ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিএনজি চালিত অটোরিকশা মালিক ও শ্রমিকদের যৌথ সংগঠন “ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সিএনজি অটোরিকশা মালিক ও শ্রমিক ঐক্য পরিষদ” অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে। আজ রোববার (২৭ জুলাই) সকাল থেকে জেলাজুড়ে এ কর্মবিরতি কার্যকর হয়।
সংগঠনের নেতারা বলছেন, লাইসেন্স নবায়নে উচ্চ ব্যয়, ট্রাফিক পুলিশের হয়রানি ও দুর্নীতি এবং গাড়ি জব্দের নামে অনিয়ম, এসবের প্রতিবাদে তারা এই কর্মসূচিতে গেছেন।
জেলা সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হেবজুল করিম জানান, “সিএনজি চালক ও মালিকরা সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ। দীর্ঘ ৫২ বছর ধরে এই পেশায় হাজার হাজার পরিবার জীবিকা নির্বাহ করছে। ৯টি উপজেলায় আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে সেবা দিয়ে আসছি। কিন্তু সম্প্রতি ট্রাফিক বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তার অমানবিক আচরণ ও অতিরিক্ত অর্থদণ্ডে আমরা অতিষ্ঠ।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) মীর আনোয়ার হোসেন যোগদানের পর থেকেই আমাদের সংগঠনের সঙ্গে যেন যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হচ্ছে। কোনো কাগজ থাকলেও গাড়ি জব্দ করে নেওয়া হচ্ছে। এমন অন্যায় কার্যক্রম আমরা মেনে নিতে পারি না।”
হেবজুল করিম আরও জানান, “আমরা বিআরটিএ’র নিবন্ধিত ৮ হাজার গাড়ির মধ্যে সারে ৬ হাজার গাড়ি আপডেট করার জন্য ছয় মাস সময় চেয়েছি। আমরা সর্বোচ্চ রাজস্ব প্রদানকারী হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা পাচ্ছি না।”
তিন দফা দাবি তুলে ধরে তারা বলেন—
১. ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার রোড পারমিট পাওয়া সিএনজি যেন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে।
২. ট্রাফিক পুলিশের দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।
৩. আটককৃত গাড়িগুলো ফেরত দিয়ে, প্রয়োজনীয় সময় দিলে তারা দ্রুত কাগজপত্র হালনাগাদ করবেন।
এ বিষয়ে ট্রাফিক বিভাগের ইনচার্জ মীর আনোয়ার হোসেন বলেন, “আগে কী হয়েছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। বর্তমান সময়ে সিএনজি মালিক-শ্রমিক সংগঠনের যেসব অভিযোগ, সেগুলো ভিত্তিহীন। আমরা নিয়ম অনুযায়ী কাজ করছি।”
Leave a Reply