রোববার (১৮ জুন) রাত ৯টার দিকে নগরীর সাগরপাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় ও আওয়ামী লীগ নেতারা নির্বাচন কর্মকর্তার বাসায় লিমনকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে তাকে উদ্ধার করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।
স্থানীরা জানান, রাতে আবুল হোসেনের ভাড়া বাসায় প্রবেশ করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইশতিয়াক আহমেদ লিমন। তখন স্থানীয়রা সহ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাকে বাসায় অবরুদ্ধ করেন। এরপর রাত ১২টায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। উদ্ধারের আগ পর্যন্ত বাসাটি ঘিরে রেখেছিলেন শতাধিক ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
অবরুদ্ধ করে আন্দোলনরত রাজশাহী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি রাশিক দত্ত বলেন, লিমন তার মামাকে জেতানোর জন্য নির্বাচন কর্মকর্তাকে টাকা দিতে আসেন। লিমনের সঙ্গে আরও দুজন ছিলেন। আমরা খবর পেয়ে বাসাটি ঘিরে রাখি। বাসা অবরুদ্ধ করার সময় একটি ব্যাগ নিয়ে মোটরসাইকেলে কয়েকজন টাকা নিয়ে পালিয়েছেন।
তিনি বলেন, লিমনের মামা আবদুল হামিদ সরকার টেকন নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। আগামী ২১ জুনের নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হয়েছেন। লিমনের বাবা মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল, লিমনের আরেক মামা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারসহ এই পরিবারটি এবার সিটি নির্বাচনে নোকার প্রার্থীর জন্য কাজ করছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
লিমন যখন অবরুদ্ধ ছিলেন, তখন তার বাবা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মীর ইকবালসহ পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন। পরিবারের নারীরা চিৎকার করে কান্নাকাটি করছিলেন। মীর ইকবাল ভিড়ের মধ্যে ঢোকার চেষ্টা করলে তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়।
লিমনকে অবরুদ্ধকারীরা বাইরে নানা স্লোগান দেয়। তারা বলছিলেন, মামা কাউন্সিলর প্রার্থী টেকনকে জেতানো এবং আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীকে পরাজিত করার জন্য নির্বাচন কর্মকর্তাকে টাকা দিতে এসেছিলেন লিমন। তাই তারা লিমনকে গ্রেপ্তার এবং দল থেকে বহিষ্কারের দাবি করেন।
এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহরাওয়ার্দী হোসেন বলেন, রাজশাহী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবুল হোসেনের বাড়ি থেকে আওয়ামী লীগ নেতা লিমনকে আটক করে থানা হেফাজতে নেয়া হয়েছে। কেন তিনি ওই নির্বাচন কর্মকর্তার বাড়িতে গিয়েছিলেন তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জিজ্ঞাসাবাদ করে বিস্তারিত জানা যাবে।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল হোসেন বলেন, আমার সঙ্গে কোনো টাকা-পয়সার লেনদেন হয়নি। তিনি আমার কাছে জানতে এসেছিলেন ভোট সুষ্ঠু হবে কি না।
ভোটের আগে কেন তিনি রাতে আপনার বাসায় এসেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, লিমন রাতে আমার বাসার নিচে এসেছিলেন। তখন তাকে বাড়িতে চা খেতে ডেকেছিলাম। এর বেশি কিছু নয়। আমার বাড়ি থেকে তো কোনো টাকা উদ্ধার হয়নি।
Leave a Reply