ডিমলা উপজেলায় শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক মানবিক উদ্যোগ আজ বাস্তবে রূপ নেয়। আর.বি.আর ছাত্র সংঘ ও ডিমলা উপজেলার সর্বস্তরের শিক্ষার্থীদের যৌথ উদ্যোগে ডিমলা আরবিআর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শতাধিক শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।
শীতের কনকনে সকালে যখন চারপাশ কুয়াশায় ঢাকা, তখন অসহায় মানুষদের কাঁপতে দেখা যায়। ঠিক সেই সময় তাদের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে আয়োজিত হয় এই কর্মসূচি। “শীতবস্ত্র বিতরণ” শীর্ষক এই উদ্যোগের মাধ্যমে বৃদ্ধ, শিশু ও অসচ্ছল মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হয় উষ্ণ শীতবস্ত্র।
উক্ত বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র এবং বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া শিক্ষার্থী মোঃ নুরনবী ইসলাম,নিয়াজ হোসেন বিশ্বাস,আবু বক্কর সিদ্দিক আকাশ, মুরসালিন ইসলাম রিয়াদ সহ আরো অনেকের উদ্যোগে আজ ১লা জানুয়ারি’২৬ বিদ্যালয়ের মাঠে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিমলা আরবিআর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুর আলম সিদ্দিকী বাবলু। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ ও শিক্ষার্থীরা যদি এমন মানবিক উদ্যোগে এগিয়ে আসে, তাহলে শীতার্ত মানুষের কষ্ট অনেকটাই লাঘব হবে।
এই ধরনের সামাজিক দায়বদ্ধতা শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উদ্যোগটি মানবিক ও আমার প্রিয় ছাত্রদের মহতি উদ্যোগকে সাধুবাদ ও সমর্থন করছি এবং তাদের জন্য দোয়া ভালোবাসা ও শুভকামনা রইল।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মোঃ রাসেল আহমেদ। তিনি বলেন, শীত শুধু একটি ঋতু নয়, দরিদ্র মানুষের জন্য এটি একটি কঠিন বাস্তবতা। আজকের এই আয়োজন প্রমাণ করে, সামান্য সহযোগিতাও কারো জীবনে বড় স্বস্তি এনে দিতে পারে।
শীতবস্ত্র বিতরণে উদ্যোগী শিক্ষার্থীরা জানায়“শীতের সকালে অনেকেই আমরা কাঁপতে দেখি অসহায় বৃদ্ধ, পীড়িত মানুষজন, কিশোর কিংবা কোন অনুজকে। তখন আমরা ব্যথিত হই। কষ্ট অনুভূত হয় মনে।
তাই আমরা প্রতিবারের ন্যায় এবারেও স্বল্প পরিসরে হলেও আমাদের কার্যক্রম “আজীবন মানুষের পাশে দাঁড়ানো।” (সিজন-০৩) উদ্যোগ নিয়েছি। আমাদের এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে আমরা ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে মানবিক এমন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি। আমরা স্বপ্ন দেখি একটি মানবিক বাংলাদেশের। হাসিখুসি জাতির।
অনুষ্ঠান শেষে শীতার্ত মানুষদের মুখে স্বস্তির হাসি ফুটে ওঠেছে। আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তারা বলেন, এই শীতে শীতবস্ত্র তাদের জন্য বড় উপহার।
আমরা অসহায় তাই এই শীতবস্ত্র আমাদের উপকারে আসবে । আমরা তাদের জন্য দোয়া করি যারা আমাদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে , কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের এই শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি ডিমলা উপজেলায় মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
Leave a Reply