1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
রোহিঙ্গারা এখন গলার কাঁটা - দৈনিক আমার সময়

রোহিঙ্গারা এখন গলার কাঁটা

অনলাইন ডেস্ক
    প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট, ২০২৫

‘আমি দেশদ্রোহী নই, রোহিঙ্গাবিরোধী। কারণ প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা পালংখালী ইউনিয়নে, আমি অবশ্যই প্রতিবাদ করব।’ এটি একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস। কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী গতকাল বুধবার বিকেলে নিজ ফেসবুক আইডিতে এমন স্ট্যাটাস দিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছিলেন রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে। ২০১৭ সালের রোহিঙ্গা ঢলের সময় লাখ রোহিঙ্গা নাফ নদ পাড়ি দিয়ে আশ্রয় নেয় নাফ নদের তীরের ইউনিয়ন উখিয়ার পালংখালীতে। কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আটটি এই ইউনিয়নে অবস্থিত। শুধু ক্যাম্প নয়, ক্যাম্পের বাইরে গণনার বাইরে থাকা বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা গ্রামের বিভিন্ন ঘরবাড়ি ও পাহাড়ি এলাকায় অবস্থান করছে। পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী সেই রোহিঙ্গা ঢলের সময় থেকেই নানামুখী সমস্যা মোকাবেলা করে আসছেন। ইউপি চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী গত সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার ইউনিয়নে ৫০ হাজার বাসিন্দা রয়েছে। অথচ তার ওপরে অবস্থান করছে আরো লাখ লাখ রোহিঙ্গা। রোহিঙ্গাদের বহুমাত্রিক সমস্যা সমাধানের কাজ করতে গিয়ে আমার নিজ এলাকার বাসিন্দারা সেবাবঞ্চিত হচ্ছেন।’ গতকাল ফেসবুকে তিনি অপর এক স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেছেন, দুই মাস আগে প্রায় ৬০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এনে ক্যাম্পে না নিয়ে স্থানীয়দের ঘরবাড়িতে রাখা হয়েছে।আরো ৫০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢোকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি কারো নাম উল্লেখ না করে অভিযোগ উত্থাপন করেছেন।

 

টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা নূর আহমদ আনোয়ারী বলেছেন, নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের সুযোগ দেওয়াটা কোনোভাবেই সমীচীন হবে না, বরং আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন করাটাই সবার আগে প্রয়োজন। উখিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরোয়ার জাহান চৌধুরী বলেছেন, ‘রোহিঙ্গারা এখন আমাদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজ এলাকায় রোহিঙ্গাসংক্রান্ত কোনো না কোনো সমস্যা লেগেই থাকে।’

কক্সবাজার নাগরিক ফোরামের সভাপতি আ ন ম হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুটা হচ্ছে বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। এই রোহিঙ্গা সমস্যার কারণে কক্সবাজারে আর্থ-সামাজিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। সামাজিক ও নাগরিক অধিকার  সুরক্ষায় অবর্ণনীয় বিপর্যয় হচ্ছে।’ তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের কারণে বাজারব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এ কারণে দুর্বিষহ হচ্ছে স্থানীয়দের দৈনন্দিন জীবন। সরকারের উচিত এই রোহিঙ্গা সমস্যাকে  অতি গুরুত্ব সহকারে বাস্তবভিত্তিক সমাধানের উপায় খুঁজে বের করা। কারণ দিন দিন রোহিঙ্গাদের কারণে কক্সবাজারের মানুষ স্বাভাবিক জীবন ধারণ করতে পারছে না। চুরি, ডাকাতি, ইয়াবা পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধে রোহিঙ্গারা জড়িত।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com