বঙ্গোপসাগরের মহেশখালী উপজেলার সোনাদিয়া চ্যানেলে গেল তিন দিনে ১৫টি ফিশিং ট্রলার ডাকাতির শিকার হয়েছে। জলদস্যুরা এসব ফিশিং ট্রলার থেকে অন্তত এক কোটি টাকার জাল, মাছ, তেল, নগদ টাকা, মোবাইল ও ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ লুট করে নিয়ে গেছে।
ডাকাতদের মারধরে ২০ মাঝিমাল্লা আহত এবং ২৪ জন মাঝিমাল্লা সহ ৩টি ফিশিং ট্রলার নিখোঁজ রয়েছে। নিখোঁজ ফিশিং ট্রলার গুলো বর্তমান বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুদের কবলে আটক রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জলদস্যুদের কবলে পড়া ফিশিং ট্রলারদের মধ্যে মহেশখালীর কালারমারছড়া ইউনিয়নের মোহাম্মদ শাহ ঘোনার মাত্র একটি ঘাটের ৮টি ফিশিং ট্রলার রয়েছে। মহেশখালীর “কালারমার ছড়া জেলে কল্যাণ সমবায় সমিতি” ও “কালারমারছড়া বোট মালিক সমিতি” সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
কালারমারছড়া জেলে কল্যাণ মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আমির হোসেন বলেন, গেল শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত ৩ দিনে বঙ্গোপসাগরের সোনাদিয়া চ্যানেল সংলগ্ন পশ্চিমে সাগরের ১২ বাম নামক স্থানে ১০/১২ জনের একদল সশস্ত্র জলদস্যু ট্রলার নিয়ে গণহারে ডাকাতি শুরু করে। তারা মাঝিমাল্লাদের মারধর করে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বোটে থাকা আহরিত মাছ,জাল,তেল,খাদ্য রসদপাতি,মোবাইল, নগদ টাকা ও ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ সহ প্রতিটি ফিশিং ট্রলার থেকে অন্তত ৭/৮ লাখ টাকার মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়। জলদস্যু দ্বারা আক্রান্ত ফিশিং ট্রলার গুলোর মধ্যে মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের মোহাম্মদ শাহ ঘোনা নামের একটি ঘাটের ৯টি ফিশিং ট্রলার রয়েছে।
এসব ট্রলারের মালিকরা হচ্ছে, মোহাম্মদ শাহ ঘোনার গ্রামে মোঃ বেলাল মাঝি, আশেক উল্লাহ কালু, মাহমুদুল হক, অফিস পাড়া গ্রামের নুরুল আবছার, ছামিরা ঘোনা গ্রামের জয়নাল বহদ্দার , ধলঘাটা ইউনিয়নের সাপমারার ডেইল গ্রামের নুরুল আলম বহদ্দার, মোহাম্মদ শাহ ঘোনার ওবায়দুল হক বহদ্দার, আহমদ উল্লাহ বহদ্দার ও মোহাম্মদ বেলাল মাঝির মালিকানাধীন একটি করে ফিশিং ট্রলার রয়েছে। আক্রান্ত এসব ফিশিং ট্রলারের আহত মাঝি-মাল্লারা গতকাল ৫ অক্টোবর মহেশখালীর কালারমার ছড়া মোহাম্মদ শাহ ঘোনা ঘাটে ফিরে আসলে আহতদেরকে মহেশখালী, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৮ জনের নাম পাওয়া গেছে। এরা হলেন, মাহমুদুল হক মাঝি (৩৭),লকিয়াত উল্লাহ (৩২), আব্দুল মান্নান (৩৫),আব্দুল মজিদ (৩২),সাইফুল ইসলাম (২৮),মোঃ হাসান (২৪),সামুন (২৩) ও কামাল হোসেন মাঝি, (৩৭)।
কালারমারছড়া জেলে কল্যাণ মৎস্যজীব সমবায় সমিতির সভাপতি কামাল হোসেন বলেন, জলদস্যুদের হাতে ডাকাতির শিকার কালারমারছড়ার ৯টি ফিশিং বোট ছাড়াও মহেশখালীর ধলঘাটা ঘটিভাঙ্গা, গোরকঘাটা ও হোয়ানকের আরো অন্তত ৬টি ফিশিং ডলার ডাকাতির শিকার হয়েছে। এছাড়া কালারমার মোহাম্মদ শাহ ঘোনার ওবাইদুল হক বহদ্দার এর মালিকানাধীন ২টি ও আহমদ উল্লাহ বহদ্দারের মালিকানাধীন১টি ট্রলার সহ মোট ৩টি ফিশিং ট্রলার ২৪ জন মাঝিমাল্লাহ সহ নিখোঁজ রয়েছে। এসব ফিশিং ট্রলারকে জিম্মি করে ওইসব ট্রলার দিয়ে জলদস্যুরা সাগরে জলদস্যুতা অব্যাহত রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কালারমারছড়া বোট মালিক সমিতির সভাপতি আহমদ উল্লাহ বলেন, ৮ জন মাঝি-মাল্লা সহ আমার একটি ফিশিং ট্রলার জলদস্যুরা জিম্মি করে নিয়ে গেছে। গত শুক্রবার থেকে মাঝিমাল্লাদের সাথে কোন যোগাযোগ হচ্ছে না। সাগর থেকে ফিরে আসা দস্যু আক্রান্ত বোটের মাঝিমাল্লারা জানিয়েছেন, জলদস্যুরা আমার ট্রলার সহ মোট ৩টি ট্রলার জিম্মি করে সাগরে সেগুলো দিয়ে জলদস্যুতা চালিয়ে যাচ্ছে। আমি কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীসহ সরকারের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে নিখোঁজ ফিশিং ট্রলার ও মাঝিমাল্লাদের উদ্ধার ও সাগরে জলদস্যুতা বন্দে জরুরী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানাচ্ছি।
Leave a Reply