রাজধানী মোহাম্মদপুর, মোহাম্মাদিয়া সোসাইটির ৬ নাম্বার রোডে অবস্থিত ‘ রবি রেফ্রিজারেটর এন্ড ইলেকট্রিক ওয়াকর্স’ নামের প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন যাবত নতুন ফ্রিজ বিক্রির নামে ক্রেতাদের সাথে প্রতারণা করে আসছে। bikroy.com সহ বিভিন্ন অনলাইন সাইটে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা হয়। এতে করে মোবাইলে যোগাযোগের মাধ্যমে ক্রেতারা ঐ প্রতিষ্ঠানটিতে গিয়ে ফ্রিজ কিনে প্রতারণা শিকার হয়।
ফ্রিজ বিক্রি করতে যদিও বিভিন্ন ব্র্যান্ড ওয়ালটন, সিঙ্গার, এলজি সহ নামিদামি ব্র্যান্ডের নামে পুরাতন নষ্ট ফ্রিজ নতুন বলে বিক্রি চালিয়ে যায়। নামিদামি ব্র্যান্ডের স্টক মাল হিসেবেও তারা নষ্ট ফ্রিজ গুলো বিক্রি করে থাকে। তাদের জিজ্ঞাসা করা হলে এসব ফ্রিজ কোত্থেকে আসে, কিভাবে আসে? তার সঠিক জবাব না দিয়ে এড়িয়ে যায়।
পুরাতন নন ব্যান্ড ফ্রিজ রং স্প্রে করার মাধ্যমে চকচকে নতুন করে তুলে। এতে করে ফ্রিজ গুলো দেখতে নতুনের মতই লাগে। এমনকি চালিয়েও দেখায় ভালো ফ্রিজ কিন্তু গ্যারান্টি দিতে পারেনা। গ্যারান্টি না দেওয়ার কারণে পুরাতন ফ্রিজ বাসায় নিয়ে প্রতারিত হয় ক্রেতাগণ। কারণ ফ্রিজ রিপ্লেস করার কোন অপশন না রাখায় টাকা ফেরত দেয় না।
প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে ফ্রিজ কিনে প্রতারিত হওয়া এক ব্যক্তি সাংবাদিকদের জানান, আমি গত কয়েকদিন আগে মোহাম্মদপুরে ‘রবি রেফ্রিজারেটর এন্ড ইলেকট্রিক ওয়াকর্স’ প্রতিষ্ঠানটি থেকে একটি রিকন্ডিশন ফ্রিজ কিনি। প্রতিষ্ঠানটির মালিক আমাকে বলছে এটা সিঙ্গারের স্টকে ঢাকা থাকা ফ্রিজ। অনেক ভালো ৫০% বিদ্যুৎ সাশ্রয়। ফ্রিজটি একদিনও ব্যবহার হয়নি। নতুন রিকন্ডিশন স্টক মাল। আমিও মনে করলাম ১২-১৩ হাজার টাকায় ভালো ফ্রিজ। তাই কিনে নিলাম একটি ফ্রিজ।
ফ্রিজটি ১০ মিনিট বিদ্যুৎ দিয়ে হালকা ঠান্ডা আসার পর বলে ফ্রিজ অনেক ভালো। অনেকদিন পর্যন্ত ব্যবহার করার যোগ্য। আমি বললাম ভাই গ্যারান্টি কয়দিন, উনি বললেন আমি গ্যারান্টি দিই না। আমি বললাম, আপনি তো বললেন এটা অনেকদিন চলবে তাহলে গ্যারান্টি দিতে পারবেন না কেন? আমার কথা শুনে তিনি বললেন তাহলে আপনাকে এক সপ্তাহ গ্যারান্টি দিলাম। আমিও ভালো কোন মনে করে মেনে নিলাম। বাসায় এসে ফ্রিজটি দু-তিন ঘন্টা রেখে ঠান্ডা করে বিদ্যুতে সংযোগ করলাম।
তারপর ফ্রিজের ভিতরে এক কাপ পানি দিয়ে দুই-তিন ঘন্টা অপেক্ষা করলাম। পরীক্ষা পরীক্ষা করলাম ফ্রিজটি ঠিক আছে কিনা। কিন্তু দুই তিন ঘন্টা যাওয়ার পরও পানি ঠান্ডা হচ্ছে না। এভাবে সারারাত ফ্রিজটি চালু রাখলাম ঠান্ডা হয় কিনা দেখার জন্য। সকালে উঠে দেখলাম পানি ঠান্ডা হচ্ছে না! বরফ হচ্ছে না। তারপর রবি ভাইকে ফোন দিয়ে জানাই। তিনি বললেন ভাই আপনাদের এলাকার একজন মেকানিক দেখেন ঠিক হয়ে যাবে। তারপর খুঁজে একজন ভালো মেকানিক দেখালাম। মেকানিক সবকিছু দেখে বলল ভাই আপনার ফ্রিজে সমস্যা আছে অনেক ঠিক করতে চার হাজার টাকা লাগবে।
