চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানার ময়দারমীল এলাকায় সন্ত্রাসীদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছে ১২ বছর বয়সী এক শিশু। আহত ফাহিম বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
শনিবার রাতের এই সংঘর্ষে ফাহিম পথচারী হিসেবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকায় গুলির শিকার হয়। সে ময়দারমীল পশ্চিম পাড়া এলাকার মো. কালামের ছেলে। পরিবারের দাবি, কোনো ধরনের সংঘর্ষে জড়িত না থেকেও সন্ত্রাসীদের দ্বন্দ্বের বলি হয়েছে তাদের সন্তান।
ফাহিমের মা জোসনা জানান, আমার ছেলে বাইরে ছিল, হঠাৎ গুলির মধ্যে পড়ে যায়। আমরা চাই এমন ঘটনা আর না ঘটুক।
চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের এক চিকিৎসক জানান, শিশুটির হাঁটুর অংশে গুলির আঘাত লেগেছে। তার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল থাকলেও অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী মোরশেদ খানের অনুসারীদের সঙ্গে প্রতিপক্ষ আব্দুস সোবাহান ও শওকত গ্রুপের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় ছররা গুলি ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। তবে প্রতিপক্ষের কেউ গুরুতর আহত না হলেও সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এ ঘটনায় ফাহিম ছাড়াও মো. হাসান, জসিম ও ইসমাইল মিয়াসহ আরও কয়েকজন আহত হন।
বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ আরও জানায়, তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী মোরশেদ খান দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার পর ২০২৪ সালের আগস্টের পর এলাকায় ফিরে আসে। তার ফেরাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিরোধ চরমে ওঠে। এরই জেরে শনিবারের এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে ফারুক হোসেন নামে এক ব্যক্তির বাসা থেকে একটি শর্টগান ও দুটি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযানের খবর পেয়ে তিনি পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ বিষয়ে নগর পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূইয়া বলেন, এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েকদিন ধরেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। তারা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির কয়েকজন স্থানীয় নেতা বলেন, দলের নাম ব্যবহার করে কেউ অপকর্ম করলে তার দায় দল নেবে না। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দল ও প্রশাসন উভয়ই কঠোর অবস্থান নেবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
Leave a Reply