1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
‎কৃষক দল নেতার প্রভাব খাটিয়ে বাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী - দৈনিক আমার সময়

‎কৃষক দল নেতার প্রভাব খাটিয়ে বাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী

জাকারিয়া হোসেন, চট্টগ্রাম
    প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর থানার জে-ব্লক এলাকার বাড়ি নম্বর-৮ (শান্তিলজ)-এর মালিক এস. এম. সহিদ উল্লাহ পাবেল তার বাড়ি ও সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা, পরিবারকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হামলা, নির্যাতন, লুটপাট এবং একের পর এক মিথ্যা মামলার মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
‎মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম একাডেমি হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তিনি। এ সময় পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে সহিদ উল্লাহ পাবেল অভিযোগ করেন, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে একটি প্রভাবশালী মহল রাজনৈতিক পরিচয়কে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে তাকে এবং তার পরিবারকে চরম দুর্ভোগের মধ্যে ফেলেছে।
‎তিনি বলেন, বর্তমানে তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বসবাস করছে। বাড়ির মালিক হয়েও তারা নিজ বাড়িতে বন্দি জীবনযাপন করছেন। প্রতিনিয়ত হুমকি, ভয়ভীতি এবং মামলার আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের।
‎লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, তার বাসার ভাড়াটিয়া মোহাম্মদ কাউছার এবং ইসতিয়াক রহমান মনা দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের সুবিধা নিয়ে আসছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মনা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বছরের পর বছর ভাড়া পরিশোধ না করে বাসায় অবস্থান করেন। অন্যদিকে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় কাউছার বিএনপির অঙ্গসংগঠন কৃষক দলের পরিচয় ব্যবহার করে একইভাবে প্রভাব বিস্তার করছেন বলে দাবি করেন তিনি।
‎সহিদ উল্লাহ পাবেল বলেন, যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, তখন সেই দলের পরিচয় ব্যবহার করে সুবিধা নেওয়া তাদের পুরোনো অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ভাড়া বকেয়া রাখা, বাড়ির মালিককে ভয়ভীতি দেখানো, বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করার চেষ্টা এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য।
‎তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২১ সালের ২৯ আগস্ট কাউছার ও মনা তাদের সহযোগীদের নিয়ে তার বাসায় হামলা চালায়। এ সময় জোরপূর্বক তিনটি স্বাক্ষরিত চেক নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ওই চেক ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। তার দাবি, মামলাগুলো পরিকল্পিত এবং সম্পূর্ণ মিথ্যা।
‎সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাকে আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে অপপ্রচার চালানো হয়। এরপর তার বাড়িতে হামলা করা হয়। মাত্র পাঁচ দিন পর, ১০ আগস্ট তার অনুপস্থিতির সুযোগে বাড়িতে প্রবেশ করে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে তার স্ত্রীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়। পরিবারের নারী সদস্যদের সঙ্গেও অশোভন আচরণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
‎ঘটনার পর তিনি হালিশহর আর্মি ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয় পক্ষকে আইনগত প্রক্রিয়ায় বিষয়টি সমাধানের নির্দেশনা দেন। তবে সেই নির্দেশনার পরও অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
‎চলতি বছরের ১০ এপ্রিল বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য না থাকার সুযোগে পানির সংযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানান সহিদ উল্লাহ পাবেল। তার অভিযোগ, এ সময় কাউছার, তার স্ত্রী ও শ্যালক মিলে তার স্ত্রীর ওপর হামলা চালায়। হামলায় তার দুই শিশুসন্তানও আহত হয়। পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। প্রথমদিকে থানায় মামলা নিতে গড়িমসি করা হলেও পরবর্তীতে মামলা গ্রহণ করা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
‎সংবাদ সম্মেলনে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়ও তুলে ধরা হয়। সহিদ উল্লাহ পাবেল দাবি করেন, কাউছার তার আইনজীবীর মাধ্যমে স্বীকার করেছেন যে তিনি তার কাছ থেকে মোট ২ লাখ ১ হাজার টাকা গ্রহণ করেছেন। তবে আরও ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা গ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে। অথচ ওই অর্থ লেনদেনের বিভিন্ন প্রমাণ ও নথি তার কাছে রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
‎এছাড়া একটি সালিশ বৈঠকের লিখিত নথিতে হালিশহর থানায় ১ লাখ ৫ হাজার টাকা, ডিবিতে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং সন্ত্রাসীদের ২ লাখ টাকা দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে বলেও তিনি সাংবাদিকদের জানান। এসব অর্থ কেন এবং কার স্বার্থে দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত দাবি করেন তিনি।
‎সংবাদ সম্মেলনে আবেগাপ্লুত হয়ে সহিদ উল্লাহ পাবেল বলেন, আমার বয়স ৫৩ বছর। জীবনে কখনো কোনো ফৌজদারি মামলার আসামি হইনি, কারাগারেও যাইনি। কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। অথচ আজ আমাকে আমার নিজের বাড়ি রক্ষার জন্য সংবাদ সম্মেলন করতে হচ্ছে। শুধু সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে আমার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।
‎তিনি আরও বলেন, তার কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। বর্তমানে হালিশহর জে-ব্লক সমাজকল্যাণ পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি সবুজ মেলা ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্বে রয়েছেন।
‎সংবাদ সম্মেলনের শেষে তিনি প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কাছে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন। একই সঙ্গে তার পরিবার ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
‎সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এস. এম. শহীদুল্লাহ, আয়েশা আক্তার পপি, হাসনা আক্তার, রাশেদা আক্তার এবং আব্দুর রহমান লিটন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com