ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় ‘নাইন ব্রিজ’ প্রকল্পের কাজ চলছে ধীরগতিতে। প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও অধিকাংশ সেতুর নির্মাণকাজে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। কাজ শেষ হওয়ার আগেই অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা কাজের ধীরগতির বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
হাওরবেষ্টিত এ উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের ৩৪টি গ্রামকে জেলা সদর ও পাশের কিশোরগঞ্জ জেলার সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগে যুক্ত করতে ‘নাইন ব্রিজ’ নামে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। একনেকে অনুমোদিত এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ১০৪ কোটি টাকা। নাসিরপুর, ভলাকুট, খাখালিয়া, দুর্গাপুর, চাতলপাড়, চকবাজার, ইসাপুর, গুজিয়াখাই ও কান্দার খালসহ বিভিন্ন নদ-নদীর ওপর নয়টি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এর মধ্যে আটটি সেতুর কাজ পায় হাসান এন্টারপ্রাইজ এবং একটি সেতুর কাজ পায় মোস্তফা এন্টারপ্রাইজ। মোস্তফা এন্টারপ্রাইজের অধীনে খাগালিয়া নদীর ওপর নির্মিত ৩ নম্বর সেতুর কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। তবে বাকি আটটি সেতুর কাজে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই।
প্রথম পর্যায়ে ২০২১ সালে দুটি সেতুর কাজ শুরু হয়, যা ২০২৩ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল। দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০২২ সালে তিনটি সেতুর কাজ শুরু হয়ে ২০২৩ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল। আর ২০২৩ সালে শুরু হওয়া বাকি চারটি সেতুর কাজ চলতি বছরের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। বর্তমানে প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ দুই বছর বাড়ানো হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের ধীরগতির পাশাপাশি নির্মাণের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কাজ সম্পন্ন না করেই অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ তুলে দ্রুত তদন্ত ও সেতুগুলোর নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে হাসান এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদার খাইরুল হাসান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি।
এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইব্রাহীম খলীল ধীরগতির বিষয়টি স্বীকার করে জানান, ২০২৭ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।
অন্যদিকে এম এ হান্নান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের সংসদ সদস্য, বলেন—সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এবং নাইন ব্রিজ প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে সুসম্পন্ন করবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন এলাকাবাসী।
Leave a Reply