1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
আইনজীবীরা মন্ত্রী হলেও বিচার বিভাগের সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণ করেছেন: আপিল বিভাগ - দৈনিক আমার সময়

আইনজীবীরা মন্ত্রী হলেও বিচার বিভাগের সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণ করেছেন: আপিল বিভাগ

নিজেস্ব প্রতিবেদক
    প্রকাশিত : বুধবার, ৩০ জুলাই, ২০২৫

অতীতের বিভিন্ন সময়ে আইনজীবীদের মধ্য থেকে সরকারের আইনমন্ত্রী হওয়া সত্তে¡ও তারা বিচার বিভাগের সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণ করে গেছেন বলে মন্তব্য করেছেন আপিল বিভাগ। ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ নিয়ে করা মামলার রিভিউ আবেদনের শুনানিকালে গতকাল বুধবার আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ মন্তব্য করেন। আদালতে রিভিউ আবেদনকারী মন্ত্রী পরিষদ সচিবের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার সালাউদ্দিন দোলন। বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের রিভিউ আবেদনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার নিহাদ কবির ও অ্যাডভোকেট প্রবীর নিয়োগী। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলদের আবেদনের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার এম আবদুল কাইয়ূম। রাষ্ট্রীয় পদমর্যাক্রম নিয়ে সিনিয়র আইনজীবী আহসানুল করিমের শুনানিকালে আপিল বিভাগ বলেন, আইনমন্ত্রী থেকে ফিরে এসে পরদিন আবার আমাদের বলে মাই লর্ড, এটা একটু শুনে দেন। বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী বলেন, সময় এসেছে এসব চেঞ্জ করার। সরকারি আমলারা ৬০ বছর বয়সে অবসরে যান, এরপর বার কাউন্সিলে পরীক্ষা দিয়ে আইনজীবী হয়ে যান। কেন এটা করতে হবে? কই আমরা তো যাই না তাদের ওখানে, যা বলি মন থেকে বলি। আপনারা এগুলো ঠিক করেন। পরে সব পক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষে রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম সংশোধন চাওয়া রিভিউ আবেদনের ওপর আগামী ৬ আগস্ট রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন আপিল বিভাগ। গত ৯ জানুয়ারি দেশের রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদার ক্রম ঠিক করতে আপিল বিভাগে দ্রæত রিভিউ শুনানির আবেদন করেছে বিচারকদের সংগঠন জুডিসিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। আবেদনটি করেছেন ব্যারিস্টার নিহাদ কবীর। সেদিন আইনজীবী আপিল বিভাগকে বলেন, রিভিউটির দ্রæত শুনানি হওয়া উচিত। কারণ রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রমের এটি ঠিক মতো হয় না। প্রসঙ্গত, রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী ১৯৮৬ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সে তৈরি করে তা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা হয়। ২০০০ সালে এটি সংশোধন করা হয়। সংশোধিত এ ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব আতাউর রহমান। ওই রিটের ওপর ২০১০ সালের ৪ ফেব্রæয়ারি হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে ওই ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সে বাতিল করে আট দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়। ২০১৫ সালের ১১ জানুয়ারি রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম ঠিক করে রায় দেন আপিল বিভাগ। যার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয় ২০১৬ সালের ১০ নভেম্বর। সেই রায়ে বলা হয়েছে- সংবিধান যেহেতু রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন, সেহেতু রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রমের শুরুতেই সাংবিধানিক পদাধিকারীদের গুরুত্ব অনুসারে রাখতে হবে; জেলা জজ ও সমমর্যাদার বিচার বিভাগীয় সদস্যরা রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রমের ২৪ নম্বর থেকে ১৬ নম্বরে সরকারের সচিবদের সমমর্যাদায় উন্নীত হবেন। জুডিসিয়াল সার্ভিসের সর্বোচ্চ পদ জেলা জজ। অন্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরে সচিবরা রয়েছেন; অতিরিক্ত জেলা জজ ও সমমর্যাদার বিচার বিভাগীয় সদস্যদের অবস্থান হবে জেলা জজদের ঠিক পরেই, রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রমের ১৭ নম্বরে। রায়ে আরও বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম কেবল রাষ্ট্রীয় আচার-অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে। নীতি নির্ধারণী ক্ষেত্র বা অন্য কোনো কার্যক্রমে যেন এর ব্যবহার না হয়। এরপর ওই রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ করা হয়। চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদার ক্রম নিয়ে আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে করা রিভিউ আবেদনের শুনানি শুরু হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com