চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে (চসিক) প্রতিষ্ঠানের প্রচলিত নিয়মনীতি ও সিনিয়রিটি উপেক্ষা করে সিনিয়রিটি তালিকায় দশম স্থানে থাকা এক ডিপ্লোমা প্রকৌশলীকে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংস্থাটির প্রকৌশল বিভাগে ব্যাপক ক্ষোভ, অসন্তোষ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ পেলেও ২০২২ সালে নবম গ্রেডে সহকারী প্রকৌশলী পদে একসঙ্গে পাঁচজন কর্মকর্তা যোগদান করেন। তাদের মধ্যে জাহিদুর রশিদ ভূঁইয়া উপসহকারী প্রকৌশলী পদ থেকে ২০২৪ সালে পদোন্নতি পেয়ে সহকারী প্রকৌশলী হন। বর্তমানে সহকারী প্রকৌশলীদের সিনিয়রিটি তালিকায় তার অবস্থান দশম।
অভিযোগ রয়েছে, তার ওপরে পাঁচজন বিএসসি প্রকৌশলী এবং চারজন সিনিয়র ডিপ্লোমা প্রকৌশলী থাকা সত্ত্বেও তাদের ডিঙিয়ে জাহিদুর রশিদ ভূঁইয়াকে নির্বাহী প্রকৌশলীর সাময়িক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তকে অনেক কর্মকর্তা প্রতিষ্ঠানের প্রচলিত নিয়ম ও প্রশাসনিক রীতিনীতির পরিপন্থী বলে মনে করছেন।
চসিক সচিবের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকজন কর্মকর্তার যোগসাজশে তাকে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে সাময়িকভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, সিটি কর্পোরেশনে অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি পদোন্নতি না দিয়ে প্রথমে ‘দায়িত্ব প্রদান’ করা হয় এবং পরবর্তীতে তা নিয়মিতকরণের চিঠি জারি করা হয়। ফলে এই ধরনের দায়িত্ব প্রদানকে ঘিরে নানা প্রশ্ন ও বিতর্কের জন্ম হয় এবং এতে অনিয়মের সুযোগ থেকে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে জাহিদুর রশিদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও আলোচনা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদের সদস্য এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের বিরোধী অবস্থানে ছিলেন বলে পরিচিত।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে জাহিদুর রশিদ ভূঁইয়া এ প্রতিবেদককে বলেন, এ ব্যাপারে সচিবের সঙ্গে বসে আলোচনা করলে ভালো হবে। বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদের সদস্যপদ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চসিকের প্রকৌশলী আশিকুর রহমান বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল তৈরি ও বঙ্গবন্ধু পরিষদ গঠনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
সিনিয়রিটি লঙ্ঘন করে এই নিয়োগের ফলে সংস্থার অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন কর্মরত সিনিয়র প্রকৌশলীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। অনেকেই বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চসিকের সচিবের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
Leave a Reply