত জলে সাঁতার কাটতে ব্যস্ত।
আল-কুদরা লেক ২৪ ঘণ্টাই খোলা। সেই লেকে পর্যায়ক্রমে পুলিশ পাহারা দেয়। যেকোনো সময় ক্যাম্প বা ছোট্ট তাবু করা নিরাপদ। লেকের পাশেই সবুজ রঙের গাছ ঘিরে সবাই মিলে বিভিন্ন পার্টি করা যায়। নেই কোনো প্রবেশ ফি। লেকের মোহনীয় এবং শ্বাসরুদ্ধকর সৌন্দর্য অনুভব করার জন্য প্রতিদিনই হাজার হাজার পর্যটক সেখানে ভিড় করেন। এছাড়া সেখানে বসবাসরত পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষও পরিবার-পরিজন নিয়ে বেড়াতে যান।
যখন রাত বাড়তে শুরু করে, হ্রদগুলি সত্যিই কিছু দর্শনীয় সূর্যাস্তের পটভূমি তৈরি করে। আকাশ শান্ত জলে প্রতিফলিত হওয়ার সাথে সাথে পাখিরা বাসায় ফেরার জন্য প্রস্তুত হয়। ঝাঁকে ঝাঁকে পাখির কিচির-মিচির ডাকে মুখরিত এ পরিবেশ মরুভূমির আর কোথাও পাওয়া বিরল। সূর্য ডোবার সাথে সাথে এখানকার আকাশে কৃত্রিম আলো জ্বলেনা। সহজেই মিটমিট করে জ্বলে নক্ষত্রপুঞ্জ। প্রতিটি গাছের নিচে প্রকৃতি প্রেমিদের আস্তানা যেন শরণার্থীদের তাবু। সামনে বারবিকিউ আগুনের চুলা। আবার কেউবা নাচে গানের আনন্দে বিভোর।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com