1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
ঈদে এবার চলবে ২০ জোড়া বিশেষ ট্রেন - দৈনিক আমার সময়

ঈদে এবার চলবে ২০ জোড়া বিশেষ ট্রেন

আমার সময় অনলাইন
    প্রকাশিত : সোমবার, ৩ জুন, ২০২৪

ঈদে ঘরমুখো মানুষের বাড়তি চাপ সামলাতে সারাদেশে ঈদুল আজহা উপলক্ষে এবার ২০টি বিশেষ ট্রেন চালানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। রেলওয়ের বহরে যুক্ত হবে ১৯০ টি কোচ। এরমধ্যে পূর্বাঞ্চলে ৯০ টি আর পশ্চিমাঞ্চলে ১০০ টি কোচ যুক্ত করার লক্ষে ওয়ার্কসপে দিনরাত চলছে মেরামত কাজ। পূর্বাঞ্চলে ইতিমধ্যে ৭০ টি কোচের মেরামত সম্পন্ন করা হয়েছে। বাকিগুলো মেরামতের কাজ চলছে পুরোদমে। যথাসময়ে ট্রাফিক বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান যন্ত্র প্রকৌশলী তাপস কুমার দাস। একইভাবে সমানতালে পশ্চিমাঞ্চলের সৈয়দপুর কারখানায় চলছে কোচ ও ইঞ্জিন মেরামত কাজ।

