নড়াইলে সদর উপজেলায় জেলা প্রশাসনের অভিযানে সেই সন্ত্রাসী জামায়াত নেতার ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে কাঠ পুড়িয়ে অবৈধ কয়লা তৈরির ভাটাতে অভিযান চালিয়ে আটটি চুল্লি ধ্বংস করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসন।
১৪ সেপ্টেম্বর (সোমবার) দুপুরে উপজেলার বিছালী ইউনিয়নের আটঘরা এলাকায় স্থানীয় জামায়াত নেতা হাসিবুর মোল্যার কয়লা ভাটাতে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ধ্বংসের আদেশ দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার মো.রুবেল শেখ।
পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে নড়াইল সদর উপজেলার বিছালী ইউনিয়নের আটঘরা এলাকায় একটি বাগানের মধ্যে অবৈধভাবে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা ভাটাতে কয়লা উৎপাদন করছিলো স্থানীয় ইউনিয়ন জামায়াতের যুব বিভাগের সভাপতি হাসিবুর মোল্যা।
পরিবেশ ও জনজীবনের ওপর মারাত্মক ভাবে ক্ষতিকর ও অবৈধ ও বেআইনি কয়লা ভাটা। জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর সহকারী পরিচালক আব্দুল মালেক মিয়া এবং জেলা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সার্বিক সহযোগিতায় যৌথ অভিযান চালান পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসন।
ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারকের নির্দেশে কয়লা ভাটার আটটি চুল্লি ভেঙে গুড়িয়ে দেয়া হয়। এসময় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা জ্বলন্ত চুলের আগুন নির্বাপণ করেন। অভিযানের খবরে ভাটার কর্মরত শ্রমিক ও মালিক পালিয়ে যায়। একটি ট্রলি ও ভাটায় ব্যবহৃত গাছ জব্দ করে জেলা প্রশাসন।
এর আগে, গত ১২ সেপ্টেম্বর ওই এলাকায় অধৈধ কয়লা ভাটার সংবাদ সংগ্রহে যান সময় টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি সৈয়দ সজিবুর রহমান ও স্থানীয় আরেকজন সংবাদকর্মী রাসেল হুসাইন। সংবাদ সংগ্রহ শেষে খবর প্রচার না করতে টাকা দিয়ে ম্যানেজের চেষ্টা করেন কয়লা ভাটার মালিক স্থানীয় বিছালী ইউনিয়নের প্রভাবশালী ওই জামায়াতের যুব বিভাগের সভাপতি হাবিবুর মোল্যা। টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানালে মব সৃষ্টি করে সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করেন ওই জামায়াত নেতা ও তার অনুসারীরা। ওই ঘটনার ২ দিন পর জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে জামায়াত নেতার অবৈধ কয়লা ভাটা ধ্বংস করে দেন৷
এ বিষয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো রুবেল শেখ এর কাছে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করা হচ্ছে এটা সম্পূর্ণ অবৈধ এর বিরুদ্ধে স্থানীয় জনগণ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রচারিত হয়।যেটি জেলা প্রশাসনের নজরে আসে। কয়লা ভাটার নির্গত ধোয়া (কার্বন মনোক্সাইড) পরিবেশ ও মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর৷ সম্পূর্ণ অবৈধ ভাটাটির খবরে আমরা অভিযান পরিচালনা করি। এসময় ভাটায় কর্মরতরা পালিয়ে যান৷ আমরা চুল্লিগুলো সম্পূর্ণ রূপে ধ্বংস করে দিয়েছি। কাঠ ও একটি ট্রলি জব্দ করা হয়েছে। অবৈধ কাজের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
Leave a Reply