বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গারা তাদের জন্মভূমি মিয়ানমারে ফিরে যেতে চায়। তবে তাদের মৌলিক অধিকার, মর্যাদা ও জবাবদিহিতার নিশ্চয়তার সহযোগিতার শর্ত জুড়ে দিয়েছে সফররত মার্কিন প্রতিনিধি দলের কাছে। গতকাল বুধবার রোহিঙ্গাদের পক্ষে ‘আরকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস’র (এআরএসপিএইচআর) চেয়ারম্যান মুহাম্মদ জুবায়ের স্বাক্ষরিত একটি চিঠিটি গ্রহণ করেছেন সফররত মার্কিন প্রতিনিধি দল।
চিঠিতে বলা হয়, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের আদিবাসী জাতি। বর্তমানে, আমরা মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় ক্যাম্পে অবস্থান করছি। আমাদের নিজস্ব জন্মভূমি থাকলেও নিজ দেশীয় সরকারের নির্যাতিত হয়ে বাংলাদেশের আশ্রয়ে আছি।আমাদের পূর্বপুরুষ এবং অন্যান্য জাতিগোষ্ঠী যৌথভাবে মিয়ানমারের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছি।
১৯৪৭ সালের ১ অক্টোবর লন্ডনে গাওয়া বা লেখা নু-অ্যাটলি চুক্তির আর্টিকেল নম্বর-৩ অনুসারে, আমরা রাষ্ট্রহীন নই। অথচ মিয়ানমার সরকার এখনো অস্বীকার করছে যে, আমরা মিয়ানমারের জাতি নই। তারা সংসদের রেজিস্টার থেকে আমাদের জাতীয়তা বাতিল করেছে। মিয়ানমার সরকার ও কিছু বৌদ্ধ রাজনীতিবিদ একতরফা খেলা খেলছে। বিশ্ব নীরব থেকে আমাদের কষ্টের সেই খেলা দেখছে গভীর উদ্বেগের বলে চিটিতে জানানো হয়।
রোহিঙ্গাদের আশা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের পাশে থাকবে এবং রোহিঙ্গাদের অস্তিত্ব রক্ষায় ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ থেকে নিরাপত্তা, মর্যাদা ও জবাবদিহিতা, মানবাধিকার নিয়ে রোহিঙ্গারা তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে ফিরে যেতে চায়। এ লক্ষে মিয়ানমারের সামরিক পরিষদের পাশাপাশি ন্যাশনাল ইউনিয়ন গর্ভমেন্ট-এর ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির জন্য অনুরোধ করেছে রোহিঙ্গারা।
এআরএসপিএইচআর চেয়ারম্যান জুবায়ের জানান, ক্যাম্পে সফররত মার্কিন প্রতিনিধি দলের কাছে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে একটা চিঠি দিয়েছি। চিঠিটি আন্ডার সেক্রেটারি উজরা জারার পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি উজরা জারা প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে আছেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু ও যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা USAid এর এশিয়া দপ্তরের উপসহকারী প্রশাসক অঞ্জলী কৌর।
প্রতিনিধিদল গতকাল বুধবার সকাল ১০টা ৪৫ এ ক্যাম্প- ৯ এ ইউএনএইচসিআর এর রেজিস্ট্রেশন সেন্টার পরিদর্শন করেন। সেখানে তাঁরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার চলমান কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এরপর প্রতিনিধিদশ ক্যাম্প-১১ ও ক্যাম্প -১৮ তে বিভিন্ন সংস্থা ও রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতা, ইমাম, যুবকদের সাথে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন, প্রত্যাবাসন সহ নানা বিষয়ে মতবিনিময় করে।
Leave a Reply