1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
সাতক্ষীরা ‌শ্যামনগরে রমজান মাসকে সামনে রেখে মাঠে উকি দিচ্ছে তরমুজ - দৈনিক আমার সময়

সাতক্ষীরা ‌শ্যামনগরে রমজান মাসকে সামনে রেখে মাঠে উকি দিচ্ছে তরমুজ

সিরাজুল ইসলাম সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
    প্রকাশিত : রবিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫

শ্যামনগরে আগামী রমজান কে সামনে রেখে বেশি লাভের আশায় বেশি দামে তরমুজ বিক্রি করার জন্য এবার আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে তরমুজ চাষিরা। আমন ধান কাটতে না কাটতেই শুরু করেছে তরমুজ চাষের প্রস্তুতি বিশেষ করে শ্যামনগরে কৈ খালি, ইশ্বরীপুর, মুন্সীগঞ্জ,ভুরুলিয়া, কাশিমাড়ি, শ্যামনগর সদর সহ অনেক এলাকায় গ্রামে তরমুজ চাষ হয়ে থাকে শ্যামনগরে মত্স্য চাষে বিখ্যাত হলেও এখন তরমুজ চাষে বিখ্যাত। শ্যামনগরে তরমুজ এতো মিষ্টি সাদে ও মানে ভালো তাই ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় শ্যামনগরে তরমুজের সুনাম ও চাহিদা অনেক বেশি। তাই এখনও চাষের সময় না হলেও তরমুজ চাষিরা রমজানে ঢাকা সহ বাইরে জেলার বাজার ধরার জন্য আগে ভাগে মাঠে নেমে পড়েছে। মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নের মথুরাপুর গ্রামের তরমুজ চাষি হারান মন্ডল জানান তিনি প্রতি বছর ১০ কাঁটা জমিতে তরমুজ চাষ করছেন গতো মৌসুমে তাকে খরজ বাদ দিয়ে ৬২ হাজার টাকা লাভ হয়েছে তাই এবার দেড় বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করবে বলে আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি আরো জানান আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার একটা বড়ো ধরনের লাভ করবে। তিনি বলেন তরমুজের দানা মাটিতে পুঁতে ৭৫/৮০ দিনের মধ্যে মিষ্টি তরমুজ উত্তোলন করা যায়।
“ইশ্বরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাড শোকর আলি এই প্রতিবেদককে বলেন তরমুজ চাষিদের সবধরনের কৃষি সহযোগীতা করার জন্য আমরা শ্যামনগর কৃষি অফিসে আগাম চাহিদা দিয়েছে। তিনি নিজেও কিছু জমিতে তরমুজ চাষ করবেন বলে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ভুরুলিয়া ইউনিয়নের সিরাজপুর গ্রামের আনছার মাঝি এই প্রতিবেদককে জানান গত মৌসুমে তিনি ৩ বিঘা জমিতে ২ পদের তরমুজ চাষ করেছিল প্রথম বছর বুঝে উঠতে না পারায় একটু নাবিতে চাষ পড়ে যায়। তবুও খরচ বাদ দিয়ে ৬০ হাজার টাকা লাভ হয়েছে। এবার তিনি ৪ বিঘা জমিতে ২ পদের তরমুজ চাষ করবেন বলে আগে ভাগে প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছে। আনছার মাঝি আরও জানান তার এলাকায় এবার নতুন করে অনেক চাষি প্রস্তুতি নিচ্ছে তরমুজ চাষের জন্য।
উপজেলা কৈ খালি ইউনিয়নের আনিছুর গাজী জানান গতো বছর সে এক একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছে সব তরমুজ পাইকারি পাটিরা কিনে ঢাকার বাজারে নিয়ে গেছে।এবার তিনি সবে মাত্র আমন ধান কেটে বাড়ি তুলে তরমুজ চাষের জন্য খেত একটু সুখিয়ে নিচ্ছে তাড়াতাড়ি আবার নতুন করে ২ একর জমিতে তরমুজ চাষ করবেন। তিনি আরও বলেন ইতোমধ্যে উন্নত মানের তরমুজের বিচ সংগ্রহ করেছেন। গত বছর তিনি খরচ বাদে ১ লাখ টাকা লাভ করেছেন।
ইশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুম ঘাট গ্রামের মাজেদ আলি জানান তিনি গতবছর ১ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করে ছিল। তার তরমুজের মান এতো ভালো হয়েছিল যে ঢাকার পাইকারি পাটিরা খেত থেকে ৩৫ টাকা কেজিতে সব মাল কিনে নিয়ে যায়। অল্প কিছু ছোট খাটো মাল ছিল সেগুলো তিনি নিজেও স্থানীয় বংশিপুর বাজারে ৩০/৩৫ টাকা কেজিতে বিক্রিয় করেন। এবার তিনি দেড় বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করবে বলে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।যাতে আগামী মাহে রমজান মাসে এই তরমুজ খেত থেকে বাজারে তুলতে পারে সেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
