মাড়ি ফুলে যাওয়ার প্রধান কারণ জিঞ্জিভাইটিস। এতে মাড়ির উপরিভাগের অংশ ফুলে যায়। পাশাপাশি হতে পারে পেরিওডোন্টাইটিস। এ ক্ষেত্রে মাড়ির ভেতরের টিস্যুতে প্রদাহ সৃষ্টি হয়।
এ দুটি ছাড়াও মাড়ি ফুলে যাওয়া ও ব্যথার অন্যান্য কারণও রয়েছে।
উপসর্গ
মাড়ি ফোলার সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—
► লাল বা কালচে মাড়ি : সুস্থ মাড়ি সাধারণত গোলাপি হয়; রঙের পরিবর্তন প্রদাহের ইঙ্গিত দিতে পারে
► অতিসংবেদনশীলতা বা ব্যথা : বিশেষ করে ব্রাশ করার সময়, ফ্লস করার সময়, অথবা খাওয়ার সময়
► মাড়ি ফুলে বর্ধিত হওয়া : দাঁতের পৃষ্ঠের বেশি অংশ ঢেকে ফেলতে পারে
► রক্তক্ষরণ : বিশেষ করে ব্রাশিং বা ফ্লসিংয়ের সময়
► দুর্গন্ধ : প্রদাহ থেকে ব্যাকটেরিয়া জমা হওয়ার কারণে
► পিছিয়ে যাওয়া মাড়ি : দাঁত থেকে মাড়ি টেনে বের করে আনা
► দাঁত নড়ে যাওয়া : দাঁতের সহায়ক কাঠামো দুর্বল হয়ে যাওয়া
► দাঁত ও মাড়ির মধ্যে পুঁজ : সংক্রমণ নির্দেশ করে
► মুখে ধাতব স্বাদ : সংক্রমণ বা রক্তপাতের সঙ্গে থাকতে পারে
► চিবানোর সময় অস্বস্তি : ফোলা ভাবের কারণে খেতে ব্যথা হয়।
কারণ
► দাঁতের স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলা। খাবারের অবশিষ্টাংশ সঠিকভাবে পরিষ্কার না করলে ফোলা ভাব হতে পারে।
► ডেন্টাল প্লাকের কারণে পেরিওডন্টাল রোগ হতে পারে।
► এ ছাড়া শারীরিক অন্যান্য রোগ ও হরমোনের কারণে মাড়ি ফুলে যেতে পারে।
চিকিৎসা
► সর্বোত্তম চিকিৎসা হলো পরিষ্কারকরণ তথা স্কেলিং ও রুট প্ল্যানিংয়ের মতো পদ্ধতির মাধ্যমে দাঁত ও মাড়ি থেকে প্লাক ও টার্টার অপসারণ
► জটিল ক্ষেত্রে পেরিওডন্টাল চিকিৎসা অব্যাহত রাখার প্রয়োজন হতে পারে।
প্রতিরোধ
► প্রতিদিন দুইবার ব্রাশ এবং একবার ফ্লস করুন।
► ভিটামিন বি, সি, ফলিক এসিড ও ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকা বজায় রাখুন।
► খাবারের পর প্রচুর পানি পান করুন।
► মানসিক চাপ কমান এবং ভালো ঘুম নিশ্চিত করুন।
► নিয়মিত দাঁতের চেকআপ করান।
ঘরোয়া প্রতিকার
► লবণ-পানি মাড়িকে প্রশমিত করে এবং নিরাময় করে।
১ চা চামচ লবণ ৮ আউন্স হালকা গরম পানির সঙ্গে মিশিয়ে ৩০ সেকেন্ড ধরে দিনে দুই থেকে তিনবার কুলকুচি করুন। এতে মাড়ির প্রদাহ ও ব্যথা অনেকটাই কমে যাবে।
► গরম ও ঠাণ্ডা কম্প্রেস ব্যথা ও ফোলা ভাব দূর করে। মুখের বাইরে ৫ মিনিটের জন্য একটি উষ্ণ কম্প্রেস প্রয়োগ করুন, তারপর ৫ মিনিটের জন্য একটি ঠাণ্ডা কম্প্রেস প্রয়োগ করুন। দিনে দুই থেকে তিনবার একই পদ্ধতির পুনরাবৃত্তি করুন।
লেখক : মাড়ির রোগ বিশেষজ্ঞ
Leave a Reply