রাজধানীর গুলশানের একটি অভিজাত হোটেলে গতকাল আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টি (জিএম কাদেরের অংশ) একযোগে দেশের ২৪৩টি সংসদীয় আসনে দলীয় মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে। এর অংশ হিসেবে কক্সবাজার জেলার চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে দলটি
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। তিনি জানান, কক্সবাজার-১ আসন আপাতত খালি রাখা হয়েছে। তবে মহেশখালী ও কুতুবদিয়া নিয়ে গঠিত কক্সবাজার-২ আসনে মাহমুদুল করিম, কক্সবাজার সদর, রামু ও ঈদগাঁও নিয়ে গঠিত কক্সবাজার-৩ আসনে মফিজুর রহমান এবং উখিয়া ও টেকনাফ নিয়ে গঠিত কক্সবাজার-৪ আসনে নুরুল আমিন সিকদার ভুট্টোকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পাশাপাশি নির্বাচনী পরিবেশ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব। তিনি স্পষ্ট করে জানান, ভোটের মাঠে সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত না হলে জাতীয় পার্টি নির্বাচন থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, জাতীয় পার্টি সব সময়ই এ দেশের জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। অতীতেও জনগণের যে কোনো রায় আমরা মেনে নিয়েছি, ভবিষ্যতেও সেই নীতিতেই অটল থাকব।
তিনি আরও বলেন, যাচাই-বাছাই শেষে আজ আমরা আমাদের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করছি। তবে এখনো আমরা আশাবাদী- অন্তর্বর্তী সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করবে এবং জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় পার্টির এই বক্তব্য কেবল আনুষ্ঠানিক নয়; বরং এটি নির্বাচনকালীন পরিবেশ নিয়ে দলের কৌশলগত অবস্থানকেই তুলে ধরছে। প্রার্থী ঘোষণা করেও নির্বাচন বর্জনের সম্ভাবনার কথা প্রকাশ্যে বলা জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট বার্তা- তারা নির্বাচনে থাকতে চায়, তবে শর্তসাপেক্ষে।
কক্সবাজারের মতো রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জেলার তিনটি আসনে প্রার্থী ঘোষণাকে জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সক্রিয়তার ইঙ্গিত হিসেবেও দেখছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে কক্সবাজার-১ আসন খালি রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েও নানা রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের আলোচনা শুরু হয়েছে।
Leave a Reply