কাশিমাড়ি ইউনিয়নের খুঁটি কাঁটা গ্রামের শওকাত সানা জানান তিনি গতবছর ১০ কাঁটা জমিতে তরমুজ চাষ করে খরজ বাদে ২৫ হাজার টাকা লাভ করেন। তিনি প্রথম বার ভালো বুঝে উঠতে পারেনি। এবার তিনি দেড় বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করবেন এবং রমজান মাসে যাতে মাঠ থেকে তরমুজ বাজার জাত করতে পারে সেই লক্ষ্যে নিয়ে তড়িঘড়ি প্রস্তুতি নিচ্ছে।
শ্যামনগর উপজেলা কৃষি অফিসার নাজমুল হুদা জানান গত মৌসুমে শ্যামনগর উপজেলায় মোট ৯০০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছিল। এর মধ্যে কাশিমাড়ি ইউনিয়নে ১৫০ হেক্টর কৈ খালি ইউনিয়নে ২৫০ হেক্টর শ্যামনগর সদরে ১০০ হেক্টর ভুরুলিয় ইউনিয়নে ১০০ হেক্টর আটুলিয়া ইউনিয়নে ১০০ হেক্টর মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নে ৫০ হেক্টর ও ইশ্বরীপুর ইউনিয়নে ১৫০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছিল ২০২৬ সালে সব রেকর্ড ভেঙে শ্যামনগর উপজেলায় দেড় হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হবে এবং সব চাষিরা পাল্লা দিয়ে আগামী রমজান মাসে মানুষের মুখে তরমুজ তুলে দেবে বলে সকল প্রকার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তার কাছে খবর রয়েছে।
উপজেলার কিছু অঞ্চলে চিংড়ি চাষ বর্জন করে তরমুজ চাষে ঝুঁকছেন চাষিরা। সে অনুযায়ী মৌসুমকে সামনে রেখে কৈখালী, রমজাননগ, ঈশ্বরীপুর ও ধুমঘাট গ্রামের তরমুজ চাষিরা এখন ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। বর্তমান সময়ে চাষকৃত তরমুজ ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায়, রোপণকৃত তরমুজের চারা পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করে যাচ্ছেন চাষিরা। প্রতিটি চারাগাছে কেউ পানি দেওয়া, কেউ বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক ছিটানো আবার কেউ কেউ চারা গাছের নিচে শুকনো ঘাস বা খড় বিছানো কাজে নিয়োজিত আছেন। এ বিষয়ে বৈশখালী গ্রামের তরমুজ চাষি তাজুল মল্লিক বলেন, বিগত বছরের তুলনায় এ বছর তরমুজ চাষে আমাদের খরচের হারটা একটু বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারণ, গত বছরের তুলনায় এ বছর তরমুজের বীজ ও সার, কীটনাশক, চাষের সরঞ্জামের দাম অনেক অনেক বেশি। গত বছর প্রতি ৩৩ শতক (১ বিঘা) জমিতে তরবুজ চাষ করতে আমাদের ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। কিন্তু চলতি বছরে বিঘা প্রতি ৩৫ থেকে ৪০ হাজারের মতো খরচ হতে পারে। এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হুদা এই প্রতিবেদককে আরো বলেন, ধান চাষের পাশাপাশি গত বছরের তুলনায় এ বছর উপজেলায় বিভিন্ন ধরনের সবজি ও তরমুজের চাষ অনেক বেশি। উপজেলায় গত বছর আনুমানিক ১২০ একর জমিতে তরমুজ চাষ করা হলেও চলতি বছরে তার দিগুণ অর্থাৎ প্রায় ৯০০ একর জমিতে তরমুজ চাষ করা হয়েছে। খরচ বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন বীজ, সার ও শ্রমমিকের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় চাষিদের জন্য এবার খরচের হার একটু বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু সামনের রমজানের ভেতরে যদি তরমুজ বিক্রির উপযুক্ত সময় হয় তাহলে কৃষকরা লাভবান হবে বলে আমি আশাবাদী। এদিকে বর্তমান সময়ে তরমুজ চাষিদের মধ্যে এখন সব চেয়ে বড় ভয়ের হয়ে দাঁড়িয়েছে রোপণকৃত চারাগাছে সংক্রমণ রোগে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com