ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডা ও ধূলা-বালিজনিত রোগের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিন ঠান্ডাজণিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভিড় করছেন রোগীরা। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যাই বেশি।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে রোগীরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন। বহিঃবিভাগে প্রতিদিন ২ থেকে আড়াই হাজার রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৪৫ জন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন।
ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ২০টি শয্যা থাকলেও বর্তমানে সেখানে ভর্তি রয়েছেন প্রায় ১০০ জন রোগী। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় অনেককে শীতের মধ্যে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরছেন।
রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, শয্যার সংকটের কারণে মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে, যা শীতের মধ্যে রোগীদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর। এছাড়া হাসপাতালের পরিবেশ নোংরা থাকায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। দ্রুত আসন সংখ্যা বাড়ানোর দাবিও জানান তারা।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু বিভাগ) ডা. মোঃ আক্তার হোসেন বলেন, ঠান্ডা ও ধূলা-বালির কারণে শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি বাড়ছে। এসব রোগ থেকে বাঁচতে শীতের সময় সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোঃ শাখাওয়াত হোসেন জানান, রোগীর চাপ সামাল দিতে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ঠান্ডাজণিত এসব রোগের প্রকোপ থেকে রক্ষা পেতে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার পাশাপাশি সবাইকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
Leave a Reply