তারপর রবি ভাই কে ফোন দিয়ে জানাই, তিনি বলেন যে নিয়ে আসেন আমার প্রতিষ্ঠানে। নিয়ে যাওয়ার পর ফ্রিজটি ঠিক করতে তিনি ব্যর্থ হয়ে আমাকে বললেন ভাই অন্য একটা ফ্রিজ পছন্দ করেন। আরে ঠিক হচ্ছে না। আমি বললাম কেন আপনি তো বললেন এটা ভালো ফ্রিজ। তিনি বললেন ভাই এটা ইলেকট্রিক জিনিস নষ্ট হতেই পারে। তারপর অন্য একটা প্লিজ পছন্দ করি, তা নিয়ে আসি। তারপর দেখি এটাতেও সমস্যা। সমস্যা নিয়ে এক মাস কাটালাম। এদিকে বিদ্যুৎ বিল দেখে আমি হতবাক ১৯৫ ইউনিট খরচ হয়েছে। যা ফ্রিজ আনার পূর্বে ৪০-৫০ ইউনিট ব্যবহার হতো। আমি রবি ভাইকে ফোন করে এ তথ্য জানাই। তিনি বিশ্বাস করেননি।
তারপর ফ্রিজটি আমি মোহাম্মদপুরে তার প্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে দিই। আমি গিয়ে তাকে জানাই ভাই আমার ফ্রিজ লাগবে না আমার টাকা ফেরত দেন। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। ফ্রিজ ঠিক করে দিবে কিন্তু টাকা ফেরত দিবেন না। আমি বললাম আপনি আমাকে দুইবার দুইটা ফ্রিজ দিয়েছেন। দুটি ফ্রিজই নষ্ট ছিলো। আমি নষ্ট ফ্রিজ নিব না আপনি আমার টাকা ফেরত দেন। তিনি আবারও টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান।
সরেজমিনে, সাংবাদিকরা প্রতিষ্ঠানটির মালিকের সাথে কথা বলেন। আপনার ব্র্যান্ডের নামে নষ্ট প্লিজে রং স্পে মাধ্যমে চকচকে করে জনসাধারণের কাছে বিক্রি করছেন। ফ্রিজের গ্যারান্টিও দিচ্ছেন না। আবার বলছেন ভালো ফ্রিজ। ভালো হলে গ্যারান্টি দিচ্ছেন না কেন? বলেন আমি এ ভাবেই ব্যবসা করে আসছি আমার তো কোন সমস্যা হচ্ছে না। আমি ভালো জিনিস দিচ্ছি বাড়িতে গেলে নষ্ট হচ্ছে, এতে আমার করার কি। আর এটা সিঙ্গারের স্টক মাল সমস্যা থাকতেই পারে। আমি সিঙ্গার থেকে স্টক মালগুলো কিনে আনি আর বিক্রি করি। তাকে সিঙ্গারের মানি রিসিপ দেখাতে বলি কিন্তু তিনি দেখাতে পারলেন না। তিনি ভোক্তা অধিকার হরণ করছে। তার কাছ থেকে রাজধানীর ম্যাচে থাকা শিক্ষার্থী অথবা চাকরিজীবী ব্যাচেলরাই কম টাকায় ফ্রিজ কিনে প্রতারিত হয়।
পরিশেষে বলি, দেশে এমন হাজারো প্রতারক আছে। যারা প্রতিনিয়ত ভোক্তা অধিকার হরণ করে। কিন্তু আইন না জানায় ক্রেতারা প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারছে না জনসাধারণ। আমরা ভোক্তা অধিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তাকে যেন আইনের আওতায় নিয়ে সঠিক শাস্তি প্রদান করা হয়। আর যারা এখনো bikroy.com এ দেওয়া আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দেখে তার কাছ থেকে ফ্রিজ কিনতে ইচ্ছুক। একটু ভেবেচিন্তে পতারক থেকে প্লিজ কিনুন। প্রতারক একবার টাকা নিলে আর টাকা ফেরত পাবেন না। আপনাকে আইনের আশ্রয় নিতে হবে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক রবি একজন প্রতারক।
Leave a Reply