গাজীপুরের শ্রীপুরে আওয়ামীলীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের (নিষিদ্ধ সংগঠন) নতুন কমিটি ঘোষণা করেছেন গাজীপুর জেলা যুবলীগ। যদিও তালিকা প্রকাশের ২দিন পর কমিটিতে অর্থ বানিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এ সম্পর্কিত একটি অডিও ব্যাপক ভাইরাল হয়।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে গাজীপুর জেলা যুবলীগের সভাপতি সেলিম আজাদ ও শ্রীপুর উপজেলায় প্রদত্ত যুবলীগের নতুন কমিটির অর্থ সম্পাদক আজিজুর রহমান জনের কথোপকথনের একটি অডিও ব্যাপক ভাইরাল হয়।
এরআগে, গত ১আগস্ট (মঙ্গলবার) বিকেলের দিকে ৮১ সদস্য বিশিষ্ট শ্রীপুর উপজেলার ওই কমিটির নামের তালিকা প্রকাশ করে গাজীপুর জেলা যুবলীগ।
তবে, ভাইরাল অডিও-র অপর প্রান্তে সেলিম আজাদ কিনা এমন তথ্য যাচাই-বাছাই করতে গাজীপুর জেলা যুবলীগের সভাপতি সেলিম আজাদের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও বন্ধ পাওয়া যায়। পরে ওয়াটসআপে একাধিকবার ফোন দিলে রিং হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
ভাইরাল কয়েকটি অডিও-তে শোনা যায়,শ্রীপুর উপজেলা যুবলীগ সভাপতি প্রার্থী জন গাজীপুর জেলা সভাপতিকে বলছেন,’আমি আপনাকে টাকা দিয়েছি। ওই প্রান্তে থাকা (জনের দাবি, সেলিম আজাদ) বলছেন,’এগুলো রেকর্ড করে লাভ নেই।’ আরেক কল রেকর্ডে জন বলছেন, আচ্ছা ভাই পাঠাচ্ছি, ৫ মিনিটের মধ্যে পাঠাচ্ছি, এক চান্সে ২৫হাজারের বেশি যায় না। আরেক কল রেকর্ডে জন বলছেন,’এই কমিটির তালিকা দেখলে আমার মা স্টোক করবো।’ এতে ওপর প্রান্তে থাকা সভাপতি বলছেন,’আমি চেষ্টা করেছি, সজিবও আমার সাথে ছিল, ইকবাল হোসেন সবুজ এমপিও চাইছে, মন্ত্রীকেও ফোন দিছি, ধরেনা, পরে তুলা ভাইয়ের মাধ্যমে কথা বলছি, তিনি কোনো ভাবেই তোমাকে রাখবেনা। সে মন্ত্রী মহোদয়ের কথা রাখেনা। সে কারো কথা শুনেনা। সেখানে আমি কি করবো।’
আরেক কল রেকর্ডে জন বলছেন,’ভাই আমি তাইলে তার রাজনীতি করতাম, এতোদিন তো আপনার সাথে রাজনীতি করেছি। আমি এখন কি করতাম।’ অপর প্রান্তে থাকা ব্যাক্তি বলছেন,’ তুমি যা পারো করো, করতে পারবা। প্রয়োজন হলে আমার কিডনি ও রক্ত বিক্রি করে তোমার টাকা পরিশোধ করবো।’
সব মিলিয়ে ৩টি কল রেকর্ড ভাইরাল হয়। এরমধ্যে, ৪ মিনিট ১৬ সেকেন্ডের আরেকটি ভিডিওতে পদের বিস্তারিত আলোচনা করেন আজিজুর রহমান জন ও অপর প্রান্তে থাকা ওই ব্যক্তি।
ভুক্তভোগী যুবলীগ নেতা আজিজুল রহমান জন বলেন,’ জেলা কমিটির সভাপতি সেলিম আজাদ ৮বছর ধরে বিভিন্ন এমাউন্টে আমার কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। এমনকি গত করোনার সময় আমার গাড়ি বিক্রির ৪৫ লাখ টাকা তাকে দিয়েছি। আমাকে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি দিবেন এমন প্রতিশ্রতি দিয়ে সবমিলিয়ে প্রায় ২ কোটি টাকা নিয়েছেন তিনি। এখন আমাকে উপজেলা যুবলীগের ৩নং সহসভাপতির পদ দিছে। আমি কি এ পদের জন্য এতো টাকা দিছি..?।’
এ ঘটনায় উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,’ নতুন কমিটি গঠন এবং তা নিয়ে অভ্যন্তরীণ কল রেকর্ড ফাঁসের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রতি ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর যুবলীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম সরকারিভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। এই নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বিভিন্ন অঞ্চলে গোপনে আমাদের অনেক নেতাকর্মী সক্রিয় ছিল। মিটিং মিছিল করেছেন। তারাও কমিটিতে বড় পদে বাদ পড়ছে। এমন দুর্দিনে অর্থের বিনিময়ে কমিটি হলে দলের জন্য চরম নেতিবাচক হবে।
এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে শ্রীপুর উপজেলায় প্রদত্ত নতুন কমিটির সভাপতি মাহমুদুল হাসান শামীম ভুঁইয়াকে একাধিক বার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি ইকবাল হোসেন সবুজ বলেন,’ আসলে যুবলীগের কমিটির বিষয়ে আমি অবগত নই,এবং মন্তব্য করতেও রাজি না।’
ভাইরাল রেকর্ডে সবুজ এমপির নাম বলা হয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন,’ আমাদের নিয়ে তো কতো লোকই কতো কথা বলে।’
এ বিষয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জহির উদ্দিন খসরু বলেন,’ উপজেলার কমিটি সেখানকার জেলা অনুমোদন দেয়। এরপরও সেখানে ৬ সদস্য বিশিষ্ট একটি মনিটরিং কমিটি রয়েছে। সকলেই তো আর পদ পাবেনা। তবে, ৫তারিখের পর যারা মিটিং মিছিলে এককথায় যারা মাঠে আছে এবং ত্যাগী,তাদেরকেই কমিটিতে মূল্যায়নের জন্য কেন্দ্রীয় নির্দেশনা দেওয়া আছে।’
কল রেকর্ড ভাইরালের বিষয়ে তিনি বলেন,’আমিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি শুনেছি। তা কতোটুকু সত্য তা যাচাই-বাছাই করা হবে। এছাড়াও অর্থ লেনদেনের কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তা তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
Leave a Reply