কুষ্টিয়ার তিনটি ওয়ার্ডের সন্ত্রাস মাদক এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রুখতে শান্তি কমিটি গঠন করা হয়, গতকাল বিকাল পাঁচটায় কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলামের বাসভবনে শান্তি কমিটির সাথে এমপি হানিফের মত বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
মাদক, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য প্রতিরোধ ও এলাকার বিশৃঙ্খলা দূর করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করে শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের লক্ষ্যে কুষ্টিয়া পৌর ১০,১১,ও ১২ নং ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণব্যাক্তি ও গ্রহনযোগ্যদের নিয়ে শান্তি কমিটি গঠন করা হয়েছে গত শুক্রবার (০৭/০৭/২০২৩) ইং বিকাল পাঁচটায় কুষ্টিয়ার মিলপাড়াতে মোহিনী মোহন বিদ্যাপীঠ স্কুলের আঙিনায়। মিলপাড়া সহ অত্র এলাকার সকলকে একত্রে করে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এক আলোচনা শেষে এলাকার সুশীল শ্রেণীর মানুষসহ নেতৃত্ব প্রদানকারী সকলের সমন্বয়ে ৫ জন উপদেষ্টা ও ১৮ বিশিষ্ট শান্তি কমিটি গঠন করা হয়।
গতকাল কমিটির সদস্যদের নিয়ে এলাকার শান্তি বজায় রাখা সহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রুখতে কমিটির সকলকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যেতে বলেন এমপি হানিফ। স্থানীয়রা কিছু উশৃংখল ও কিশোর গ্যাং এর অপরাধের বর্ণনা সাংসদকে জানালে তিনি বলেন কুষ্টিয়াতে নতুন এসপি যোগদান করেছেন, নির্দেশ দেব তিনি যেন কুষ্টিয়াতে কিশোর গ্যাং এবং সন্ত্রাস কঠোর হস্তে দমন করেন।
অনুষ্ঠানে শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি তাইজাল আলী খানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া সদর আসনের এমপি মাহাবুব উল আলম হানিফ, বিশেষ অতিথি হিসেবে যারা উপস্থিত ছিলেন খোকসা কুমারখালীর এমপি সেলিম আলতাফ জর্জ, সাবেক কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম, সদর উপজেলা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ হাসান মেহেদী, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী নাসির উদ্দিন মৃধা, শিল্পপতি ফজলে করিম খোকা।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কমিটির সকল সদস্য।
পূর্ব মিলপাড়া, বাধ এলাকা ও ভাটাপাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাস,বিশৃঙ্খলা, মাদক ও গ্রুপিংয়ের কারনে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এই এলাকাটি। মারামারি, কাটাকাটি, লুটপাট, মামলা হামলা লেগেই আছে এই এলাকায়। এর ফলে অনেক সময় সাধারণ মানুষও মিথ্যা মামলা-হামলা ও হয়রানির শিকার হচ্ছে।
গত ২/৭/২৩ বিকেলে রবীন্দ্র লালন উদ্যানের সামনে ওই এলাকার দুই গ্রুপের কিশোর গ্যাংদের মধ্যে মারামারি হয়। তারপর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে। উত্তেজনা পরিপ্রেক্ষিতে গত ৪ জুলাই রাত আটটার দিকে কুষ্টিয়া মহা শ্মশানের পাশে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মহড়া, ভাঙচুর ও সংঘর্ষ শুরু হয়, পরে সেখানে পুলিশের সহায়তায় পরিস্থিতি শান্ত হয়। পরেরদিন ৫ জুলাই মধ্যরাতে ভাটাপাড়া রকি নামের এক সেনা সদস্যের বাসায় ডাকাতি হয়। ওই এলাকার এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ওঠেন।
স্থানীয়রা বলেন দীর্ঘদিন আমাদের এই এলাকায় নেতৃত্ব দুই ভাগে ভাগ হয়েছে একদিকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ১০ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খান মোহাম্মদ ওয়াহিদ রনি, অন্যদিকে শিল্পপতি ফজলে করিম খোকা। নেতৃত্ব দুই ভাগে বিভক্ত হওয়ায় বখাটে যুবক ও কিশোর গ্যাংরা দাঙ্গা হাঙ্গামা চালাতে থাকে, এলাকার যেকোন তুচ্ছ ঘটনাকে বড় করে এক পক্ষ আরেক পক্ষকে ঘায়েল করতে প্রস্তুত থাকে, পাল্টাপাল্টি আক্রোশ লেগেই থাকে, স্থানীয়রা জানান বিভক্ত রাজনীতি এবং বিভক্ত নেতৃত্ব থেকে আমরা মুক্তি চাই। দুই পক্ষ মিলে যদি একত্রে সবাই চলে তাহলে আর এই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে না।
সেই লক্ষ্যে গঠিত শান্তি কমিটি সদর সাংসদদের সাথে গতকাল মত বিনিময় করেন।
Leave a Reply