1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
বিদেশে পাঠানোর নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগে নারী রিমান্ডে - দৈনিক আমার সময়

বিদেশে পাঠানোর নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগে নারী রিমান্ডে

নিজেস্ব প্রতিবেদক
    প্রকাশিত : বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

জাল ভিসা ধরিয়ে দেওয়া ও বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগে পল্টন থানার মামলায় ‘প্রতারক’ চক্রের মূল হোতা জোসনা খাতুন ওরফে জোসনা সুলতানার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালত এ আদেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার আসামিকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক মীর মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত প্রসিকিউটর শামসুদ্দোহা সুমন। এদিন আসামি পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিল না। আসামির উদ্দেশ্য বিচারক বলেন, কিছু বলতে চান? জোসনা বলেন, আমরা গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্ডার পেয়ে আরেকটা কোম্পানির মাধ্যমে কাজ করাই। যার মাধ্যমে কাজ করেছি, সে আমার ৪৪ লাখ টাকা না দিয়ে পালিয়ে গেছে। সে জাল ভিসা দিয়েছে। আমি বাদীকে বলেছি, কিছু সময় দেন। আপনার টাকা পরিশোধ করবো। কিন্তু তিনি মামলা করে বসলেন। সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, তারা একটা বড় প্রতারক চক্র। দীর্ঘ দিন ধরে এ কাজ করছে। পরে আদালত একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ঢাকা মেট্রো পূর্ব বিভাগের একটি দল গতকাল বুধবার রাতে রাজধানীর কাফরুল থানার ইব্রাহিমপুর এলাকা থেকে জোসনাকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। সে নড়াইলের দলজিৎপুর গ্রামের বাসিন্দা। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, এই মামলার ঘটনার সঙ্গে আসামি সরাসরি জড়িত। আসামি বিদেশে লোক পাঠানো ছাড়াও সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে লোক পদায়নের লোভ দেখিয়ে টাকার বিনিময়ে প্রতারণার কথা স্বীকার করেছে। আসামির ঢাকাতে কোনো স্থায়ী ঠিকানা নাই, সে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন এলাকাতে বাসা ভাড়া নিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে। পরে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। ভাসমান হিসেবে চলাফেরা করে। তার একাধিক ঠিকানা পাওয়া যাচ্ছে এবং তার নাম-ঠিকানা যাচাই-বাছাই চলছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড চাচ্ছি। মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, জোসনা প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য। সেসহ মামলার এজাহারনামীয় আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে একে অপরের সহযোজিতায় নিজেদের বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি হিসেবে প্রকাশ করে। একইসঙ্গে আসামিরা বিভিন্ন জেলার সাধারণ মানুষকে বৈধ ভিসা দিয়ে ইউরোপের যেকোনো দেশে পাঠাতে পারবে বলে প্রচার করতো। অভিযোগে আরও বলা হয়, মামলার বাদীর ছেলে সাইফুল ইসলামকে ইতালি পাঠানোর জন্য ২০ লাখ টাকা দাবি করে জোসনাসহ তার সহযোগীরা। আসামিদের বিভিন্ন প্ররোচনায় বাদী তার ছেলেকে ইতালি পাঠাতে রাজি হয় এবং গত ৯ মার্চ তাদের অফিসে যায়। সেখানে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে বাদী নগদ ৫ লাখ টাকা এবং ২ হাজার ১০০ ইউরো জোসনাকে দেয়। বাকি টাকা সাইফুল ইসলামকে ইতালি পাঠানোর পর পাবে বলে মৌখিক অঙ্গীকার করে। সাইফুল ইসলামকে ইতালির একটি ভিসার স্টিকার সরবরাহ করে তারা। পরে তাদের কথামতো ও তাদের দেওয়া বিমানের টিকিট নিয়ে সাইফুল ইসলাম গত ২২ এপ্রিল ইতালি যাওয়ার জন্য হযরত আন্তর্জাতিক শাহজালাল বিমান বন্দরে গিয়ে বোডিং পাস নিয়ে ইমিগ্রেশনে যায়। এ সময় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা জানান, ভিসাটি জাল। পরে আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন ভুক্তভোগী। কিছুদিন পর বাদী যোগাযোগ করে টাকা ফেরত চাইলে চক্রের সদস্যরা নানা তালবাহানা করতে থাকে। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার মামলাটি দায়ের করে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com