ব্রহ্মপুত্র নদ রক্ষা, ঢাকা-ময়মনসিংহে দুই জোড়া আন্তনগর ট্রেন, আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্যাস সংযোগ চালুসহ ১০ দফা দাবিতে ‘নাগরিক আহাজারী’ নামে এক ব্যাতিক্রমী কর্মসুচি পালন করে ময়মনসিংহ জেলা নাগরিক আন্দোলন।
শুক্রবার (৯জুন) সকালে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, সংস্কৃতিকর্মী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের মাঝে জেগে উঠা চরে দাঁড়িয়ে সংহতি প্রকাশ করে এই প্রতিবাদ জানায়। সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট খালেকুজ্জামানের সভাপতিত্বে দুই ঘন্টাব্যাপী কর্মসুচিতে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নূরুল আমিন কালাম, সংগঠনের নেতা অ্যাডভোকেট এমদাদুল হক মিল্লাত, অ্যাডভোকেট শিব্বির আহমেদ লিটন, সাইফুল ইসলাম পান্নু, গ্রাহক গ্যাস পাইপ লাইন নির্মাণ ঠিকাদার ঐক্য ফেডারেশনের জেলা সভাপতি রমজান আলী খন্দকার প্রমুখ।জেলা নাগরিক আন্দোলনের সভাপতি অ্যাডভোকেট এএইচ এম খালেকুজ্জামান বলেন, বিভাগ গঠনের কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও অবকাঠামোগত কোন উন্নয়ন না হওয়ায় আমরা হতাশ। ব্রহ্মপুত্র নদ খননসহ আমাদের সুনির্দিষ্ট কয়েকটি দাবি রয়েছে তা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। আগামী ১৭ জুন রেলওয়ে কৃষ্ণচূড়া চত্বরে ময়মনসিংহ-ঢাকা রুটে দুইজোড়া ট্রেন চালুর দাবিতে কর্মসূচি পালন করা হবে।সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন কালাম বলেন, আয়োজকরা জানান, এই জেলার নাগরিকদের ১০ দফা দাবির মধ্যে অন্যতম দাবি হলো ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা। যে নদ দিয়ে এই সময়ে লঞ্চ স্টিমার চলার কথা সে নদ মানুষ হেঁটে পার হচ্ছে। আমরা কখনো এমনটি চায়নি। নাগরিক সমাজ মনে করে এখানে নদ খননের নামে অর্থ লোটপাট হয়েছে। তাই নদের নাব্যতা ফিরে না আসা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।এসময় অনান্য বক্তারা বলেন, দখল, দূষণ আর পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্য ফিরিয়ে আনতে ২০১৯ সালের শেষের দিকে শুরু হয় খনন কাজ। প্রায় দুই হাজার ৭৬৩কোটি টাকা ব্যয়ে নদের ২২৭ কিলোমিটার খনন করছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিওটিএ)। খননের পর যমুনা-ব্রহ্মপুত্রের সংযোগস্থল জামালপুরের কুলকান্দি থেকে কিশোরগঞ্জের টোক পর্যন্ত নদটি ৩০০ ফিট প্রশস্ত ও শুস্ক মৌসুমে ১০ ফুট গভীর থাকবে এমনটি কথা ছিলো। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কাঙ্খিত কোন খনন হয়নি।গ্রাহক গ্যাস পাইপ লাইন নির্মাণ ঠিকাদার ঐক্য ফেডারেশনের জেলা সভাপতি রমজান আলী খন্দকার বলেন, সাত থেকে আট বছর আগে হঠাৎ করে তিতাস গ্যাসের সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়। এখনো পর্যন্ত চালুর কোন উদ্যোগ আমরা দেখতে পায়নি। প্রায় ২ লাখ ২০ হাজারের মতো গ্রাহক টাকা জমা দিয়ে রেখেছে। তাদের চাপে আমরা অনেকটাই কোনঠাসা। আশা করি সরকার দ্রুত বিষয়টি সুরাহা করবে।জানা গেছে, দখল, দূষণ আর পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে ২০১৯ সালের শেষের দিকে শুরু হয় খননকাজ। প্রায় দুই হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নদের ২২৭ কিলোমিটার খনন করছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিওটিএ)। খননের পর যমুনা-ব্রহ্মপুত্রের সংযোগস্থল জামালপুরের কুলকান্দি থেকে কিশোরগঞ্জের টোক পর্যন্ত নদটি ৩০০ ফিট প্রশস্ত ও শুস্ক মৌসুমে ১০ ফুট গভীর থাকবে এমনটি কথা ছিলো।পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্যতা উন্নয়নে ড্রেজিং’ শীর্ষক প্রকল্পটি আগামী ২০২৪ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। পাঁচ বছরমেয়াদি প্রকল্পের প্রথম দুই বছর নদের ড্রেজিং এবং পরবর্তী তিন বছর রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করার কথা ছিলো। চলতি বছরের জুন-জুলাই থেকে থেকে ঢাকা পর্যন্ত বার্জ চলার কথা ছিল। গেল বছর ময়মনসিংহ এক সভায় এমন কথা জানিয়েছিলেন ব্রহ্মপুত্র নদ খননের প্রধান প্রকল্প সমন্বয়কারী প্রকৌশলী খন্দকার রাকিবুল ইসলাম।
Leave a Reply