1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
ধামরাইয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বিক্রির অভিযোগ - দৈনিক আমার সময়

ধামরাইয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বিক্রির অভিযোগ

মোঃ আব্দুল আহাদ বাবু, ঢাকা জেলা উত্তর প্রতিনিধি 
    প্রকাশিত : শুক্রবার, ১৪ জুলাই, ২০২৩
ঢাকার ধামরাইয়ে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর ঘর বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২৫-৮০হাজার টাকায়। কেউ কেউ ঘর বুঝে পেলেও প্রায় এক বছর ধরে অপেক্ষায় আছে আরও কয়েকজন ক্রেতা। এমনই এক চক্রের বিরুদ্ধে পাওয়া গেছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বিক্রির অভিযোগ। এছাড়া বরাদ্দ প্রাপ্ত ব্যক্তিদের দলিল কৌশলে হাতিয়ে নিয়ে অন্য পরিবারের কাছে বিক্রির অভিযোগও আছে এই চক্রটির বিরুদ্ধে।
ধামরাই উপজেলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় নিমার্ণ কার হয়েছে ৬০০টি ঘর। যেগুলো এতোমধ্যে ভূমিহীন ও ঘরহীনদের মানুষের মাঝে বরাদ্দ করা হয়েছে। নিমার্ণের কাজ চলছে আরো ১৮০টি ঘরের। প্রতিটি ঘর নির্মাণে খরচ হচ্ছে প্রায় ২লাখ ৮৪হাজার টাকা। এর মধ্যে উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়নে ৪২টি ঘর নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। এতোপূর্বে ওই ইউনিয়নে ৭৮টি ঘর সুবিধাভোগীদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের তথ্য অনুসারে, প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর সোমভাগ ইউনিয়নের ঘর কয়েকমাস পূর্বে উদ্বোধন হয়। সেখানে টাকার বিনিময়ে ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন কিছু পরিবার। এছাড়া আরও কয়েকটি পরিবারকে ঘর দেওয়ার কথা বলে চক্রটি হাতিয়ে নিয়েছে কয়েক লাখ টাকা।
স্থানীয়রা আরো জানায়, এলাকার বালু ব্যবসায়ী দুলাল চক্রটির অন্যতম সদস্য সোহেলের মাধ্যমে  ঘর প্রতি ২৫-৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছে। এছাড়া ঘর পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে এক বছর আগে অগ্রিম টাকা নিয়েছে তারা। সম্প্রতি প্রকল্পের ১০৭নং ঘরটি অন্য একটি পরিবারের কাছে ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয় এই চক্রটি।
অভিযুক্তরা হলেন, ধামরাই উপজেলার সোমবাগ ইউনিয়ের দেপসাই গ্রামের আলতাফ ফকিরের ছেলে সোহেল রানা ও একই এলাকার মৃত আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে দুলাল মিয়া ওরফে ড্রেজার দুলাল।
আশ্রয়ণ প্রকল্পে থাকা শরিফ (ছদ্ম নাম)  নামের এক ব্যক্তি জানান, ২৫হাজার টাকার বিনিময়ে কয়েকদিন আগে একটি ঘর বুঝে পান তিনি। পরবর্তীতে টাকার বিনিময়ে বরাদ্দ প্রাপ্ত ১০৩নং ঘরটি খালি করার দায়িত্ব দেয় স্থানীয় দুলাল ও সোহেল। চুক্তি অনুযায়ি ১০৩নং এর চাবি দুলালের কাছে বুঝিয়ে দেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বৃদ্ধা জানান, গত এক বছর আগে স্থানীয় দুলালের কাছে ঘর বরাদ্দের জন্য সহযোগিতা চায়। পরে তার কথা অনুযায়ি ৪০ হাজার টাকা বুঝিয়ে দিলেও ঘর বরাদ্দ পাননি এখনও। পরে টাকা ফেরত চাইলে উপজেলায় ঝামেলার কথা বলে চুপ থাকতে বলে।
একই অভিযোগ করেছেন আতা নামের আরও এক ব্যক্তি। তার দাবী গত দুই বছর আগে ঘর বরাদ্দের কথা বলে ৩০ হাজার টাকা অগ্রিম নিয়েছে সোহেল। তবে তার জন্য নির্ধারিত ঘর অন্য এক ব্যক্তির কাছে কাছে বিক্রি করে দেয়। মামলা ও হামলার ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চায় না।
স্বপন নামের আরও এক ভুক্তভোগী জানান, স্থানীয় সোহেল একটি কক্ষ ভাড়া কথা বলে দলিল নিয়ে যায়। পরে এক নারীর কাছে বিক্রি করে তাদেরকে ঘর থেকে বের করে দেয়। জানা যায় ঘরটি ৪০হাজার টাকায় বিক্রি করেছে।
অভিযোগের বিষয়ে সোহেলের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, স্থানীয় কয়েকজন তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। সে এই বিষয়ে কিছুই জানেনা।
বালু ব্যবসায়ী দুলালের সাথে তার কি সর্ম্পক জানতে চাইলে সোহেল আরও বলেন, সে এমপি সাহেবের ভাতিজা, তার কাছে মাঝে মাঝে বিভিন্ন কাজের জন্য যাওয়া হয় এ ছাড়া কিছুই না। সে কোটি কোটি টাকা আয় করে। সে কেন অল্প টাকা নিতে যাবে।
টাকা নিয়ে ঘর বিক্রির বিষয়টিকে পুরোপুরি মিথ্যে দাবী করে দুলাল দৈনিক আমার সময়কে বলেন, “আমি সরকারি প্রকল্পে বালু ও মাটি বরাট করি। সোমভাগেও আমি মাটি ফালাইছি টাকা পায়ছি কাজ শেষ। আমি কাউরে ঘর বিক্রি করি নাই। ”
ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকী বলেন, আমরা কয়েকটি ঘর বিক্রয়ের কথা জানতে পেরেছি। এতোমধ্যে কয়েকটি ঘর উদ্ধার করা হয়েছে। প্রকৃত মালিক যদি অসহায় হয় তাদেরকে হস্তান্তর করা হবে।
তিনি আরও বলেন, মালিকানা পরিবর্তন শুধু মাত্র উত্তরাধিকারীস সূত্রে পাবে বা কেউ মারা গেলে তার পরিবর্তে যাচাই বাছাই করে অসহায় ভূমিহীনদের কে দেওয়া হবে। এখানে বিক্রির কোন সুযোগ নেই। তারপর কিছু জায়গাতে এমন ঘটনা শুনেছি সেখানে যাচাই বাছাই চলছে। এর সাথে যারা জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com