1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ৭ দিনের রিমান্ডে - দৈনিক আমার সময়

সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ৭ দিনের রিমান্ডে

নিজেস্ব প্রতিবেদক
    প্রকাশিত : বুধবার, ৩০ জুলাই, ২০২৫

রায় জালিয়াতির অভিযোগে রাজধানীর শাহবাগ থানায় দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছানাউল্যাহর আদালত এ আদেশ দেন। এদিন এবিএম খায়রুল হককে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার পরিদর্শক খালেক মিয়া ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্র রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন পক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর। শুনানি শেষে বিচারক সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করা হলেও পরবর্তী দুটি নির্বাচন অর্থাৎ দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর অধীনে অনুষ্ঠিত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সাবেক প্রধান বিচারপতি বা আপীল বিভাগের বিচারপতিদের নির্দলীয় তত্ত¡াবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যাবে না বলে সংবিধান সংশোধনের জন্য মত দেওয়া হয়। এই সংক্ষিপ্ত আদেশটি সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে দেওয়া করা হয়। বিচারপতি এ বি এম খাইরুল হকের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আদেশের পক্ষে বিচারপতি মোহা. মোজাম্মেল হোসেন, বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন মত দিলেও বিচারপতি আব্দুল ওয়াহাব মিয়া, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা ও বিচারপতি ইমান আলী আসামির রায়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন, অর্থাৎ সংবিধানের ১৩তম সংশোধনী অবৈধ বলে ঘোষণার বিরুদ্ধে মতামত পোষণ করেন। ২০১১ সালের ৫ মে এই সংক্ষিপ্ত আদেশের প্রায় ১৬ মাস পরে এ বি এম খোইরুল হক ইচ্ছাকৃতভাবে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে, দুর্নীতিমূলক ও বিদ্বেযাত্বকভাবে এই সংক্ষিপ্ত আদেশ উপেক্ষা করে আপিল মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় লেখেন এবং বিচারপতি মোহা. মোজাম্মেল হোসেন, বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনরা এই রায়ের সঙ্গে সম্মত হয়ে পূর্ণাঙ্গ রায়ে সই করে রায় প্রকাশ করেন। বিচারক হিসেবে লোভের বশবর্তী হয়ে দুর্নীতিমূলক ও বিদ্বেষাত্বক এবং বে-আইনিভাবে রায় দেওয়াসহ অসত্য ও জাল-জালিয়াতি সৃষ্টি করেছেন। আরও বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে এই ঘটনায় এ বি এম খায়রুল হক সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। জেল-হাজতে থাকা আসামিকে পুলিশ হেফাজতে এনে জিজ্ঞাবাসাবাদ করলে সংবিধানের ১৩তম সংশোধনী বাতিলের রায়ের বিষয়ে এবং মামলার ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্যান্য ব্যাক্তিদের বিষয়ে তথ্য উদ্ধার করা সম্ভব হবে। মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সংবিধানের ১৩তম সংশোধনী অবৈধ বলে ঘোষণার করে তত্ত¡াবধায়ক সরকার বাতিলের বিষয়ে এবং তার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা ও মামলার মূল রহস্য উদঘাটনে আসামিরে ১০ দিনের রিমান্ডে একান্ত প্রয়োজন। গত ২৪ জুলাই সকালে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। পরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যাত্রাবাড়ী থানার কিশোর আব্দুল কাইয়ূম আহাদ হত্যা মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছানাউল্ল্যাহর আদালত। ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহা. মুজাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় এ বি এম খায়রুল হকসহ অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে এই মামলাটি করেন। মামলায় দÐবিধির ২১৯ ও ৪৬৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিচারপতি খায়রুল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথায় প্রভাবিত হয়ে এবং তার অবসর পরবর্তী ভালো পদায়নের লোভের বশবর্তী হয়ে দুর্নীতিমূলকভাবে শেখ হাসিনাকে খুশি করার অভিপ্রায়ে ২০১১ সালের ১০ মে সংক্ষিপ্ত আদেশটি পরিবর্তন করে বেআইনিভাবে ২০১২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর আপিল মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com