1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
সাতক্ষীরায় এমন ভূমিকম্প আগে কখনো হয়নি: আবহাওয়া অফিস - দৈনিক আমার সময়

সাতক্ষীরায় এমন ভূমিকম্প আগে কখনো হয়নি: আবহাওয়া অফিস

সিরাজুল ইসলাম সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
    প্রকাশিত : শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

সাতক্ষীরা সহ ‌দেশের বিভিন্ন জায়গায় আজ শুক্রবার দুপুরে যেই ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, সেটির উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়ায়। রিখটার স্কেলে এ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫.৪। সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, নথিপত্র অনুযায়ী সাতক্ষীরায় এ মাত্রার ভূমিকম্প আগে কখনো হয়নি।
ভূমিকম্পে জেলার বিভিন্ন স্থানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, ঘরবাড়ির দেয়ালসহ বিভিন্ন ভবনের দেয়ালে ফাটল ও ভেঙে পড়র খবর পাওয়া গেছে। তবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কথা জানা যায়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভূমিকম্পে তালা উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামে একটি ঘরের ছাউনি ভেঙে পড়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ইসলাম সরদার জানান, ভূমিকম্পের কারণে আমার ঘর ভেঙে পড়েছে।
৬৫ বছর বয়সী জুয়েল সরদার বলেন, আমার বয়সে এত বড় ভূমিকম্প কখনো দেখিনি। মনে হচ্ছিল, ঘর দুলছে।
সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী জানান, সাতক্ষীরায় এত বেশি মাত্রার ভূমিকম্প আগে কখনো হয়নি। গত ৩ ফেব্রুয়ারি জেলায় সর্বোচ্চ ৩.১ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল।  উৎপত্তিস্থল ছিল কলারোয়া উপজেলা। তখন কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে, উপকূলীয় অঞ্চল সাতক্ষীরায় ভূমিকম্প সময়ে করণীয় বিষয়ক সচেতনতার উপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে বিশিষ্টজনরা।
সাতক্ষীরার সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য এসএম তৌহিদুজ্জামান বলেন, ২৪ দিনের ব্যবধানে একই জেলায় ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কার পূর্বাভাস মনে হচ্ছে। তাই এখনই সরকারিভাবে সচেতনতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।ভূমিকম্পে সাতক্ষীরার বিভিন্ন ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। এ সময় মাটির দেয়াল ধসে তিনজন আহত হয়েছেন। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৪। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চরম আতঙ্ক দেখা যায়।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের ভূমিকম্পে বাংলাদেশসহ ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও কম্পন অনুভূত হয়।
ভূমিকম্পে সাতক্ষীরা শহরের বাড়ি-ঘর কেঁপে ওঠে। ঘরের আসবাবপত্র ও সিলিং ফ্যানসহ অন্যান্য জিনিসপত্র কাঁপতে থাকে। শুক্রবার জুম্মার নামাজের সময় বেশিরভাগ মুসল্লি মসজিদে নামাজে ছিলেন। হঠাৎ প্রচণ্ড ঝাঁকুনির ভূমিকম্পে আতঙ্কিত মানুষজন ভয়ে মসজিদ ও ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসে।
এদিকে এই ঘটনায় কোথাও বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে জেলার বিভিন্ন এলাকায় কয়েকটি ভবনের ছাদে ফাটল ধরার খবর পাওয়া গেছে। ভূমিকম্পের সময় শ্যামনগর উপজেলা উত্তর হাজিপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মুসল্লিরা নামাজরত অবস্থায় কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা জানমাল রক্ষায় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।
