ফেনীর দাগনভূঁঞায় ভরণপোষণের খরচ থেকে বাঁচার জন্য শিশুকন্যাকে পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করেছেন টিপু মিয়া (৩৭) নামে এক ব্যক্তি। এমনকি পরিকল্পিত এ হত্যাকা-কে আত্মহত্যা বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টাও কম করেনি তিনি।
শিশুটির মা ও নানার সন্দেহের ওপর ভিত্তি করে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এলো হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর রহস্য। রোববার সকালে উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের জয়নারায়ণপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে টিপু মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
জানা যায়, প্রায় সাড়ে আট বছর আগে টিপু মিয়া ও রোমানা আক্তারের (২৫) বিয়েবিচ্ছেদ হয়। তখন মায়ের সঙ্গে নানা বাড়িতে চলে যায় তাদের একমাত্র সন্তান জান্নাতুল আরিফা আক্তার। এরপরও মাঝেমধ্যে সে নানা বাড়ি থেকে দাদা বাড়িতে বেড়াতে যেত। এর মধ্যে দেনমোহর, খোরপোষ ও মেয়ে আরিফার ভরণপোষণ পরিশোধ করা নিয়ে স্ত্রী রোমানার সঙ্গে সালিশ দরবার ও মামলায় জড়ান টিপু মিয়া। পরে টিপু মিয়া, আমেনা আক্তার (২৭) নামে আরেকজনকে বিয়ে করলে তার ঘরে আরও দুটি সন্তান জন্মগ্রহণ করে। একদিকে দ্বিতীয় স্ত্রীর সংসার পরিচালনা করা, আবার অন্যদিকে প্রথম স্ত্রীর ঘরে জন্ম নেওয়া আরিফার ভরণপোষণ; সব মিলিয়ে বাড়তি খরচের চিন্তা পেয়ে বসে তাকে। এ পরিস্থিতিতে মেয়েকে আরিফার ভরণপোষণের দায় থেকে মুক্তি পেতেই হত্যার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন টিপু মিয়া। এরই প্রেক্ষিতে গত ১৩ জুন নানা বাড়ি থেকে আরিফাকে নিয়ে আসার জন্য বারবার কল দিলে নানা অলি আহম্মদ ১৮ জুন টিপু মিয়ার বাড়িতে তাকে দিয়ে আসেন।
একইদিন বেলা ৩টার দিকে বাড়ির পাশে পদুয়া পুকুরে মেয়েকে গোসল করাতে নিয়ে পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করেন বলে জানান দাগনভূঁঞা থানার ওসি হাসান ইমাম ।
Leave a Reply