চট্টগ্রাম নগরীর বন্দর থানাধীন পশ্চিম গোসাইলডাঙ্গা এলাকায় দীর্ঘদিনের পারিবারিক জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে এক চাকরিজীবীর ওপর হামলা, মারধর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নারীসহ চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী মোঃ আলাউদ্দিন (৩১) বন্দর থানায় দায়ের করা এক এজাহারে অভিযোগ করেন, গত ৮ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখ রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে বন্দর থানাধীন ০৩নং ফকিরহাট, পশ্চিম গোসাইলডাঙ্গা এলাকায় তার মায়ের বসতঘরের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা হলেন— মোঃ তানভীর (২৬), মোঃ তারেক হোসেন (২৭) ও মোঃ জাহেদ (৩০)সহ আরও ২/৩ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি। অভিযুক্তদের সঙ্গে বাদীর দীর্ঘদিন ধরে মৌরশী সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ সংক্রান্ত বিষয়ে এর আগে বন্দর থানায় বিজ্ঞ আদালতে মিছ মামলা নং-১৩৬৩/২৫ (ধারা-১৪৫ ফৌজদারি কার্যবিধি) দায়ের হলে আদালত উক্ত জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেন।
অভিযোগে বলা হয়, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে অভিযুক্তরা বিরোধীয় জমিতে নির্মাণকাজ শুরু করলে ৭ জানুয়ারি পুলিশ হস্তক্ষেপ করে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায়। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরদিনই অভিযুক্তরা প্রতিশোধমূলকভাবে বাদীর বাড়িতে হামলা চালায়।
এজাহার অনুযায়ী, অভিযুক্তরা লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে বেআইনিভাবে বাদীর বসতঘরে অনধিকার প্রবেশ করে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে বাদীর নাক কেটে রক্তাক্ত জখম, হাত ও চোখে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার মা রানু বেগম (৪৫), খালা ফরিদা ইয়াছমিন (৪৮) ও খালাতো বোন রূপা আক্তার (২৫)কেও মারধর করা হয়।
হামলার একপর্যায়ে অভিযুক্তরা বাদীর পকেট থেকে নগদ ৩ হাজার ১২০ টাকা এবং তার মায়ের গলায় থাকা প্রায় এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন (মূল্য আনুমানিক ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা) ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়দের চিৎকারে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। আহতরা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেন। চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র এজাহারের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বাদী মোঃ আলাউদ্দিন বন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি এ জমি সংক্রান্ত ঘটনায় সর্বশেষ ঘটনার আগেও বেশ কয়েকবার বিজ্ঞ আদালত থেকে কাজ বন্ধের নিষেধাজ্ঞা আনা হলেও অভিযুক্তগন বিজ্ঞ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জোরপূর্বক কাজ চলমান রাখে এবং একইভাবে ভুক্তভোগী পরিবার বাধা সৃষ্টি করলে হামলার শিকার হন। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি বর্তমানে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাই আইনের সর্বোচ্চ যাচাই-বাছাই পূর্বক সহযোগিতা কামনা করছি।
Leave a Reply