1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
চেম্বার জজ আদালতে সভাপতির আবেদন খারিজ, দি চিটাগাং কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটির পক্ষে আদেশে সদস্যদের স্বস্তি - দৈনিক আমার সময়

চেম্বার জজ আদালতে সভাপতির আবেদন খারিজ, দি চিটাগাং কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটির পক্ষে আদেশে সদস্যদের স্বস্তি

‎জাকারিয়া হোসেন, চট্টগ্রাম
    প্রকাশিত : শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬

‎দি চিটাগাং কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটিকে ঘিরে চলমান বিরোধে উচ্চ আদালতের চেম্বার জজ আদালতে দায়ের করা সভাপতির আবেদন খারিজ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) আপিল বিভাগের ১৯ নম্বর তালিকাভুক্ত সিভিল পিটিশন নং-১৫৩৮/২০২৬ মামলায় বিচারপতি মোহাম্মদ রেজাউল হকের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত দ্বৈত শুনানিতে সভাপতি ওয়াহিদ মালেকের দায়ের করা আবেদনের ওপর “No Order and Disposed Of” আদেশ প্রদান করা হয়। এর ফলে সোসাইটির পক্ষে পূর্বের আদেশ বহাল থাকায় সদস্যদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
‎মামলায় বাদী ছিলেন সভাপতি ওয়াহিদ মালেক এবং অপরপক্ষে ছিলেন দি চিটাগাং কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লিমিটেডের সম্পাদক মুহাম্মদ সাইফুদ্দীন।
‎সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোসাইটির বার্ষিক সাধারণ সভা-২০২৬ ও দাপ্তরিক কার্যক্রম নিয়ে বিরোধের জেরে আদালতে একাধিক আবেদন করা হয়। তবে সর্বশেষ চেম্বার জজ আদালতের আদেশে সোসাইটির কার্যক্রম পরিচালনায় সভাপতি কর্তৃক বিধিবহির্ভূত একতরফা সিদ্ধান্ত ও জোর খাঁটানোর সুযোগ আর থাকছে না বলে মনে করছেন সদস্যরা। একইসঙ্গে সোসাইটির নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনায় কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও অনেকটাই কেটে গেছে বলে তারা মনে করছেন।
‎এদিকে সাধারণ সদস্যদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলা সাংগঠনিক অস্থিরতার কারণে সোসাইটির কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল। আদালতের এ আদেশের ফলে সেই অনিশ্চয়তা অনেকটাই দূর হবে এবং নিয়মিত কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।
‎জানা গেছে, গত ১৬ মে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভার পর সোসাইটির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আরও তীব্র আকার ধারণ করে। অভিযোগ ওঠে, সভাপতি সদস্যদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং একক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিভিন্ন উপ-কমিটি গঠন করেছেন। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সোসাইটির অভ্যন্তরে অসন্তোষ বিরাজ করছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
‎আরও জানা যায়, সমবায় নীতিমালা উপেক্ষা করে সভাপতি ওয়াহিদ মালেক বিভিন্ন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্বাচিত সদস্যদের মতামত ছাড়াই গুরুত্বপূর্ণ উপ-কমিটি গঠন, অশালীন ভাষা ব্যবহার এবং দাপ্তরিক কাজে হস্তক্ষেপের মতো কর্মকাণ্ড সোসাইটির স্বাভাবিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
‎বিশেষ করে ‘জমি ক্রয় ও প্রকল্প বাস্তবায়ন’ উপ-কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে সভাপতির নিজেকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সম্পাদক পক্ষের দাবি, এতে আর্থিক অনিয়মের সুযোগ তৈরি হতে পারে, যা সমবায় নীতিমালা ও নৈতিকতার পরিপন্থী।
‎এ ঘটনায় সম্পাদক বাদী হয়ে সভাপতির বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের তৃতীয় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন। পরে ওই মামলায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করা হলে বিষয়টি উচ্চ আদালতে গড়ায়।
‎পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের বিচারপতি এস এম কুদ্দুছ জামান ও বিচারপতি তামান্না রহমান খালিদীর সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ গত ১১ মে শুনানি শেষে রুল জারি করেন। একইসঙ্গে সভাপতির স্বাক্ষরিত বিভিন্ন মিটিং ও কার্যক্রম, ১৬ মে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভা এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলোর ওপর স্থিতাবস্থা জারি করা হয়। পাশাপাশি সভাপতির পরবর্তী এক বছরের জন্য নিষেধাজ্ঞাও প্রদান করেন আদালত।
‎আদালতের এ আদেশের পর সোসাইটির সাধারণ সদস্যদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানা গেছে। অনেক সদস্য মনে করছেন, এ পদক্ষেপ সোসাইটির সাংগঠনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সদস্যদের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com