এদিকে ভূমিকম্পে শ্যামনগর উপজেলায় তিনজন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন উপজেলার ভুরুলিয়া এলাকার নুর আলী মোড়লের স্ত্রী ফয়জুন্নেছা (৭৫), ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের গুমানতলী এলাকার আমিনুর রহমানের ছেলে আরিফুল ইসলাম (১৮) ও আটুলিয়া ইউনিয়নের হাওলভাঙ্গী এলাকার সোহেল হোসেনের স্ত্রী আঁখি আক্তার (২০)
এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাকির হোসেন জানান, ভূমিকম্পে আহত হয়ে তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে বয়স্ক ফয়জুন্নেছা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। বাকিরা চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন।
উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের সোনাখালি এলাকায় শফিকুল ইসলাম জানান, ভূমিকম্পে তার একমাত্র মাটির ঘরটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘরের দেয়ালে ফাটল ও কিছু অংশ ধসে পড়ায় পরিবার নিয়ে আতঙ্কে আছেন তিনি।
এদিকে শ্যামনগর পৌরসভার নূর কম্পিউটার মার্কেটের পাশে অবস্থিত তালাবদ্ধ আওয়ামী লীগ অফিসের ভবনে ফাটল ধরেছে বলে স্থানীয়রা জানান। একই এলাকার আরও কয়েকটি ভবনেও ফাটল দেখা গেছে। এছাড়া গাবুরা ইউনিয়নের হরিশখালি এলাকায় একটি মসজিদে ফাটল ধরেছ
সাতক্ষীরা শহরের কাটিয়া মাষ্টারপাড়ার বাসিন্দা গৃহবধূ সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, আমি জীবনে এমন ভয়াবহ ভূমিকম্প দেখিনি। এ সময় আমি আমার ছেলেকে বাড়ির দোতলা রাস্তায় বেরিয়ে আসি।
সাতক্ষীরা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন বলেন, সাতক্ষীরায় ৫ দশমিক ৪ মাত্রায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে। বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা সুযোগ্য পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল এই প্রতিবেদককে তাৎক্ষণিক এক,প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন সবেমাত্র জুম্মার নামাজ পড়ে বাইরে পা দিয়েছি মুহূর্তের ভিতর একটি ঝাকুনি। এরপরে চারিদিক থেকে থানার ওসিরা ও ‌বিভিন্ন শুভাকাঙ্ক্ষীরা ফোন দিচ্ছে সাতক্ষীরায় মারাত্মক আকারের ভূমিকম্প কম্পন দেখা দিয়েছে যার কারণে অনেক ছোটখাটো বিল্ডিং এ ফাটল ধরেছে। তাছাড়া তিনি আরো জানান বিশেষ করে আশাশুনি, উপজেলা , সাতক্ষীরা সাদর ও ‌শ্যামনগর উপজেলার ছোটখাটো ঘরবাড়ি ঘরের চাল মাটির দেয়াল ধসে যাবার খবর পাওয়া গেছে তবে কোন প্রাণহানির খবর এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে শ্যামনগর উপজেলায় তিনজন আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তিনি এই প্রতিবেদকে আরো বলেন প্রতিটি থানায় মুহূর্তের ভিতর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কোন হতাহতের ‌খবর আছে কিনা এবং কি পরিমানে মানুষের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সেজন্য প্রতিটি মানুষের খোঁজখবর নেওয়ার জন্য। তিনি আরো জানান আমি নিজেও নামাজ পড়ে বাসায় ওঠেনি ভূমিকম্পের অনুভূতি পেয়ে নানান জায়গায় ঘুরে এসেছি মানুষের ক্ষয়ক্ষতি ও ভূমিকম্পের ত্রাস থেকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আফরোজা আক্তার জানান, ভূমিকম্পে আশাশুনি, কালিগঞ্জ ও শ্যামনগর উপজেলায় বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও বাড়িঘরে ফাটল ও ভেঙে পড়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা। আগামীকাল (শনিবার) জেলার সার্বিক তথ্য পাওয়ার পর মন্ত্রণালয়ে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাঠানো হবে। এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য আমরা পাইনি। বিচ্ছিন্নভাবে কিছু তথ্য পেয়েছি। আরো বলেন তাৎক্ষণিকভাবে সাতক্ষীরা প্রতিটি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করতে। তালিকা করার পরে বোঝা যাবে কি পরিমান ক্ষতি হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com