বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জন্মলগ্ন থেকেই প্রবীণ-নবীনের সমন্বয়ে পরিচালিত হয়ে আসছে। তরুণদের শক্তিমত্তাকে প্রাধান্য দিতে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।
বিশেষ করে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য দৌহিত্র, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইসিটি বিষয়ক অবৈতনিক উপদেষ্টা, সজীব ওয়াজেদ জয় এর নেতৃত্বে বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে এখন স্মার্ট বাংলাদেশের পথে হাটছে।
তরুণদের জন্য বিশাল কর্মযজ্ঞের প্লাটফর্ম তৈরি করে দিয়েছেন সজীব ওয়াজেদ জয়।
আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে তরুণদের আগের চাইতে বেশি আগ্রহী দেখা যাচ্ছে। উপ-মহাদেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের টিকেট পেতে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ’র প্রধান কার্যালয় গত ১৮ অক্টোবর থেকে নেতাকর্মীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে। হাজার হাজার নেতাকর্মীদের মিছিল আর স্লোগানে মুখর বঙ্গবন্ধু এভিনিউ ও আশপাশের এলাকা।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সাবেক উপ-তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক
সহ-সভাপতি ও মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কৃষি ও সমবায় উপ-কমিটির সদস্য শেখ শওকতুজ্জামান সৈকত মাগুরা-২ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী। মহম্মদপুর, শালিখা ও মাগুরা সদর উপজেলার চার ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত মাগুরা-২ আসন ( জাতীয় সংসদীয় আসন ৯২)।
শেখ শওকতুজ্জামান সৈকত আওয়ামী লীগের প্রধান কার্যালয় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ থেকে দুপুর একটা ১৫ মিনিটে দলীয় মনোনয়ন ফরম ক্রয় করেন। তিনি মনে করেন তরুণদের কাছে তার জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। আপামর সাধারণ মানুষের প্রিয় মুখ তিনি।
ছাত্রজীবন থেকেই শওকতুজ্জামান সৈকত নিজের এলাকার মানুষের সুখে- দুঃখে নিজের সাধ্যমত দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি মনে করেন সংসদ সদস্য হিসেবে আরও অনেক বেশি সুযোগ পাওয়া যায় মানুষের সেবা করার জন্য। এই কারণে তিনি মনোনয়ন ফরম ক্রয় করেছেন এবং নমিনেশন পেলে তার মনের ইচ্ছামত সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভাব হবে।
তিনি মনোনয়নের ব্যাপারে অনেকটাই আশাবাদী। কিন্তু তিনি যদি নমিনেশন নাও পান তাহলেও যিনি নৌকা প্রতীক পাবেন তার পক্ষে তিনি কাজ করবেন বলে ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
জাতি রাষ্ট্রের মহান স্রষ্টা, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিজ হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি তিনি প্রতিষ্ঠা করেন উপ-মহাদেশের প্রাচীন ও বৃহত্তম ছাত্রসংগঠন ‘ ছাত্রলীগ।
তার ঠিক এক বছরের মাথায় অর্থাৎ ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠিত হয় আওয়ামী মুসলিম লীগ। তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান জেলে থাকাবস্হায় আওয়ামী মুসলিম লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরেই অসাম্প্রদায়িক দল হিসেবে মুসলিম শব্দ বাদ দিয়ে প্রতিষ্ঠা লাভ করে আওয়ামী লীগ হিসেবে।
এদেশের মাটি ও মানুষের দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের হাত ধরেই বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গড়ে তোলেন স্বল্পোন্নত দেশে। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সবকিছু থমকে দাঁড়ায়। জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে পাকিস্তানের ভাবধারায় ফিরিয়ে নিয়ে যায় খুনিরা।
দীর্ঘ একুশ বছর স্বাধীনতাবিরোধীচক্রদের হাতে থাকে দেশ। গণতন্ত্র, মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার বিপন্ন করে তারা দেশকে অন্ধকারে নিমজ্জিত করে ফেলে।
খুনি জিয়াউর রহমানের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে দীর্ঘ ছয় বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন। তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ আবার আশায় বুক বাঁধে। এর পূর্বেই তাঁকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।
বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটে সরকার গঠন করে এবং দেশকে মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের ধারায় পরিচালিত করে। বাংলাদেশ দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছিলো ঠিক সেই মুহূর্তেই আবার হানা দেয় পুরোনো শকুন জামাত-বিএনপি ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতার বাহিরে বাংলাদেশও গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও শান্তির বাহিরে দুল্যমান অবস্হায় কোনো রকম চলতে থাকে। কিন্তু ত্রিশ লক্ষ মানুষের তাজা রক্ত ও আড়াই লাখ মা বোনের সম্ভ্রম লুণ্ঠন বৃথা যেতে পারেনা।
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আন্দোলন সংগ্রামে বাংলাদেশের আপামর সাধারণ জনগণ অংশগ্রহণ করে এবং বিএনপি-জামাত বাধ্য হয় ক্ষমতা ছাড়তে।
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ভূমিধ্বস বিজয় লাভ করে এবং সরকার গঠন করা হয়।
বাংলাদেশ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অদম্য গতিতে এগিয়ে যায়। পাশাপাশি মানুষের জীবনমানের উন্নতি সাধন হয়। গণতন্ত্র, উন্নয়ন, শান্তির রোল মডেলে পরিণত হয় বাংলাদেশ, যা জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃত।
২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে বিজয় লাভ করে অর্থাৎ হ্যাট্রিক বিজয় লাভ করে আওয়ামী লীগ। একটানা আওয়ামী লীগ দেশের ক্ষমতায় থাকার কারণে বাংলাদেশ সমস্ত সূচকে অভাবনীয় সাফল্য বয়ে আনে। সৎ,যোগ্য, দেশপ্রেমিক নেতৃত্বগুণের অধিকারী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বের বাংলাদেশ সারা বিশ্বের বিস্ময়।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার বদৌলতে মানবতাবিরোধীদের বিচার, জাতির পিতার হত্যাকান্ডের বিচার, জাতীয় চার নেতাহত্যাকান্ডের বিচার সম্পূর্ণ হয়। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কলঙ্কমুক্ত হয়।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের মূল চ্যালেঞ্জ ছিল আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা,যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, জাতির পিতার হত্যাকান্ডের বিচার, জাতীয় চার নেতার হত্যাকান্ডের বিচার আর এ সব সবই সম্ভাব হয়েছে বাংলাদেশের মানুষের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতি বিশ্বাস ও ভরসার মধ্য দিয়ে।
পদ্মা সেতু, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, শতভাগ বিদ্যুৎ, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সাবমেরিন, নদীর তলদেশ দিয়ে বঙ্গবন্ধু টানেল, দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম চৌদ্দ লেনের সড়ক, পাতাল রেল, মেট্রোরেল, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ট টারমিনাল নির্মাণ, পৃথিবী দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের বুকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে নির্মাণ ইত্যাদি। দেশের সড়ক ও নৌপথের অভাবনীয় উন্নয়ন সাধিত হয়েছে।
শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বের বাংলাদেশ জাতির পিতার দেখানো পথে অদম্য গতিতে উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলছ। সাবাস বাংলাদেশ সারা বিশ্ব অবাক তাকিয়ে রয়।
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আমেজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েগেছে। পুরো বাংলাদেশ নির্বাচনের আবহাওয়ায় জর্জরিত। আর তখনই আগুন সন্ত্রাসীরা আবার জ্বালাও পোড়াও শুরু করে দিয়েছে।
গত ২৮ অক্টোবর ২০২৩ সমাবেশের নামে বাংলাদেশকে পুড়িয়ে শেষ করতে চেয়েছিল স্বাধীনতাবিরোধীচক্র বিএনপি-জামাত। তাদের হাত থেকে প্রধান বিচারপতির বাসভবন, রাজারবাগ পুলিশ সেন্টাল হসপিটালও রক্ষা পায়নি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুইজন সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যা করে বিএনপি-জামাতের নেতাকর্মীরা। বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাসীদের হাতে অসংখ্য সদস্য গুরুতর আহত হয় এবং রাষ্ট্রের সম্পদ ব্যাপক ধ্বংস হয়।
সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতিসাধন করে এবং তাঁদের মৌলিক অধিকার হরণ করে বিএনপি-জামাত।
বাংলাদেশের মানুষ আর এই ধ্বংসযজ্ঞ দেখতে চায় না। বাংলাদেশের মানুষ উন্নয়ন ও শান্তির পক্ষে। বাংলাদেশের মানুষ নির্ভয় রাস্তাঘাটে চলাচল করতে চায়। দেশের মানুষ ভোটদানের অপেক্ষায় রয়েছে।
বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে অবস্হান নিয়েছে। সুতরাং গণতন্ত্রের শত্রুদের বিরুদ্ধে এখনই রুঁখে দাঁড়ানোর সময়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশ এগিয়ে যায় আর বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় থাকলে দেশ পিছিয়ে যায়। আওয়ামী লীগ দেশ গড়ে আর বিএনপি-জামাত দেশ ধ্বংস করে। তরুণ প্রজন্মের ভোট নৌকায় হোক, তরুণদের জয় হোক।
Leave a Reply