সম্প্রতি ইঞ্জিন ও চালক সংকটে কয়েকটি ট্রেন বন্ধ হওয়ার বিষয়ে তাপস কুমার বলেন, ট্রেনগুলো চালু করা হয়েছিল ঈদ স্পেশাল হিসেবে। যেহেতু সামনে আবার ঈদ চলে এসেছে তাই আমাদের প্রস্তুতির ব্যপার আছে। তাই ঈদে যাত্রীসেবা নির্বিঘ্ন করতে কয়েকদিনের জন্য বন্ধ করা হয়েছে। আমাদের পূর্বাঞ্চলে ১১৬ টি ইঞ্জিন চাহিদার বিপরীতে আছে ৯০ টি। গড়ে ২৬ টার মতো মিটারগ্যাজ ইঞ্জিন সংকট রয়েছে। একইভাবে চালক সংকটেও ভুগছি আমরা। পূর্বাঞ্চলে ১২৫৪ জন চালক ও সহকারী চালকের বিপরীত কর্মরত আছে মাত্র ৬১১ জন ঘাটতি ৬৪৩ জন। শতকরা হিসেবে ৫১ শতাংশ চালক সংকট আছে। আবার চালক আছে মাত্র   ৩৭ শতাংশ, এক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে ৬৩ শতাংশ।
বর্তমানে পূবাঞ্চলে ১১২৪ টি যাত্রীবাহি কোচ রয়েছে তবে চালু আছে ৯৫০ টি। এরমধ্যে আন্ত:নগর ৭৯৫টি ও ২য় শ্রেণির আছে ১৫৫ টি। ইঞ্জিন ও চালক সংকট ঈদে কোন প্রভাব পড়বে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঈদ স্পেশাল চালাতে কোন সমস্যা হবে না, আমাদের মালবাহী গাড়ির জন্য যেসব ইঞ্জিন ও চালক রয়েছে তাদেরকে যুক্ত করে ঈদ স্পেশাল সার্ভিস ঠিকমতো দেয়া যাবে।  কারন ওই সময়টাতে মালবাহী গাড়ি তেমন একটা চলবেনা। তবে জোড়াতালি দিয়ে খুব বেশিদূর যাওয়া মুশকিল। ৩০ টি মিটারগেজ ইঞ্জিন আমদানি করার কথা রয়েছে,  এগুলো আসতে আসতে আবার অনেকগুলো রিজেক্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সংকট কাটাতে দ্রত জনবল নিয়োগ, ইঞ্জিন ও কোচ আমদানি করা জরুরি। ঈদ স্পেশালের বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহা ব্যবস্থাপক (জিএম) নাজমুল ইসলাম বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, আমরা সবসময় চেষ্টা করছি যাত্রীদের নিরবিচ্ছিন্ন সেবা দেয়ার জন্য। আর এজন্য আমাদের প্রত্যেকেরই যথেষ্ঠ আন্তরিকতা রয়েছে। ঈদ স্পেশালের জন্য কোচ মেরামতের কাজ চলমান আছে। যথাসময়ে কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি। ইঞ্জিন সংকটও থাকবেনা ফলে ঈদে ঘরমুখো মানুষের সেবা সহজভাবেই শেষ করা যাবে বলে আশা করছি।রেলওয়ে সুত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬-৯৭ সালে দেশে মোট ২৮৪টি লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) ছিল। ২০০৫ সালের ৩০শে জুন পর্যন্ত দেশে মোট ২৫৩টি ডিজেল ইলেক্ট্রিক ছিল। এরমধ্যে ৬৮টি ব্রডগ্যাজ (বিজি) ও ১৮৫টি মিটারগ্যাজ (এমজি) এবং ৩৩টি ডিজেল-হাইড্রোলিক (১০টি বিজি ও ২৩টি এমজি) লোকোমোটিভ ছিলো।১৯৯৬-৯৭ সালে বাংলাদেশে ১,২৪৫টি প্যাসেঞ্জার কোচ ছিল, ১৫২টি অন্যান্য কোচ এবং ১২,৯৪৮টি মালবাহী ওয়াগন ছিল। ২০০৪-২০০৫ সালের শেষের দিকে দেশে মোট ১৪০৬টি যাত্রীবাহী কোচ ছিল। এছাড়াও রয়েছে ১০২৩৬টি ওয়াগন, যার মধ্যে ৭৩১০টি কাভার্ড, ১১১৫টি খোলা এবং ১৮১১টি বিশেষ শ্রেণীর ওয়াগন।প্রায় ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ডিজেল-ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট (ডেমু) ট্রেন বাংলাদেশে সর্বপ্রথম যাত্রা শুরু করে ২০১৩ সালের ২৪শে এপ্রিল। মোট ২০ সেট মিটার গেজ ডেমু চীনের থাংশান রেলওয়ে ভেহিকেল কোঃ লিঃ প্রস্তুত করে। এসব ট্রেন সাধারণত ছোট ছোট রেল রুটে চলাচল করে, প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের সাথে বড় বড় শহরাঞ্চলের যোগাযোগ রক্ষার লক্ষ্যে। এছাড়াও ঢাকা মেট্রো রেলে ইলেক্ট্রিক মাল্টিপল ইউনিটের (এমু) ব্যবহার হয়ে আসছে। তবে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে ডেমু ট্রেন।বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ে ডিজেল-ইলেক্ট্রিক ও ডিজেল-হাইড্রোলিক লোকোমোটিভ পরিচালনা করে। পুরনো সকল বাষ্পীয় লোকোমোটিভ ৮০-এর দশকে বাতিল ঘোষণা করা হয়। কিছু বাষ্পীয় লোকোমোটিভ সংরক্ষণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য ঈদ উপলক্ষে ২০ জোড়া স্পেশাল ট্রেনের মধ্যে চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটে চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল ট্রেন চলবে দুই জোড়া। ঢাকা- দেওয়ানগঞ্জ রুটে দেওয়ানগঞ্জ ঈদ স্পেশাল এক জোড়া, চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহ রুটে ময়মনসিংহ ঈদ স্পেশাল এক জোড়া, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রুটে কক্সবাজার ঈদ স্পেশাল এক জোড়া, ভৈরব বাজার-কিশোরগঞ্জ এবং ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ রুটে শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল ও গোর-এ- শহীদ ঈদ স্পেশাল দুই জোড়া, জয়দেবপুর-পার্বতীপুর রুটে পার্বতীপুর ঈদ স্পেশাল এক জোড়া ট্রেন চলবে।
এছাড়া পার্বতীপুর- দিনাজপুর রুটে এবং ঠাকুরগাঁও-দিনাজপুর রুটে দুই জোড়া চলবে। চাঁদপুর, দেওয়ানগঞ্জ, ময়মনসিংহ, কক্সবাজার ঈদ স্পেশাল ট্রেনগুলো ১২ জুন থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত ও ঈদের পরদিন থেকে ৭ দিন চলাচল করবে। শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল ও গোর-এ- শহীদ ঈদ স্পেশাল শুধুমাত্র ঈদের দিন চলাচল করবে। পার্বতীপুর ঈদ স্পেশাল ১৩ জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত তিনদিন এবং ঈদের পরে ২১-২৩ জুন পর্যন্ত তিনদিন চলাচল করবে।এদিকে ২ জুন থেকে শুরু হয়েছে অগ্রিম টিকিট বিক্রি। ১২ জুনের টিকিট ২ জুন, ১৩ জুনের টিকিট ৩ জুন পাওয়া গেছে আর ১৪ জুনের টিকিট ৪ জুন, ১৫ জুনের টিকিট ৫ জুন এবং ১৬ জুনের টিকিট মিলবে ৬ জুন।এছাড়া ফিরতি যাত্রার টিকিট বিক্রি শুরু হবে ১০ জুন। এদিন ২০ জুনের টিকিট পাওয়া যাবে। আর ২১ জুনের টিকিট ১১ জুন, ২২ জুনের টিকিট ১২ জুন, ২৩ জুনের টিকিট ১৩ জুন এবং ২৪ জুনের অগ্রিম টিকিট মিলবে ১৪ জুন।
এছাড়া পশ্চিমাঞ্চলে কোরবানির পশু পরিবহনে ১২ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত এক জোড়া ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন পরিচালনা করা হবে। পূর্বাঞ্চলে কোরবানির পশু পরিবহনে ১২ জুন ক্যাটল স্পেশাল এক জোড়া এবং ১৩ জুন একটি ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন পরিচালনা করা হবে।
রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পশ্চিমাঞ্চলের সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট সকাল ৮টায় এবং পূর্বাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট দুপুর ২টা থেকে বিক্রি শুরু হবে। সব টিকিট বিক্রি হবে অনলাইনে। এছাড়া মোট আসনের ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট কাউন্টার থেকে বিক্রি হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com